উচ্চমাধ্যমিক 2027 রাষ্ট্রবিজ্ঞান | HS 2027 Political Science (Semester 4)
নতুন সিলেবাস অনুসারে প্রতিটি অধ্যায়ের সম্পূর্ণ সমাধান ও নির্ভুল নোটস- সমস্ত প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর সংকলন।
- উচ্চমাধ্যমিক 2027 পলিটিক্যাল সাইন্স এর জন্য বিশেষ প্রশ্ন উত্তর।
- অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর + 100 মাস্টার প্রশ্নোত্তর + মডেল প্রশ্নপত্র
- দুর্দান্ত নাম্বার তোলার জন্য, প্রশ্ন উত্তর।
- Instant ডাউনলোড পেমেন্টের পরেই Google Drive PDF Open।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান সেমিস্টার-৪: ২৫টি বাছাই করা মাস্টার প্রশ্নোত্তর
উত্তর: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পর ১৯১৯ সালে ব্রিটেনের ওয়েলসের অ্যাবারিস্টউইথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Wales, Aberystwyth) বিশ্বের প্রথম আন্তর্জাতিক রাজনীতির অধ্যাপনাকেন্দ্র 'উড্রো উইলসন চেয়ার' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই বিষয়ের আনুষ্ঠানিক প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। এর প্রথম অধ্যাপক ছিলেন আলফ্রেড জিমার্ন।
উত্তর: নব্য-বাস্তববাদ বা কাঠামোগত বাস্তববাদের প্রধান প্রবক্তা হলেন মার্কিন আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক কেনেথ ওয়াল্টজ (Kenneth Waltz)। তাঁর লেখা যুগান্তকারী বিখ্যাত বইটির নাম হলো 'Theory of International Politics' (১৯৭৯ সালে প্রকাশিত)।
উত্তর: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির জোট আসিয়ানের সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির বিশেষ শান্তিপূর্ণ কার্যপদ্ধতিকে 'আসিয়ান পথ' বলে। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো আনুষ্ঠানিক সামরিক জোটের বাইরে গিয়ে অনানুষ্ঠানিক, সর্বসম্মত ও শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা এবং সদস্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ না করা।
উত্তর: ১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত নেদারল্যান্ডসের মাস্ট্রিক্ট চুক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমেই সাবেক ইউরোপীয় অর্থনৈতিক গোষ্ঠী রূপান্তরিত হয়ে আজকের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং একক সাধারণ মুদ্রা 'ইউরো' (Euro) চালুর ভিত্তি রচিত হয়। চুক্তিটি কার্যকর হয় ১৯৯৩ সালের ১লা নভেম্বর।
উত্তর: ভারতে বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পি. ভি. নরসিমা রাও এবং অর্থমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং-এর নেতৃত্বে নয়া অর্থনৈতিক নীতি (NEP) ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয়। এর ভিত্তি ছিল LPG মডেল (উদারীকরণ, বেসরকারিকরণ ও বিশ্বায়ন)।
উত্তর: সমাজতাত্ত্বিক জর্জ রিটজার (George Ritzer)-এর মতে, বিশ্বায়নের ফলে পশ্চিমী ফাস্টফুড সংস্কৃতির কার্যপদ্ধতি (যেমন—দক্ষতা, পরিমাপযোগ্যতা ও নিয়ন্ত্রণ) সারা বিশ্বের মানুষের সামাজিক জীবন ও স্থানীয় সংস্কৃতির ওপর আধিপত্য বিস্তার করার প্রক্রিয়াকে ম্যাকডোনাল্ডাইজেশন বা সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ বলা হয়।
উত্তর: সংবিধানের ৬১ নম্বর ধারা অনুসারে সংবিধান ভঙ্গের অপরাধে সংসদের যেকোনো কক্ষে উত্থাপিত এবং উভয় কক্ষে মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হওয়া ইমপিচমেন্ট (Impeachment) প্রস্তাবের মাধ্যমে ভারতের রাষ্ট্রপতিকে অপসারিত করা যায়।
