মাধ্যমিক 2027 জীবন বিজ্ঞান ১০০% কমন সাজেশন ই-বুক
নতুন সিলেবাস অনুসারে প্রতিটি অধ্যায়ের সম্পূর্ণ সমাধান ও নির্ভুল নোটস- সমস্ত প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর সংকলন।
- মাধ্যমিক 2027 এর জন্য বিশেষ প্রশ্ন উত্তর।
- দুর্দান্ত নাম্বার তোলার জন্য, প্রশ্ন উত্তর।
- Instant ডাউনলোড লিংক পেমেন্টের পরেই।
মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান সাজেশন ২০২৭
Full Syllabus Mock Test - Premium Sample Set
(প্রথম ১৫ মিনিট শুধুমাত্র প্রশ্নপত্র পড়ার জন্য)
১। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে তার ক্রমিক সংখ্যাসহ বাক্যটি সম্পূর্ণ করে লেখো: (১ × ১৫ = ১৫)
১.১ কোনো অবলম্বনকে জড়িয়ে ধরে কুমড়ো বা লাউ গাছের আকর্ষের (Tendril) বৃদ্ধি পাওয়াকে কী চলন বলে?
(ক) ফোটোট্রপিক (খ) জিওট্রপিক (গ) থিগমোট্রপিক (ঘ) হাইড্রোট্রপিক
১.২ থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে থাইরক্সিন ক্ষরণে সাহায্যকারী TSH হরমোন কোথা থেকে ক্ষরিত হয়?
(ক) হাইপোথ্যালামাস (খ) পিটুইটারি গ্রন্থি (গ) অগ্ন্যাশয় (ঘ) অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি
১.৩ নিউরোনের অ্যাক্সনে উপস্থিত মায়োলিন শিথ (Myelin sheath)-এর প্রধান কাজ কী?
(ক) কোশ বিভাজনে সাহায্য করা (খ) স্নায়ুস্পন্দন পরিবহনে অন্তরক (Insulator) হিসেবে কাজ করা (গ) পেশি সংকোচন করা (ঘ) হরমোন ক্ষরণ করা
১.৪ অ্যামিবা (Amoeba) নামক এককোশী প্রাণীটি কোন ধরনের কোশ বিভাজন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে?
(ক) মাইটোসিস (খ) মায়োসিস (গ) অ্যামাইটোসিস (ঘ) সাইটোকাইনেসিস
১.৫ উদ্ভিদের জোড়কলম বা গ্রাফটিং (Grafting) পদ্ধতিতে যে ডালটির ওপর অন্য ডাল জোড়া লাগানো হয় (যা মাটির সাথে যুক্ত থাকে), তাকে কী বলে?
(ক) সায়ন (Scion) (খ) স্টক (Stock) (গ) মুকুল (ঘ) বুলবিল
১.৬ পতঙ্গ দ্বারা সংঘটিত পরাগযোগ বা এন্টোমোফিলি (Entomophily) দেখা যায় কোন ফুলে?
(ক) ধান (খ) আম (গ) পাতাঝাঁজি (ঘ) শিমুল
১.৭ মেন্ডেলের একসংকর জননের টেস্ট ক্রসের (Test cross) ফিনোটাইপিক অনুপাত কত হয়?
(ক) ৩:১ (খ) ১:১ (গ) ৯:৩:৩:১ (ঘ) ১:২:১
১.৮ একজন স্বাভাবিক পুরুষ এবং একজন হিমোফিলিয়ার বাহক মহিলার বিবাহ হলে, তাদের পুত্রসন্তানদের হিমোফিলিয়া আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কত শতাংশ?
(ক) ০% (খ) ২৫% (গ) ৫০% (ঘ) ১০০%
১.৯ মানবদেহে লোহার (Iron) অস্বাভাবিক সঞ্চয়ের ফলে যকৃৎ ও প্লীহা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিচের কোন রোগের প্রধান উপসর্গ?
(ক) থ্যালাসেমিয়া (খ) বর্ণান্ধতা (গ) হিমোফিলিয়া (ঘ) ম্যালেরিয়া
১.১০ "অরিজিন অব স্পিসিস বাই মিনস অব ন্যাচারাল সিলেকশন" (Origin of Species) নামক বিখ্যাত গ্রন্থের রচয়িতা কে?
(ক) জঁ ব্যাপটিস্ট ল্যামার্ক (খ) চার্লস ডারউইন (গ) হিউগো দ্য ভ্রিস (ঘ) স্ট্যানলে মিলার
১.১১ আর্কিওপটেরিক্স (Archaeopteryx) নামক জীবাশ্মটি বিবর্তনের কোন ধারণাকে প্রমাণ করে?
(ক) মিসিং লিংক বা হারানো সূত্র (খ) জীবন্ত জীবাশ্ম (গ) সমবৃত্তীয় অঙ্গ (ঘ) নিষ্ক্রিয় অঙ্গ
১.১২ সুন্দরবনের সুন্দরী গাছের পাতায় অবস্থিত লবণ গ্রন্থির (Salt gland) প্রধান কাজ কী?
(ক) সালোকসংশ্লেষ বৃদ্ধি করা (খ) বাষ্পমোচন রোধ করা (গ) অতিরিক্ত লবণ দেহ থেকে নির্গত করা (ঘ) শোষণে সাহায্য করা
১.১৩ মৃত জীবদেহ বিশ্লিষ্ট হয়ে অ্যামোনিয়া উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে (Ammonification) সাহায্যকারী একটি ব্যাকটেরিয়া হলো—
(ক) নাইট্রোসোমোনাস (খ) সিউডোমোনাস (গ) রাইজোবিয়াম (ঘ) ব্যাসিলাস মাইকয়ডিস
১.১৪ প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস কার্বন ডাইঅক্সাইডের (CO2) পর বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী দ্বিতীয় প্রধান গ্যাসটি হলো—
(ক) মিথেন (CH4) (খ) নাইট্রোজেন (N2) (গ) অক্সিজেন (O2) (ঘ) সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2)
১.১৫ ভারতের প্রথম জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট (JFM) আন্দোলন কোথায় শুরু হয়েছিল?