উত্তর: সংবিধানের ৭৮ নম্বর ধারায় প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে। এই ধারা অনুসারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার সমস্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নীতি এবং আইন প্রণয়নের প্রস্তাব রাষ্ট্রপতিকে নিয়মিত অবহিত রাখা প্রধানমন্ত্রীর বাধ্যতামূলক কর্তব্য।
উত্তর: সংবিধানের ১০০(১) ধারা অনুযায়ী লোকসভায় কোনো বিল বা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটিতে শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষের ভোট যদি সমান-সমান হয়ে যায় (Tie), তবে সেই অচলাবস্থা দূর করার জন্য স্পিকার যে একটি চূড়ান্ত ও নির্ণায়ক ভোট প্রদান করেন, তাকে কাস্টিং ভোট বলে।
উত্তর: ভারতে জনস্বার্থ মামলার (Public Interest Litigation) প্রধান পথপ্রদর্শক ও জনক বলা হয় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি পি. এন. ভগবতীকে (P. N. Bhagwati)।
উত্তর: ১৯৯৪ সালের পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত সংশোধনী আইন অনুযায়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিটি নির্বাচনী বুথের সমস্ত নথিভুক্ত ভোটারদের নিয়ে গঠিত সংবিধিবদ্ধ তৃণমূল সংস্থাকে গ্রাম সংসদ বলে। এটি প্রতি বছর মে মাসে (অর্ধবার্ষিক) এবং নভেম্বর মাসে (বার্ষিক) সাধারণ সভায় বসে পঞ্চায়েতের কাজের পর্যালোচনা করে।
উত্তর: কলকাতা পুরনিগমের নির্বাচিত কাউন্সিলরদের মধ্য থেকে একজন মেয়র, একজন ডেপুটি মেয়র এবং মেয়র কর্তৃক মনোনীত অনধিক ১০ জন কাউন্সিলরকে নিয়ে ক্যাবিনেট মন্ত্রিসভার আদলে মেয়র-ইন-কাউন্সিল গঠিত হয়।
উত্তর: সার্কের ব্যর্থতার প্রধান চারটি কারণ হলো—
১. ভারত ও পাকিস্তানের তীব্র দ্বন্দ্ব: সার্কের দুই প্রধান শক্তিধর দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ও কাশ্মীর সমস্যার কারণে সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক আস্থার চরম অভাব দেখা দিয়েছে।
২. দ্বিপাক্ষিক বিরোধ আলোচনায় নিষেধাজ্ঞা: সার্ক সনদের ১০ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোনো দ্বিপাক্ষিক ও বিতর্কিত বিষয় সার্কের বৈঠকে তোলা যায় না, যার ফলে মূল ভূখণ্ডগত সমস্যাগুলি অমীমাংসিতই থেকে যায়।
৩. ভারতের আকার নিয়ে ছোটদের ভয়: আয়তন, অর্থনীতি ও জনসংখ্যার দিক থেকে ভারত একাই এই অঞ্চলের সিংহভাগ অধিকার করে থাকায় ছোট দেশগুলি ভারতের কর্তৃত্বের ভয় পায় এবং চিনের প্রভাব বৃদ্ধি করে ভারসাম্য টানার চেষ্টা করে।
৪. সাফটার ব্যর্থতা: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও সংবেদনশীল তালিকা (Sensitive list) ও পারস্পরিক শুল্ক বাধার কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য মোট বাণিজ্যের মাত্র ৫ শতাংশের নিচে সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
উত্তর: ২০০৩ সালের বালি শীর্ষ সম্মেলনে আসিয়ানকে সুসংহত করতে ৩টি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে 'আসিয়ান কমিউনিটি' গঠিত হয়—
১. আসিয়ান নিরাপত্তা সম্প্রদায় (ASC): সামরিক যুদ্ধ প্রতিহত করে শান্তিপূর্ণ কূটনীতির মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সীমানা বিরোধ মীমাংসা করা ও সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখা এর লক্ষ্য।
২. আসিয়ান অর্থনৈতিক সম্প্রদায় (AEC): সদস্য দেশগুলির মধ্যে একটি একক সাধারণ বাজার (Single Market) ও মুক্ত উৎপাদন ক্ষেত্র গড়ে তুলে পণ্য, পরিষেবা ও পুঁজির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা।