(ক) নীলগিরি (খ) আরাবাড়ি অরণ্য (পশ্চিম মেদিনীপুর) (গ) সাইলেন্ট ভ্যালি (ঘ) সুন্দরবন
২। নিচের ২৬টি প্রশ্ন থেকে নির্দেশ অনুসারে ২১টি প্রশ্নের উত্তর লেখো: (১ × ২১ = ২১)
নিচের বাক্যগুলির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও (যে কোনো পাঁচটি): (১ × ৫ = ৫)
২.২ উদ্ভিদ কোশের সাইটোকাইনেসিস সম্পন্ন হয় _________ গঠনের মাধ্যমে।
২.৩ সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট বিন্দু বা লোকাসে অবস্থিত একই জিনের বিকল্প রূপগুলিকে _________ বলে।
২.৪ আদি পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তির আগে সৃষ্ট দ্বিস্তরীয় প্রোটিন আবরণীযুক্ত কণা হলো _________।
২.৫ বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত ক্ষতিকারক অতিবেগুনি (UV) রশ্মিকে শোষণ করে নেয় পৃথিবীর _________ স্তর।
২.৬ অতি নিম্ন তাপমাত্রায় এক্স-সিটু সংরক্ষণের আধুনিক পদ্ধতি হলো _________ সংরক্ষণ।
নিচের বাক্যগুলি সত্য অথবা মিথ্যা নিরূপণ করো (যে কোনো পাঁচটি): (১ × ৫ = ৫)
২.৮ মায়োসিস কোশ বিভাজনকে হ্রাস বিভাজন (Reduction division) বলা হয়।
২.৯ মেন্ডেলের একসংকর জননের পরীক্ষায় F2 জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত হলো 3:1।
২.১০ ঘোড়ার বিবর্তনে আদিমতম পূর্বপুরুষ হলো ইওহিপ্পাস (Eohippus)।
২.১১ কারখানার ধোঁয়ায় থাকা SO2 এবং NO2 গ্যাস অম্লবৃষ্টি বা অ্যাসিড বৃষ্টি ঘটায়।
২.১২ কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান মূলত রেড পান্ডা সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত।
A-স্তম্ভের সঙ্গে B-স্তম্ভের সম্পর্ক স্থাপন করে লেখো (যে কোনো পাঁচটি): (১ × ৫ = ৫)
| A - স্তম্ভ | B - স্তম্ভ |
|---|---|
| ২.১৩ সাইটোকাইনিন | (ক) পরাগরেণু, শুক্রাণু সংরক্ষণ |
| ২.১৪ S দশা | (খ) অসম্পূর্ণ প্রকটতা |
| ২.১৫ সন্ধ্যামালতী ফুল | (গ) পত্রমোচন বিলম্বিত করে |
| ২.১৬ সমসংস্থ অঙ্গ | (ঘ) DNA-এর প্রতিলিপিকরণ |
| ২.১৭ ব্রঙ্কাইটিস | (ঙ) ফুসফুসের রোগ (বায়ুদূষণ) |
| ২.১৮ ক্রায়োসংরক্ষণ | (চ) অপসারী বিবর্তন |
একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাও (যে কোনো ছটি): (১ × ৬ = ৬)
২.২০ মানুষের চোখে লেন্সের প্রধান কাজ কী?
২.২১ সম্পর্ক বুঝে শূন্যস্থান পূরণ করো: মাইটোসিস : দেহ মাতৃকোশ :: মায়োসিস : _________।
২.২২ বিশুদ্ধ লম্বা মটর গাছের জিনোটাইপ কী হবে?
২.২৩ মানুষের পৌষ্টিকতন্ত্রে অবস্থিত একটি নিষ্ক্রিয় বা ভেস্টিজিয়াল অঙ্গের নাম লেখো।
২.২৪ নাইট্রোজেন চক্রের কোন ধাপে সিউডোমোনাস (Pseudomonas) ব্যাকটেরিয়া অংশগ্রহণ করে?
২.২৫ নিচের চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটি একটি বিষয়ের অন্তর্গত, সেটি খুঁজে বার করো: বিশ্ব উষ্ণায়ন, গ্রিনহাউস প্রভাব, CO2, CH4।
২.২৬ শব্দদূষণ পরিমাপের এককটির নাম কী?
৩। নিচের ১৭টি প্রশ্ন থেকে যে কোনো ১২টি প্রশ্নের উত্তর ২-৩টি বাক্যে লেখো: (২ × ১২ = ২৪)
৪। নিচের ৬টি প্রশ্ন বা তার বিকল্প প্রশ্নের উত্তর লেখো: (৫ × ৬ = ৩০)
৪.১ একটি সরল প্রতিবর্ত চাপের (Reflex arc) পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো: (ক) গ্রাহক বা রিসেপ্টর (খ) সংজ্ঞাবহ স্নায়ু (গ) স্নায়ুকেন্দ্র (ঘ) চেষ্টীয় স্নায়ু বা মোটর স্নায়ু। (৩ + ২ = ৫)
অথবা,
একটি আদর্শ নিউরোনের (Neuron) পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো: (ক) ডেনড্রন (খ) অ্যাক্সন (গ) মায়োলিন শিথ (ঘ) সোয়ান কোশ। (৩ + ২ = ৫)
৪.২ কোশচক্র (Cell cycle) কাকে বলে? একটি আদর্শ কোশচক্রের দশাগুলি (G1, S, G2 এবং M দশা) সংক্ষেপে বর্ণনা করো। (১ + ৪ = ৫)
অথবা,
সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন বা দ্বিনিষেক (Double fertilization) পদ্ধতিটি পর্যায়ক্রমে সংক্ষেপে আলোচনা করো। পরাগযোগের একটি সুবিধা লেখো। (৪ + ১ = ৫)
৪.৩ মটর গাছের ক্ষেত্রে একটি দ্বিসংকর জনন পরীক্ষা (হলুদ-গোল এবং সবুজ-কুঞ্চিত বীজযুক্ত) চেকার বোর্ডের সাহায্যে F2 জনু পর্যন্ত দেখাও এবং ফিনোটাইপ অনুপাতটি লেখো। (৪ + ১ = ৫)
অথবা,
বর্ণান্ধতা (Color blindness) রোগের কারণ কী? একজন স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন কিন্তু বর্ণান্ধতার বাহক মহিলার সাথে একজন স্বাভাবিক পুরুষের বিবাহ হলে, তাদের সন্তানদের বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কতটা তা একটি ক্রসের সাহায্যে বিশ্লেষণ করো। (২ + ৩ = ৫)
৪.৪ ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়গুলি বিস্তারিত আলোচনা করো। (৫)
অথবা,
লবণাক্ত মাটিতে শ্বাসকার্যের জন্য সুন্দরী গাছের মূলের কী কী অভিযোজন দেখা যায়? ক্যাকটাসের পাতা কীভাবে কাঁটায় রূপান্তরিত হয়েছে এবং এর কারণ কী? (৩ + ২ = ৫)
৪.৫ পরিবেশে নাইট্রোজেন চক্রের (Nitrogen cycle) প্রধান পর্যায়গুলি জীবাণুর ভূমিকাসহ সংক্ষেপে বর্ণনা করো। (৫)
অথবা,
বায়ুদূষণের প্রধান তিনটি কারণ আলোচনা করো। মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের ক্ষতিকারক প্রভাবগুলি বর্ণনা করো। (৩ + ২ = ৫)
৪.৬ জীববৈচিত্র্য হ্রাসের বা অবলুপ্তির প্রধান তিনটি কারণ উপযুক্ত উদাহরণসহ আলোচনা করো। (৫)
অথবা,
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণের ভূমিকা বিস্তারিত আলোচনা করো। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে PBR-এর গুরুত্ব কী? (৩ + ২ = ৫)
শূন্যস্থান পূরণ:
২.১ নিসল (Nissl)
২.২ কোশপাত (Cell plate)
২.৩ অ্যালিল (Allele)