৩. আসিয়ান আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্প্রদায় (ASCC): পরিবেশ সংরক্ষণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং একটি অভিন্ন আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক সংহতি গড়ে তোলা।
উত্তর: ভারতীয় গণতন্ত্রকে অর্থবহ করে তুলতে নাগরিক সমাজের ভূমিকা অপরিসীম—
১. সরকারের স্বৈরাচারী ক্ষমতার রাশ টানা: নাগরিক সমাজ সরকারের জনবিরোধী নীতি ও প্রশাসনিক দুর্নীতির ওপর নিরপেক্ষ পাহারাদারের (Watchdog) কাজ করে গণতন্ত্রকে রক্ষা করে।
২. প্রান্তিক মানুষের দাবি তুলে ধরা: দলীয় রাজনীতির অবহেলার শিকার আদিবাসী, দলিত ও বাস্তুহারা মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও অধিকারের দাবিকে এরা জাতীয় স্তরে তুলে ধরে (যেমন—নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন)।
৩. যুগান্তকারী আইন প্রণয়নে চাপ সৃষ্টি: নাগরিক আন্দোলনের ফলেই ভারত সরকার ২০০৫ সালে 'তথ্য জানার অধিকার আইন' (RTI) এবং ২০১৩ সালে 'লোকপাল আইন' প্রণয়নে বাধ্য হয়েছে।
৪. পরিবেশ ও মানবাধিকার সুরক্ষা: অবাধ অরণ্য নিধন ও নদীদূষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে দেশের বাস্তুতন্ত্র ও নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পথ দেখায়।
উত্তর: ১৯৮৫ সালে মেধা পাটেকরের নেতৃত্বে সর্দার সরোবর প্রকল্পের বিরুদ্ধে নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন শুরু হয়।
প্রধান লক্ষ্য: (ক) সর্দার সরোবর বৃহৎ নদীবাঁধ প্রকল্পের ফলে বাস্তুচ্যুত আড়াই লক্ষাধিক আদিবাসী ও কৃষকের জমি ও ক্ষতিপূরণসহ পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা; (খ) পরিবেশ ধ্বংসকারী মেগা বাঁধের বদলে পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র সেচ ও বিকল্প বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন।
প্রধান সাফল্য: (ক) আন্দোলনের তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ১৯৯৩ সালে বিশ্বব্যাংক স্বাধীন মোর্স কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে এই বাঁধের ঋণ প্রত্যাহার করে পিছু হটে; (খ) আন্দোলনের ফলে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে পুনর্বাসন ছাড়া কাউকে উচ্ছেদ করা যাবে না, যার ফলে ২০০৭ সালে ভারতে প্রথম 'জাতীয় পুনর্বাসন নীতি' প্রণীত হয়।
উত্তর: ১৯৭৩ সালে উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় শুরু হওয়া চিপকো আন্দোলন ভারতের পরিবেশ সুরক্ষার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক।
১. অরণ্যের ওপর স্থানীয় গ্রামীণ অধিকার প্রতিষ্ঠা: আন্দোলন প্রমাণ করেছিল যে বনভূমির মালিক বহিরাগত কাঠ ব্যবসায়ী নয়, বরং সেখানকার স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
২. পরিবেশ রক্ষায় নারী নেতৃত্ব: গৌরা দেবীর নেতৃত্বে গৃহবধূরা যেভাবে গাছ জড়িয়ে কাঠুরেদের বুক চিতিয়ে রুখে দিয়েছিলেন, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য পরিবেশ-নারীবাদী (Eco-feminism) রূপ নেয়।
৩. ১৫ বছরের সরকারি নিষেধাজ্ঞা: আন্দোলনের প্রবল চাপে ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী সরকার হিমালয়ে ১০০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় বাণিজ্যিক গাছ কাটার ওপর টানা ১৫ বছরের সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
৪. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: ১৯৮৭ সালে চিপকো আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক স্তরে মর্যাদাপূর্ণ 'রাইট লাইভলিহুড পুরস্কার' (বিকল্প নোবেল) প্রদান করা হয়।
উত্তর: গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসনকে সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে এই আইনটি পাস হয়। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হলো—
১. ত্রি-স্তর বিশিষ্ট পঞ্চায়েত ব্যবস্থা: সমগ্র দেশজুড়ে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ নিয়ে অভিন্ন ত্রি-স্তর পঞ্চায়েত বাধ্যতামূলক করা হয়।
২. মহিলাদের জন্য ৫০%/৩৩% আসন সংরক্ষণ: পঞ্চায়েতের প্রতিটি স্তরে মোট আসনের ন্যূনতম এক-তৃতীয়াংশ (পশ্চিমবঙ্গে ৫০ শতাংশ) মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়।
৩. ৫ বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদ: পঞ্চায়েতের কার্যকালের মেয়াদ নির্দিষ্ট ৫ বছর করা হয় এবং ভেঙে দেওয়া হলে ৬ মাসের মধ্যে পুনর্নির্বাচন বাধ্যতামূলক করা হয়।
৪. নির্বাচন ও অর্থ কমিশন গঠন: নিয়মিত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য 'রাজ্য নির্বাচন কমিশন' (ধারা ২৪৩-কে) এবং পঞ্চায়েতের তহবিল বণ্টনে প্রতি ৫ বছর অন্তর 'রাজ্য অর্থ কমিশন' (ধারা ২৪৩-আই) গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়।
উত্তর: পৌরসভার গঠন: পৌর এলাকা বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিভক্ত থাকে। প্রতি ওয়ার্ড থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটে ৫ বছরের জন্য একজন কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। নির্বাচিত কাউন্সিলররা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে 'পৌরপ্রধান' (Chairman) এবং একজনকে 'উপ-পৌরপ্রধান' নির্বাচন করেন। পৌরপ্রধান ও তাঁর মনোনীত কাউন্সিলরদের নিয়ে 'চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল' গঠিত হয়।
আয়ের প্রধান উৎস: (১) নিজস্ব কর ও শুল্ক: শহরের বাড়ি ও জমির ওপর সম্পত্তি কর (Property Tax), জলকর এবং ব্যবসা বা ট্রেড লাইসেন্স ফি; (২) সরকারি অনুদান: কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার কর্তৃক প্রদত্ত আর্থিক মঞ্জুরি ও উন্নয়নমূলক তহবিল।
উত্তর: ভারতীয় সংবিধানের ৩৬৮ নম্বর ধারায় সংসদকে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর মূল্যায়ন নিম্নরূপ—
১. কেন্দ্রের একচেটিয়া কর্তৃত্ব: সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব কেবল কেন্দ্রীয় সংসদের যেকোনো কক্ষে তোলা যায়; রাজ্য আইনসভাগুলির এই সংক্রান্ত কোনো বিল আনার কোনো ক্ষমতা নেই।
২. যৌথ অধিবেশনের সুযোগ নেই: সংশোধন বিল নিয়ে লোকসভা ও রাজ্যসভার মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে ধারা ১০৮ অনুযায়ী কোনো যৌথ অধিবেশন ডাকা যায় না; ফলে রাজ্যসভা অসম্মতি জানালে বিলটি পুরোপুরি বাতিল হয়ে যায়।
৩. নমনীয় ও অনমনীয়তার চমৎকার মেলবন্ধন: সমালোচনার পাশাপাশি এটি অনস্বীকার্য যে ভারতীয় সংবিধান ব্রিটেনের মতো অতি নমনীয় নয়, আবার আমেরিকার মতো অতি অনমনীয় নয়; এটি দেশের সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তনশীল।
উদারনীতিবাদী তত্ত্বের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. সহযোগিতামূলক মানবপ্রকৃতি: উদারনীতিবাদীদের বিশ্বাস মানুষ স্বভাবতই যুক্তিবাদী এবং অহিংস। পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে রাষ্ট্রগুলি দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে সক্ষম।
২. আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের ভূমিকা: সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যস্থতায় যুদ্ধ প্রতিহত করে সার্বিক যৌথ নিরাপত্তা রক্ষা করা সম্ভব।