২.৪ মাইক্রোস্ফিয়ার / কোয়াসারভেট
২.৫ ওজোন (O3)
২.৬ ক্রায়োসংরক্ষণ (Cryopreservation)
সত্য / মিথ্যা নিরূপণ:
২.৭ মিথ্যা (ইনসুলিন রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে)
২.৮ সত্য
২.৯ সত্য
২.১০ সত্য
২.১১ সত্য
২.১২ মিথ্যা (কাজিরাঙা একশৃঙ্গ গণ্ডার সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত)
A-স্তম্ভ ও B-স্তম্ভ সমতা বিধান:
২.১৩ সাইটোকাইনিন — (গ) পত্রমোচন বিলম্বিত করে
২.১৪ S দশা — (ঘ) DNA-এর প্রতিলিপিকরণ
২.১৫ সন্ধ্যামালতী ফুল — (খ) অসম্পূর্ণ প্রকটতা
২.১৬ সমসংস্থ অঙ্গ — (চ) অপসারী বিবর্তন
২.১৭ ব্রঙ্কাইটিস — (ঙ) ফুসফুসের রোগ (বায়ুদূষণ)
২.১৮ ক্রায়োসংরক্ষণ — (ক) পরাগরেণু, শুক্রাণু সংরক্ষণ
একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর:
২.১৯ বিসদৃশ: সুষুম্নাশীর্ষক (এটি পশ্চাৎমস্তিষ্কের অংশ, বাকিগুলি অগ্রমস্তিষ্কের অংশ)।
২.২০ লেন্সের কাজ: আলোর প্রতিসরণ ঘটিয়ে রেটিনায় বস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠন করা এবং উপযোজনে সহায়তা করা।
২.২১ শূন্যস্থান: জনন মাতৃকোশ (বা রেণু মাতৃকোশ)।
২.২২ জিনোটাইপ: TT
২.২৩ নিষ্ক্রিয় অঙ্গ: ভার্মিফর্ম অ্যাপেনডিক্স (Vermiform Appendix)।
২.২৪ চক্রের ধাপ: ডিনাইট্রিফিকেশন (মাটির নাইট্রেটকে মুক্ত N2-তে পরিণত করে)।
২.২৫ সাধারণ বিষয়: গ্রিনহাউস প্রভাব (Greenhouse Effect)।
২.২৬ পরিমাপক একক: ডেসিবেল (dB)।
৩.১ ট্রপিক ও ন্যাস্টিক চলনের দুটি পার্থক্য:
১. ট্রপিক চলন উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও আবিষ্ট বক্রচলন, কিন্তু ন্যাস্টিক চলন উদ্দীপকের তীব্রতা বা মাত্রার ওপর নির্ভর করে ঘটে।
২. ট্রপিক চলন মূলত উদ্ভিদ হরমোন (যেমন- অক্সিন) দ্বারা প্রভাবিত হয়, কিন্তু ন্যাস্টিক চলনে হরমোনের কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকে না।
৩.২ অন্তঃক্ষরা ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থির দুটি পার্থক্য:
১. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিতে কোনো ক্ষরণকারী নালী থাকে না (অনাল গ্রন্থি) এবং এর ক্ষরণ সরাসরি রক্তে মেশে। বহিঃক্ষরা গ্রন্থিতে নালী থাকে (সোনাল গ্রন্থি) এবং ক্ষরণ নালীর মাধ্যমে বাইরে আসে।
২. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির প্রধান ক্ষরণ হলো হরমোন (যেমন- থাইরয়েড); অন্যদিকে বহিঃক্ষরা গ্রন্থির ক্ষরণ হলো উৎসেচক, লালারস, ঘাম ইত্যাদি (যেমন- লালাগ্রন্থি)।
৩.৩ উপযোজন (Accommodation):
স্থান পরিবর্তন না করে সিলিয়ারি পেশি ও সাসপেন্সরি লিগামেন্টের সংকোচন-প্রসারণের সাহায্যে চোখের লেন্সের বক্রতা তথা ফোকাস দূরত্বের পরিবর্তন ঘটিয়ে বিভিন্ন দূরত্বের বস্তুকে রেটিনায় স্পষ্টভাবে ফোকাস করার ক্ষমতাকে উপযোজন বলে।
৩.৪ DNA ও RNA-এর দুটি গঠনগত পার্থক্য:
১. DNA দ্বিতন্ত্রী ও পেঁচানো সিঁড়ির মতো এবং এতে ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা থাকে। RNA প্রধানত একতন্ত্রী এবং এতে রাইবোজ শর্করা থাকে।
২. DNA-তে নাইট্রোজেনাস ক্ষারক হিসেবে থাইমিন (T) থাকে, কিন্তু RNA-তে থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল (U) উপস্থিত থাকে।
৩.৫ মাইক্রোপ্রোপাগেশন (Micropropagation):
উদ্ভিদের কোনো ক্ষুদ্র দেহাংশ, কলা বা কোশকে (এক্সপ্লান্ট) টেস্টটিউবে উপযুক্ত কৃত্রিম পুষ্টিমাধ্যমে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে কালচার করে ক্যালাস ও এমব্রয়েড গঠনের মাধ্যমে খুব কম সময়ে অসংখ্য রোগমুক্ত চারাগাছ (প্লান্টলেট) উৎপাদনের আধুনিক পদ্ধতিকে মাইক্রোপ্রোপাগেশন বা অণুবিস্তারণ বলে।
৩.৬ অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোমের কাজ:
অটোজোমের কাজ: জীবের যাবতীয় দৈহিক বৈশিষ্ট্য (যেমন- গায়ের রঙ, উচ্চতা, চুলের গঠন) নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করা।
সেক্স ক্রোমোজোমের কাজ: জীবের লিঙ্গ (স্ত্রী বা পুরুষ) নির্ধারণ করা এবং লিঙ্গ-সংলগ্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করা।
৩.৭ টেস্ট ক্রস ও এর গুরুত্ব:
অজ্ঞাত জিনোটাইপযুক্ত কোনো প্রকট ফিনোটাইপের জীব বিশুদ্ধ (হোমোজাইগাস) নাকি সংকর (হেটারোজাইগাস) তা জানার জন্য তাকে যখন বিশুদ্ধ প্রচ্ছন্ন জনিতৃর সাথে ক্রস ঘটানো হয়, তখন তাকে টেস্ট ক্রস বলে।
গুরুত্ব: এর মাধ্যমে কোনো জীবের জিনগত শুদ্ধতা (Purity of genotype) সহজেই নির্ণয় করা সম্ভব হয়।
৩.৮ থ্যালাসেমিয়া রোগের দুটি প্রধান লক্ষণ:
১. অস্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন গঠনের কারণে লোহিত রক্তকণিকা দ্রুত ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ায় তীব্র রক্তাল্পতা (Anemia) দেখা দেয়।
২. দেহে মাত্রাতিরিক্ত লোহা সঞ্চিত হওয়ার কারণে যকৃৎ ও প্লীহার বৃদ্ধি (হেপাটোস্প্লেনোমেগালি) ঘটে এবং হৃৎপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৩.৯ অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র:
ল্যামার্কের মতে, কোনো জীব পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তার যেসব অঙ্গ ক্রমাগত এবং বেশি মাত্রায় ব্যবহার করে, সেগুলি ক্রমশ সুগঠিত ও শক্তিশালী হয়। পক্ষান্তরে, যেসব অঙ্গের ব্যবহার বন্ধ থাকে বা কমে যায়, সেগুলি ক্রমশ দুর্বল, নিষ্ক্রিয় ও অবশেষে অবলুপ্ত হয়ে যায়।
৩.১০ সমবৃত্তীয় অঙ্গ (Analogous Organs):
যেসব অঙ্গ উৎপত্তি এবং অভ্যন্তরীণ গঠনের দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন, কিন্তু একই পরিবেশে বেঁচে থাকার তাগিদে একই ধরনের কার্য সম্পাদন করে, তাদের সমবৃত্তীয় অঙ্গ বলে।
উদাহরণ: পতঙ্গের ডানা এবং পাখির ডানা (উভয়ের কাজ ওড়া, কিন্তু উৎপত্তি ও অস্থিকাঠামো ভিন্ন)।
৩.১১ উটের দেহে জলক্ষয় রোধের দুটি অভিযোজন:
১. উটের লোহিত রক্তকণিকা (RBC) ডিম্বাকার হওয়ায় রক্তে জলের মাত্রা কমে ঘন হয়ে গেলেও তা সূক্ষ্ম রক্তজালকের মধ্য দিয়ে সহজে প্রবাহিত হতে পারে।
২. উটের ত্বকে ঘর্মগ্রন্থির সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য এবং এদের বৃক্কে হেনলির লুপ খুব দীর্ঘ হওয়ায় এরা অত্যন্ত ঘন অর্ধকঠিন মূত্র ত্যাগ করে জল অপচয় রোধ করে।
৩.১২ নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ:
যে প্রাকৃতিক ও জৈব প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলের মুক্ত গ্যাসীয় নাইট্রোজেন মাটিতে নাইট্রেট বা অ্যামোনিয়াম যৌগ হিসেবে সংবন্ধিত হয়, তাকে নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ বলে।
মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া: রাইজোবিয়াম (Rhizobium), যা শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলের অর্বুদে বাস করে।
৩.১৩ ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication):
কৃষিজমি থেকে ধুয়ে আসা রাসায়নিক সার (নাইট্রেট ও ফসফেট) জলাশয়ে মেশার ফলে পুষ্টি উপাদানের আধিক্য ঘটে। এর ফলে শৈবাল ও জলজ উদ্ভিদের মাত্রাতিরিক্ত বংশবৃদ্ধি ঘটে (অ্যালগাল ব্লুম), যা পচনের সময় জলে দ্রবীভূত O2-এর ঘাটতি ঘটিয়ে জলজ প্রাণীদের মৃত্যুর কারণ হয়। এই প্রক্রিয়াকে ইউট্রোফিকেশন বলে।
৩.১৪ অ্যাসিড বৃষ্টির দুটি ক্ষতিকর প্রভাব:
১. মাটি ও জলাশয়ের ক্ষতি: মাটির অম্লত্ব অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়ে উর্বরতা নষ্ট হয় এবং জলাশয়ের মাছ ও জলজ প্রাণীর প্রজনন ব্যাহত হয়।
২. মার্বেল পাথরের ক্ষয় (Stone Cancer): মার্বেল পাথরের তৈরি প্রাচীন সৌধ ও স্থাপত্যের (যেমন- তাজমহল) ক্যালসিয়াম কার্বনেটের সঙ্গে অ্যাসিড বিক্রিয়া করে পাথরের স্থায়ী ক্ষয় ঘটায়।
৩.১৫ জীববৈচিত্র্য হটস্পট নির্ধারণের দুটি প্রধান শর্ত:
১. ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলে অন্তত ১,৫০০টি সংবহনকলাযুক্ত এন্ডেমিক (স্থানীয়) উদ্ভিদ প্রজাতির উপস্থিতি থাকতে হবে, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও জন্মায় না।
২. অঞ্চলটির আদি ও প্রাকৃতিক বাসস্থানের অন্তত ৭০% অংশ মানব কর্মকাণ্ডের কারণে বিনষ্ট বা বিপন্ন হতে হবে।
৩.১৬ ইন-সিটু ও এক্স-সিটু সংরক্ষণের পার্থক্য:
ইন-সিটু সংরক্ষণ হলো বিপন্ন জীবকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানের মধ্যেই সুরক্ষা প্রদান করে টিকিয়ে রাখা (যেমন- সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ, কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান)। অন্যদিকে, এক্স-সিটু সংরক্ষণ হলো জীবকে তার প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে দূরে এনে মানুষের তত্ত্বাবধানে কোনো সুরক্ষিত স্থানে সংরক্ষণ করা (যেমন- আলিপুর চিড়িয়াখানা, শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন)।
৩.১৭ JFM (জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট)-এর দুটি উদ্দেশ্য:
১. সরকারি বনদপ্তর ও স্থানীয় আদিবাসী/গ্রামবাসীদের যৌথ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ধ্বংসপ্রাপ্ত বনভূমির পুনরুজ্জীবন ও বন রক্ষা করা।
২. চোরাশিকার ও চোরাই কাঠ পাচার বন্ধ করা এবং বন থেকে প্রাপ্ত অপ্রধান বনজ সম্পদের (মধু, শুকনো কাঠ, পাতা) ওপর স্থানীয়দের অধিকার দিয়ে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটানো।
৪.১ প্রতিবর্ত চাপের চিত্রাঙ্কন:
(পরীক্ষার্থীদের একটি সরল প্রতিবর্ত চাপের চিত্র এঁকে নির্দিষ্ট অংশ চারটি নির্দেশ করতে হবে: ১. গ্রাহক বা রিসেপ্টর, ২. সংজ্ঞাবহ স্নায়ু, ৩. স্নায়ুকেন্দ্র অর্থাৎ সুষুম্নাকাণ্ডের ধূসর বস্তু, এবং ৪. চেষ্টীয় বা মোটর স্নায়ু। নির্ভুল চিত্রের জন্য ৩ নম্বর এবং নির্দেশিত ৪টি অংশের জন্য ২ নম্বর বরাদ্দ থাকে।)
৪.২ কোশচক্র ও তার বিভিন্ন দশা:
কোশচক্র: একটি কোশের সৃষ্টি থেকে শুরু করে বিভাজনের মাধ্যমে অপত্য কোশ তৈরির সময় পর্যন্ত সংঘটিত ধারাবাহিক ঘটনাবলির চক্রাকার আবর্তনকে কোশচক্র বলে।
দশাগুলির বিবরণ:
১. G1 দশা (প্রথম বৃদ্ধি দশা): পরবর্তী DNA প্রতিলিপিকরণের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উৎসেচক, প্রোটিন, RNA এবং ATP সংশ্লেষিত হয় ও কোশ আকারে বৃদ্ধি পায়।
২. S দশা (সংশ্লেষ দশা): অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দশা, যেখানে নিউক্লিয়াসে DNA-এর স্বপ্রতিলিপিকরণ ঘটে এবং জিনগত বস্তুর পরিমাণ দ্বিগুণ (2C থেকে 4C) হয়।
৩. G2 দশা (দ্বিতীয় বৃদ্ধি দশা): বেমতন্তু গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় টিউবিউলিন প্রোটিন এবং অন্যান্য অঙ্গাণু সংশ্লেষিত হয়ে বিভাজনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়।
৪. M দশা (বিভাজন দশা): এখানে প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজের মাধ্যমে নিউক্লিয়াসের বিভাজন (ক্যারিওকাইনেসিস) এবং পরবর্তীকালে সাইটোপ্লাজমের বিভাজন (সাইটোকাইনেসিস) সম্পন্ন হয়।
অথবা, দ্বিনিষেক পদ্ধতি ও পরাগযোগের সুবিধা:
পরাগযোগের পর পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে অঙ্কুরিত হয়ে পরাগনালী তৈরি করে। পরাগনালীতে দুটি পুংগ্যামেট (n) গঠিত হয়। নালীটি ডিম্বকে প্রবেশ করে ভ্রূণস্থলীতে পৌঁছায়।
দ্বিনিষেকের পর্যায়: একটি পুংগ্যামেট (n) ডিম্বাণুর (n) সঙ্গে মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড জাইগোট (2n) গঠন করে, যা পরবর্তীকালে ভ্রূণে রূপান্তরিত হয়। অপর পুংগ্যামেটটি (n) ভ্রূণস্থলীর কেন্দ্রস্থ নির্ণীত নিউক্লিয়াসের (2n) সঙ্গে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড শস্য নিউক্লিয়াস (3n) গঠন করে। সপুষ্পক উদ্ভিদে এই দুটি নিষেক একসঙ্গে ঘটায় একে 'দ্বিনিষেক' বলা হয়।
পরাগযোগের একটি সুবিধা: ইতোর পরাগযোগের ফলে নতুন জিনগত বৈশিষ্ট্যের পুনঃসংযোজন ঘটে, যা জীবের অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং নতুন ভেদ সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
৪.৩ মটর গাছের দ্বিসংকর জনন ও চেকার বোর্ড:
বিশুদ্ধ হলুদ ও গোল বীজযুক্ত মটর গাছের (YYRR) সাথে বিশুদ্ধ সবুজ ও কুঞ্চিত বীজযুক্ত মটর গাছের (yyrr) পর-সংকরায়ণ ঘটানো হলো।
F1 জনু: উৎপন্ন সব উদ্ভিদ সংকর হলুদ-গোল বীজযুক্ত (YyRr) হয়।
F2 জনু: F1 জনুর উদ্ভিদে স্বপরাগযোগ ঘটালে ৪ ধরনের পুং ও স্ত্রী গ্যামেট সৃষ্টি হয় (YR, Yr, yR, yr)। ১৬টি ঘরের চেকার বোর্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফল নিম্নরূপ:
ফিনোটাইপ অনুপাত: হলুদ-গোল : হলুদ-কুঞ্চিত : সবুজ-গোল : সবুজ-কুঞ্চিত = ৯ : ৩ : ৩ : ১।
অথবা, বর্ণান্ধতার কারণ ও ক্রসের বিশ্লেষণ:
কারণ: বর্ণান্ধতা হলো মানুষের X-ক্রোমোজোমে অবস্থিত প্রচ্ছন্ন অ্যালিলের মিউটেশনের ফলে সৃষ্ট একটি জন্মগত ত্রুটি। এর ফলে রেটিনার কোন কোশ ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় ব্যক্তি লাল ও সবুজ রঙের পার্থক্য বুঝতে পারে না।
ক্রস বিশ্লেষণ:
ধরি, স্বাভাবিক অ্যালিল = X+ এবং বর্ণান্ধতার প্রচ্ছন্ন অ্যালিল = Xc।
স্বাভাবিক পুরুষ = X+ Y এবং বাহক মহিলা = X+ Xc।
সন্তানদের সম্ভাবনা:
১. X+ X+ (স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন কন্যা - ২৫%)
২. X+ Xc (স্বাভাবিক কিন্তু বাহক কন্যা - ২৫%)
৩. X+ Y (স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন পুত্র - ২৫%)
৪. Xc Y (বর্ণান্ধ পুত্র - ২৫%)
ফলাফল: এদের মোট সন্তানদের মধ্যে ২৫% সন্তান বর্ণান্ধ হবে। তবে যদি কেবল পুত্রদের হিসাব করা হয়, তবে ৫০% পুত্র বর্ণান্ধ হবে এবং কোনো কন্যাসন্তান বর্ণান্ধ হবে না।
৪.৪ ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের মূল প্রতিপাদ্য:
১. অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি: প্রতিটি জীব জ্যামিতিক ও গাণিতিক হারে বংশবৃদ্ধি করে বিপুল সংখ্যায় অপত্য উৎপাদনে সচেষ্ট থাকে।
২. সীমিত খাদ্য ও বাসস্থান: ভূপৃষ্ঠে খাদ্য ও বাসস্থান নির্দিষ্ট হওয়ায় জীবসংখ্যার অতিরিক্ত বৃদ্ধি প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করে।
৩. অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম: সীমিত সম্পদের জন্য জীবদের অন্তঃপ্রজাতি, আন্তঃপ্রজাতি এবং প্রতিকূল পরিবেশের বিরুদ্ধে অনবরত জীবনসংগ্রামে লিপ্ত হতে হয়।
৪. প্রকরণ বা ভেদ: সংগ্রামের ফলে জীবদেহে ছোটো ছোটো পরিবর্তন বা প্রকরণ দেখা দেয়। পরিবেশের জন্য সহায়ক প্রকরণগুলি অনুকূল প্রকরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
৫. যোগ্যতমের উদ্বর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন: জীবনসংগ্রামে যে সমস্ত জীব অনুকূল প্রকরণ ধারণ করে, কেবল তারাই টিকে থাকে (যোগ্যতমের জয়) এবং প্রকৃতি তাদেরই নির্বাচন করে।
অথবা, সুন্দরী গাছ ও ক্যাকটাসের অভিযোজন:
সুন্দরী গাছের মূলের অভিযোজন: সুন্দরবনের লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে বাতাসের মুক্ত অক্সিজেনের তীব্র অভাব থাকে। তাই উদ্ভিদের মূলের কিছু শাখা অভিকর্ষের বিপরীতে সোজা মাটির ওপরে উঠে আসে, এদের শ্বাসমূল (Pneumatophore) বলে। শ্বাসমূলের গায়ে উপস্থিত নিউম্যাটোথোড নামক ক্ষুদ্র ছিদ্রের মাধ্যমে এরা সরাসরি বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শ্বাসকার্য চালায়।
ক্যাকটাসের পাতার অভিযোজন: মরুভূমির চরম শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ায় অতিরিক্ত বাষ্পমোচন রোধ করে দেহের জল সঞ্চিত রাখার উদ্দেশ্যে ক্যাকটাসের পাতা কাঁটায় (Spine) রূপান্তরিত হয়েছে। এছাড়া কাঁটাগুলি তৃণভোজী প্রাণীদের হাত থেকেও গাছকে আত্মরক্ষায় সাহায্য করে।
৪.৫ নাইট্রোজেন চক্রের প্রধান পর্যায়সমূহ:
১. নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ: মুক্ত N2 বিভিন্ন মিথোজীবী (রাইজোবিয়াম) ও স্বাধীনজীবী (অ্যাজোটোব্যাক্টর) ব্যাকটেরিয়া এবং তড়িৎমোচনের মাধ্যমে নাইট্রেট লবণরূপে মাটিতে স্থিতিকৃত হয়।
২. অ্যামোনিফিকেশন: মাটির মৃত জীবদেহ ও রেচনজাত প্রোটিনকে Bacillus mycoides বিশ্লিষ্ট করে অ্যামোনিয়াতে (NH3) পরিণত করে।
৩. নাইট্রিফিকেশন: অ্যামোনিয়াকে Nitrosomonas ব্যাকটেরিয়া নাইট্রাইটে (NO2-) এবং পরবর্তীতে Nitrobacter সেই নাইট্রাইটকে নাইট্রেটে (NO3-) জারিত করে, যা উদ্ভিদ গ্রহণোপযোগী হয়।
৪. ডিনাইট্রিফিকেশন: মাটির অতিরিক্ত নাইট্রেট যৌগকে Pseudomonas ও Thiobacillus ভেঙে গ্যাসীয় N2 হিসেবে পুনরায় বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে দেয়।
অথবা, বায়ুদূষণের কারণ ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব:
কারণ:
১. তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কলকারখানা থেকে বিষাক্ত গ্যাস (SO2, NO2) এবং SPM নির্গমন।
২. মোটরগাড়ির জীবাশ্ম জ্বালানির অসম্পূর্ণ দহনে কার্বন মনোক্সাইড (CO) ও লেড কণার সংযোজন।
৩. নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংসের ফলে বায়ুমণ্ডলে CO2 শোষণ হ্রাস ও ভারসাম্যহীনতা।
স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব:
১. বাতাসে থাকা ধূলিকণা ও SPM শ্বাসনালীতে জমা হয়ে ব্রঙ্কাইটিস, ফুসফুসের প্রদাহ ও দীর্ঘস্থায়ী হাঁপানি (Asthma) সৃষ্টি করে।
২. বিষাক্ত রাসায়নিক ও ভারী ধাতুর প্রভাবে ফুসফুসের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয় (এমফাইসেমা) এবং ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়।
৪.৬ জীববৈচিত্র্য হ্রাসের প্রধান কারণসমূহ:
১. বাসস্থান ধ্বংস ও খণ্ডীভবন: কৃষিজমির বিস্তার, নগরায়ণ ও রাস্তাঘাট তৈরির ফলে বন কেটে ফেলা হচ্ছে, যার ফলে বন্যপ্রাণীদের বাসস্থান ও প্রজনন ক্ষেত্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে বহু প্রজাতি বিলুপ্ত হচ্ছে।
২. চোরাশিকার (Overexploitation & Poaching): আন্তর্জাতিক চোরাবাজারে বাঘের ছাল-হাড়, হাতির দাঁত, গণ্ডারের খড়্গের উচ্চ চাহিদার কারণে অবাধে শিকারের ফলে প্রজাতির সংখ্যা দ্রুত তলানিতে ঠেকছে।
৩. পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন: কীটনাশক, প্লাস্টিক ও অ্যাসিড বৃষ্টির বিষাক্ত প্রভাবে প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হচ্ছে এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে মেরু প্রদেশের প্রাণীরা নিশ্চিহ্ন হচ্ছে।
অথবা, এক্স-সিটু সংরক্ষণ ও PBR-এর গুরুত্ব:
এক্স-সিটু সংরক্ষণের ভূমিকা:
১. চিড়িয়াখানা: সংকটাপন্ন প্রাণীদের এনে বিজ্ঞানসম্মত পরিচর্যা ও কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে তাদের বংশবৃদ্ধি করানো হয়।
২. বোটানিক্যাল গার্ডেন: লুপ্তপ্রায় ও ঔষধি গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ প্রজাতিকে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধি করা হয়।
৩. ক্রায়োসংরক্ষণ: তরল নাইট্রোজেনে (-১৯৬° সে. উষ্ণতায়) বিপন্ন জীবের শুক্রাণু, ডিম্বাণু, ভ্রূণ বা পরাগরেণু অনির্দিষ্টকালের জন্য সজীব রেখে ভবিষ্যৎ প্রজননের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা যায়।
PBR (People's Biodiversity Register)-এর গুরুত্ব: এটি স্থানীয় জীববৈচিত্র্য, ভেষজ উদ্ভিদ এবং তাদের ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কিত চিরাচরিত জ্ঞানের একটি আইনি ও বিজ্ঞানসম্মত সরকারি দলিল। এটি বায়োপাইরেসি (চোরাইভাবে দেশীয় সম্পদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া) প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।
মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান ২০২৭
Full Syllabus Mock Test - Sample Set-2
(প্রথম ১৫ মিনিট শুধুমাত্র প্রশ্নপত্র পড়ার জন্য)
১। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে তার ক্রমিক সংখ্যাসহ বাক্যটি সম্পূর্ণ করে লেখো: (১ × ১৫ = ১৫)
১.১ সূর্যমুখীর ফুল আলো ফুটলে ফোটে এবং অন্ধকার হলে বুজে যায়—এটি কী ধরনের চলন?
(ক) ফটোট্রপিক (খ) ফোটোন্যাস্টিক (গ) থার্মোন্যাস্টিক (ঘ) কেমোন্যাস্টিক
১.২ মানবদেহে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে কোন হরমোন?
(ক) থাইরক্সিন (খ) অ্যাড্রিনালিন (গ) ইনসুলিন (ঘ) টেস্টোস্টেরন
১.৩ মস্তিষ্কের যে অংশ দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে, তা হলো—
(ক) গুরুমস্তিষ্ক (খ) লঘুমস্তিষ্ক (গ) থ্যালামাস (ঘ) হাইপোথ্যালামাস
১.৪ কোশচক্রের কোন দশায় DNA সংশ্লেষিত হয়?
(ক) G1 দশা (খ) S দশা (গ) G2 দশা (ঘ) M দশা
১.৫ পাথরকুচি উদ্ভিদ কোন অঙ্গের সাহায্যে অঙ্গজ জনন সম্পন্ন করে?
(ক) মূল (খ) কাণ্ড (গ) পাতা (ঘ) মুকুল
১.৬ সপুষ্পক উদ্ভিদের শস্য (Endosperm) হলো—
(ক) হ্যাপ্লয়েড (n) (খ) ডিপ্লয়েড (2n) (গ) ট্রিপ্লয়েড (3n) (ঘ) টেট্রাপ্লয়েড (4n)
১.৭ মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষায় F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত কত?
(ক) ১:২:১ (খ) ৩:১ (গ) ৯:৩:৩:১ (ঘ) ১:১
১.৮ মানুষের ক্ষেত্রে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম কোনটি?
(ক) অটোজোম (খ) X ক্রোমোজোম (গ) Y ক্রোমোজোম (ঘ) X ও Y ক্রোমোজোম
১.৯ নিচের কোনটি একটি অটোজোম ঘটিত রোগ?
(ক) হিমোফিলিয়া (খ) বর্ণান্ধতা (গ) থ্যালাসেমিয়া (ঘ) ম্যালেরিয়া
১.১০ পাখির ডানা ও পতঙ্গের ডানা হলো—
(ক) সমসংস্থ অঙ্গ (খ) সমবৃত্তীয় অঙ্গ (গ) নিষ্ক্রিয় অঙ্গ (ঘ) প্রতিস্থাপিত অঙ্গ
১.১১ "অর্জিত গুণের বংশানুসরণ" - মতবাদটির প্রবক্তা কে?
(ক) চার্লস ডারউইন (খ) জঁ ব্যাপটিস্ট ল্যামার্ক (গ) হিউগো দ্য ভ্রিস (ঘ) আলেকজান্ডার ওপারিন
১.১২ উটের লোহিত রক্তকণিকার (RBC) প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—
(ক) গোলাকার ও নিউক্লিয়াসযুক্ত (খ) ডিম্বাকার ও নিউক্লিয়াসবিহীন (গ) গোলাকার ও নিউক্লিয়াসবিহীন (ঘ) ডিম্বাকার ও নিউক্লিয়াসযুক্ত
১.১৩ নাইট্রোজেন চক্রের কোন ধাপে অ্যামোনিয়া থেকে নাইট্রেট উৎপন্ন হয়?
(ক) অ্যামিনিফিকেশন (খ) নাইট্রিফিকেশন (গ) ডিনাইট্রিফিকেশন (ঘ) নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ
১.১৪ পানীয় জলে আর্সেনিকের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কোন রোগ হয়?
(ক) ব্ল্যাকফুট ডিজিজ (খ) মিনামাটা (গ) ইটাই-ইটাই (ঘ) ডিসলেক্সিয়া
১.১৫ সুন্দরবনের পরিবেশগত একটি বড় সমস্যা হলো—
(ক) মিষ্টি জলের অভাব (খ) চোরাশিকার (গ) সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি (ঘ) ওপরের সবকটি
২। নিচের ২৬টি প্রশ্ন থেকে নির্দেশ অনুসারে ২১টি প্রশ্নের উত্তর লেখো: (১ × ২১ = ২১)
নিচের বাক্যগুলির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও (যে কোনো পাঁচটি): (১ × ৫ = ৫)
২.২ ক্রোমোজোমের যে নির্দিষ্ট স্থানে সিস্টার ক্রোমাটিড দুটি পরস্পর যুক্ত থাকে তাকে _________ বলে।
২.৩ সমসংস্থ ক্রোমোজোমের একই লোকাসে অবস্থিত দুটি অ্যালিল একই প্রকৃতির হলে, তাকে _________ বলে।
২.৪ জীবনের উৎপত্তির আদি পর্যায়ে সৃষ্টি হওয়া তপ্ত লঘু স্যুপ বা _________ তত্ত্বের প্রবক্তা হলেন বিজ্ঞানী হ্যালডেন।
২.৫ বায়ুদূষণের ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া ও কুয়াশার বিষাক্ত মিশ্রণ হলো _________।
২.৬ ভারতে ব্যাঘ্র প্রকল্প বা টাইগার প্রজেক্ট শুরু হয় _________ সালে।
নিচের বাক্যগুলি সত্য অথবা মিথ্যা নিরূপণ করো (যে কোনো পাঁচটি): (১ × ৫ = ৫)
২.৮ অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজনে কোনো বেমতন্তু গঠিত হয় না।
২.৯ মেন্ডেল তাঁর পরীক্ষার জন্য মটর গাছের ৭ জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য নির্বাচন করেছিলেন।
২.১০ ঘোড়ার বিবর্তনে আদিমতম পূর্বপুরুষ হলো ইওহিপ্পাস।
২.১১ জে এফ এম (JFM) প্রথম শুরু হয় পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের আরাবাড়ি অরণ্যে।
২.১২ গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
A-স্তম্ভের সঙ্গে B-স্তম্ভের সম্পর্ক স্থাপন করে লেখো (যে কোনো পাঁচটি): (১ × ৫ = ৫)
| A - স্তম্ভ | B - স্তম্ভ |
|---|---|
| ২.১৩ ফ্লেক্সর পেশি | (ক) পরাগরেণু, শুক্রাণু সংরক্ষণ |
| ২.১৪ মায়োসিস | (খ) SO2 এবং NO2 |
| ২.১৫ ক্রায়োসংরক্ষণ | (গ) বাইসেপস |
| ২.১৬ অম্লবৃষ্টি | (ঘ) শ্বাসমূল |
| ২.১৭ সুন্দরী গাছ | (ঙ) হ্রাস বিভাজন |
| ২.১৮ ক্যাকটাস | (চ) পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত |
একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাও (যে কোনো ছটি): (১ × ৬ = ৬)
২.২০ মানব চক্ষুতে অবস্থিত লেন্সের প্রধান কাজ কী?
২.২১ সম্পর্ক বুঝে শূন্যস্থান পূরণ করো: পিউরিন : অ্যাডেনিন :: পিরিমিডিন : _________।
২.২২ বিশুদ্ধ লম্বা (TT) এবং বিশুদ্ধ খর্ব (tt) মটর গাছের সংকরায়ণে F1 জনুতে কী ধরনের গাছ উৎপন্ন হবে?
২.২৩ হিমোফিলিয়া রোগের ক্ষেত্রে মহিলারা বাহক হলেও পুরুষরা কেন সহজে আক্রান্ত হয়?
২.২৪ রুই মাছের পটকায় গ্যাস শোষণকারী প্রকোষ্ঠ বা অঙ্গটির নাম কী?
২.২৫ নিচের চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটি একটি বিষয়ের অন্তর্গত, সেটি খুঁজে বার করো: জাতীয় উদ্যান, ইন-সিটু সংরক্ষণ, অভয়ারণ্য, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ।
২.২৬ পরিবেশ থেকে জীববৈচিত্র্য হ্রাসের একটি প্রধান কারণ উল্লেখ করো।
৩। নিচের ১৭টি প্রশ্ন থেকে যে কোনো ১২টি প্রশ্নের উত্তর ২-৩টি বাক্যে লেখো: (২ × ১২ = ২৪)
৪। নিচের ৬টি প্রশ্ন বা তার বিকল্প প্রশ্নের উত্তর লেখো: (৫ × ৬ = ৩০)
৪.১ একটি আদর্শ নিউরোনের পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো: (ক) ডেনড্রন (খ) অ্যাক্সন (গ) মায়োলিন শিথ (ঘ) সোয়ান কোশ। (৩ + ২ = ৫)
অথবা,
একটি ইউক্যারিওটিক ক্রোমোজোমের অঙ্গসংস্থানের পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো: (ক) ক্রোমাটিড (খ) সেন্ট্রোমিয়ার (গ) টেলোমিয়ার (ঘ) স্যাটেলাইট। (৩ + ২ = ৫)
৪.২ মাইটোসিস ও মায়োসিস কোশ বিভাজনের মধ্যে তিনটি মূল পার্থক্য লেখো। ফার্নের জনুক্রম একটি রেখাচিত্রের সাহায্যে সংক্ষেপে দেখাও। (৩ + ২ = ৫)
অথবা,
সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননে দ্বিনিষেক পদ্ধতি সংক্ষেপে আলোচনা করো। স্ব-পরাগযোগের তুলনায় ইতর-পরাগযোগের দুটি সুবিধা লেখো। (৩ + ২ = ৫)
৪.৩ গিনিপিগের ক্ষেত্রে একটি দ্বিসংকর জনন পরীক্ষা চেকার বোর্ডের সাহায্যে দেখাও এবং ফিনোটাইপিক অনুপাতটি লেখো। (৩ + ২ = ৫)
অথবা,
বর্ণান্ধতার প্রধান কারণ কী? একজন স্বাভাবিক কিন্তু বর্ণান্ধতার বাহক মহিলার সঙ্গে একজন বর্ণান্ধ পুরুষের বিবাহ হলে, তাদের সন্তানদের বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কতটা তা চেকার বোর্ডের সাহায্যে বিশ্লেষণ করো। (২ + ৩ = ৫)
৪.৪ ল্যামার্কের বিবর্তন তত্ত্বের প্রধান প্রতিপাদ্য বিষয়গুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো। (৫)
অথবা,
ক্যাকটাসের পাতা কীভাবে কাঁটায় রূপান্তরিত হয়েছে এবং এর কারণ কী? রুই মাছের জলজ অভিযোজনে পটকার অগ্র ও পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠের ভূমিকা লেখো। (২ + ৩ = ৫)
৪.৫ পরিবেশে নাইট্রোজেন চক্রের বিভিন্ন পর্যায়গুলি একটি রেখাচিত্র বা ফ্লোচার্টের (Flow chart) সাহায্যে দেখাও। (৫)
অথবা,
বায়ুদূষণের প্রধান তিনটি কারণ বিস্তারিত আলোচনা করো। বিশ্ব উষ্ণায়নে ভূমিকা পালনকারী দুটি গ্রিনহাউস গ্যাসের নাম লেখো। (৩ + ২ = ৫)
৪.৬ সুন্দরবন অঞ্চলের প্রধান তিনটি পরিবেশগত সমস্যা বর্ণনা করো। বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে JFM-এর ভূমিকা কী? (৩ + ২ = ৫)
অথবা,
ইন-সিটু এবং এক্স-সিটু সংরক্ষণের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। ভারতের একটি জাতীয় উদ্যান এবং পশ্চিমবঙ্গের একটি অভয়ারণ্যের নাম উল্লেখ করো। (৩ + ২ = ৫)
শূন্যস্থান পূরণ:
২.১ অক্সিন (Auxin)।
২.২ সেন্ট্রোমিয়ার (Centromere)।
২.৩ হোমোজাইগাস (বিশুদ্ধ)।
২.৪ হট ডাইলিউট স্যুপ (Hot dilute soup)।
২.৫ ধোঁয়াশা বা স্মগ (Smog)।
২.৬ ১৯৭৩ সালে।
সত্য / মিথ্যা নিরূপণ:
২.৭ মিথ্যা (মেডুলারি বা মায়োলিন আবরণী ইনসুলেটর হিসেবে কাজ করে স্নায়ুস্পন্দনের দ্রুত পরিবহনে সাহায্য করে)।
২.৮ সত্য
২.৯ সত্য
২.১০ সত্য
২.১১ সত্য
২.১২ মিথ্যা (গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে)।
A-স্তম্ভ ও B-স্তম্ভ সমতা বিধান:
২.১৩ ফ্লেক্সর পেশি — (গ) বাইসেপস
২.১৪ মায়োসিস — (ঙ) হ্রাস বিভাজন
২.১৫ ক্রায়োসংরক্ষণ — (ক) পরাগরেণু, শুক্রাণু সংরক্ষণ
২.১৬ অম্লবৃষ্টি — (খ) SO2 এবং NO2
২.১৭ সুন্দরী গাছ — (ঘ) শ্বাসমূল
২.১৮ ক্যাকটাস — (চ) পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত
একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর:
২.১৯ বিসদৃশ: পনস (বাকিগুলি অগ্রমস্তিষ্কের অংশ, কিন্তু পনস হলো পশ্চাৎ মস্তিষ্কের অংশ)।
২.২০ লেন্সের কাজ: চোখের লেন্সের বক্রতা পরিবর্তন করে আলোর সঠিক প্রতিসরণ ঘটিয়ে রেটিনায় বস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠন করা।
২.২১ শূন্যস্থান: থাইমিন বা সাইটোসিন (DNA-এর ক্ষেত্রে)।
২.২২ উদ্ভিদের প্রকৃতি: সমস্ত গাছই সংকর লম্বা (Tt) হবে।
২.২৩ কারণ: হিমোফিলিয়া একটি X-ক্রোমোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন রোগ। পুরুষদের দেহে মাত্র একটি X ক্রোমোজোম (XY) থাকায় তাতে প্রচ্ছন্ন অ্যালিলটি থাকলেই রোগ প্রকাশ পায়; অন্যদিকে মহিলাদের দুটি X ক্রোমোজোম থাকায় তারা সাধারণত বাহক হয়।
২.২৪ গ্যাস শোষণকারী অঙ্গ: ওভাল বা ওভালি (Ovale) — যা পটকার পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে অবস্থিত।
২.২৫ সাধারণ বিষয়: ইন-সিটু সংরক্ষণ (বাকি তিনটি হলো ইন-সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ)।
২.২৬ কারণ: নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস বা চোরাশিকার।
৩.১ ট্রপিক ও ন্যাস্টিক চলনের পার্থক্য:
১. ট্রপিক চলন উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ দ্বারা নির্ধারিত বৃদ্ধিজনিত চলন, কিন্তু ন্যাস্টিক চলন উদ্দীপকের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ঘটে এমন রসস্ফীতিজনিত বা অস্থায়ী বক্রচলন।
২. ট্রপিক চলনে উদ্ভিদ হরমোন অক্সিনের প্রভাব সুস্পষ্ট, কিন্তু ন্যাস্টিক চলনে হরমোনের কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকে না।
৩.২ থাইরক্সিনের কাজ:
১. মানবদেহের সামগ্রিক মৌল বিপাকীয় হার বা BMR (Basal Metabolic Rate) বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রণ করা।
২. দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিশেষ করে অস্থি ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ বজায় রাখা।
৩.৩ প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex Action):
বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনার প্রভাবে তাৎক্ষণিকভাবে মস্তিষ্কের নির্দেশ ছাড়াই সুষুম্নাকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণে সম্পন্ন হওয়া দ্রুত, অনৈচ্ছিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়াকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।
উদাহরণ: চোখের সামনে হঠাৎ কোনো পোকা উড়ে আসলে সাথে সাথে চোখের পাতা বন্ধ হয়ে যাওয়া।
৩.৪ সেন্ট্রোজোমের ভূমিকা:
প্রাণী কোশ বিভাজনের প্রোফেজ দশায় সেন্ট্রোজোমের সেন্ট্রিওল দুটি পরস্পর বিপরীত মেরুতে গমন করে এবং অ্যাস্ট্রাল রশ্মি বিচ্ছুরণের মাধ্যমে বেমতন্তু (Spindle fibre) গঠন করে, যা মেটাফেজ ও অ্যানাফেজ দশায় ক্রোমোজোমের পৃথকীকরণে সাহায্য করে।
৩.৫ মাইক্রোপ্রোপাগেশন (Micropropagation):
যে কৃত্রিম জনন পদ্ধতিতে উদ্ভিদের কোনো ক্ষুদ্র দেহাংশ, কলা বা কোশকে (এক্সপ্লান্ট) টেস্টটিউবে নির্দিষ্ট পুষ্টিমাধ্যমে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে কালচার করে ক্যালাস ও এমব্রয়েড গঠনের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে অসংখ্য রোগমুক্ত চারাগাছ (প্লান্টলেট) উৎপাদন করা হয়, তাকে মাইক্রোপ্রোপাগেশন বলে।
৩.৬ অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোমের পার্থক্য:
১. অটোজোম জীবের যাবতীয় দৈহিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে (মানুষের দেহে ৪৪টি বা ২২ জোড়া থাকে)।
২. সেক্স ক্রোমোজোম বা অ্যালোজোম জীবের লিঙ্গ (স্ত্রী বা পুরুষ) নির্ধারণে অংশ নেয় (মানুষের দেহে ২টি বা ১ জোড়া—XX বা XY থাকে)।
৩.৭ মটর গাছ নির্বাচনের দুটি কারণ:
১. মটর গাছ একবর্ষজীবী ও দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে, ফলে খুব অল্প সময়ে বহু জনু ধরে সংকরায়ণের ফলাফল পাওয়া সম্ভব।
২. মটর গাছে বহু স্পষ্ট বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের (যেমন- লম্বা ও বেঁটে, হলুদ ও সবুজ বীজ) উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
৩.৮ থ্যালাসেমিয়ার উপসর্গ:
১. লোহিত রক্তকণিকা ভঙ্গুর হওয়ায় এবং হিমোগ্লোবিন সংশ্লেষ ব্যাহত হওয়ায় দেহে মারাত্মক রক্তাল্পতা (Anemia) দেখা দেয়।
২. বারবার রক্