৩. জটিল পারস্পরিক নির্ভরতা (Complex Interdependence): রবার্ট কিওহেন ও জোসেফ নাই-এর মতে, বিশ্বায়নের যুগে অর্থনৈতিক লেনদেনের কারণে একটি রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। ফলে যুদ্ধের ধ্বংসের বদলে দেশগুলি বাণিজ্যিক লাভের উদ্দেশ্যে শান্তি বজায় রাখে।
৪. গণতান্ত্রিক শান্তির তত্ত্ব (Democratic Peace Theory): উদারনীতিবাদের একটি জোরালো দাবি হলো—গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলি পরস্পরের সঙ্গে কখনো যুদ্ধে জড়ায় না। গণতন্ত্রের প্রসার মানেই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা।
সীমাবদ্ধতা: (ক) বাস্তববাদীদের মতে উদারনীতিবাদ বাস্তব জগতের ক্ষমতার রাজনীতিকে অস্বীকার করে অতিরিক্ত নীতিবাদী স্বপ্নের কথা বলে; (খ) মার্কসবাদীদের মতে মুক্ত বাণিজ্য আসলে তৃতীয় বিশ্বের ওপর উন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলির অর্থনৈতিক আগ্রাসন কায়েমের হাতিয়ার।
ভূমিকা: মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গি রাষ্ট্রকে প্রধান অনুঘটক না দেখে বিশ্বব্যাপী পুঁজি ও অর্থনৈতিক শ্রেণিসংগ্রামকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি বলে মনে করে।
প্রধান নীতিসমূহ:
১. অর্থনৈতিক নির্ণয়বাদ: কার্ল মার্কসের মতে সমাজের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোই তার পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মূলত দেশের শাসক পুঁজিপতি শ্রেণির অর্থনৈতিক মুনাফার স্বার্থে রচিত হয়।
২. সাম্রাজ্যবাদ ও উদ্বৃত্ত পুঁজির যুদ্ধ: লেনিন দেখিয়েছেন যে নিজ দেশের বাজারে মন্দা এলে পুঁজিপতিরা অনুন্নত উপনিবেশগুলিতে পুঁজি রপ্তানি করে কাঁচামাল লুট করতে যায়, যা পরবর্তীকালে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের জন্ম দেয়।
৩. নির্ভরতা তত্ত্ব ও বিশ্বব্যবস্থা: ইমানুয়েল ওয়ালারস্টাইনের মতে বিশ্ব পুঁজিবাদী কাঠামো দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত—ধনী 'কেন্দ্র' (Core) এবং অনুন্নত 'প্রান্ত' (Periphery)। উন্নত দেশগুলি বাণিজ্যচক্রের মাধ্যমে কাঁচামাল সস্তায় কিনে প্রান্তিক দেশকে চিরকাল পরনির্ভরশীল রাখে।
৪. রাষ্ট্রের পক্ষপাতমূলক শ্রেণিচরিত্র: মার্কসবাদীদের মতে কোনো রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ থাকে না; আন্তর্জাতিক কূটনীতি হলো বিশ্ব বুর্জোয়া শ্রেণির আধিপত্যকে স্থায়ী করার একটি হাতিয়ার।
৫. আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি: সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের অবসান ঘটিয়ে বিশ্বব্যাপী মেহনতি মানুষের বিপ্লব ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই স্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ।
বিশ্বায়নের রাজনৈতিক ফলাফলসমূহ:
১. কল্যাণকামী রাষ্ট্রের সংকোচন: নয়া-উদারনীতিবাদের চাপে রাষ্ট্র ভর্তুকি কমাচ্ছে এবং বিনামূল্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার দায়িত্ব থেকে হাত গুটিয়ে মূলত বাজার অর্থনীতির অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সীমাবদ্ধ হচ্ছে।
২. অ-রাষ্ট্রীয় শক্তির আধিপত্য: একক রাষ্ট্রের চেয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF), বিশ্বব্যাংক এবং বহুজাতিক সংস্থাগুলির (MNC) ক্ষমতা বেড়েছে। জাতীয় আইন তাদের সুবিধার জন্য বদলাতে হচ্ছে।
৩. প্রযুক্তিগত নজরদারি ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা: স্যাটেলাইট ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নাগরিক তথ্য পরিচালনায় পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম হয়েছে।
সার্বভৌমত্বের ওপর প্রভাব: সীমান্তহীন বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবাহে রাষ্ট্রের অবাধ কর্তৃত্ব কিছুটা সংকুচিত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু জাতি-রাষ্ট্র পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েনি। সামরিক প্রতিরক্ষা, অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগে রাষ্ট্রই এখনও শেষ কথা। সুতরাং সার্বভৌমত্ব ধ্বংস হয়নি, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তার কৌশলের রূপান্তর (Transformation) ঘটেছে।
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
১. মন্ত্রিসভার নেতা: প্রধানমন্ত্রী হলেন মন্ত্রীসভার ভিত্তিপ্রস্তর। তাঁর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য মন্ত্রীদের নিযুক্ত করেন ও দপ্তর বণ্টন করেন। তিনি ক্যাবিনেটের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
২. সংসদের প্রধান চালিকাশক্তি: তিনি লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা। সরকারি নীতি সংসদে তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সংসদের অধিবেশন আহ্বান বা লোকসভা ভেঙে দেওয়ার পেছনে তাঁর পরামর্শই কাজ করে।
৩. রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার প্রধান যোগসূত্র: ধারা ৭৮ অনুযায়ী প্রশাসনের সমস্ত খবর ও মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতিকে জানানো প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক দায়িত্ব।
৪. জাতির প্রধান মুখপাত্র: যেকোনো জাতীয় সংকট, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী সমগ্র ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন।
সাংবিধানিক পদমর্যাদা: লর্ড মর্লের মতে প্রধানমন্ত্রী "সমকক্ষদের মধ্যে প্রথম" হলেও ভারতে বাস্তবে তাঁর ক্ষমতা একচ্ছত্র। জেনিংসের মতে তিনি হলেন সেই সূর্য যার চারিদিকে অন্যান্য মন্ত্রীরা ঘোরে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ক্ষেত্রে তিনি কার্যত দেশের একচ্ছত্র প্রকৃত শাসক (De Facto Ruler)।
রাজ্যপালের প্রধান ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
১. শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা: রাজ্যের সমস্ত প্রশাসনিক কাজ রাজ্যপালের নামে চলে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ করেন। রাজ্যের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ করেন।
২. আইন সংক্রান্ত ক্ষমতা: তাঁর সম্মতি ছাড়া বিধানসভার বিল আইনে পরিণত হয় না। বিধানসভা বন্ধ থাকলে তিনি সংবিধানের ২১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী অধ্যাদেশ (Ordinance) জারি করতে পারেন।
৩. স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা: ধারা ১৬৩ অনুসারে কিছু ক্ষেত্রে তিনি মন্ত্রীসভার পরামর্শ ছাড়াই নিজস্ব বিবেচনায় কাজ করতে পারেন (যেমন—ত্রিশঙ্কু বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ, ৩৫৬ ধারার রিপোর্ট পাঠানো)।
রাজ্যপালের দ্বৈত ভূমিকা: রাজ্যপালকে সংবিধানে এক জটিল দ্বৈত ভূমিকা পালন করতে হয়—(ক) একদিকে তিনি রাজ্যের সাংবিধানিক নামসর্বস্ব প্রধান; (খ) অন্যদিকে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের মনোনীত প্রতিনিধি (Agent of the Centre)। রাজ্যের গোপন রিপোর্ট কেন্দ্রে পাঠানো এবং কেন্দ্রের নির্দেশ রাজ্যে বলবৎ রাখার দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকে।
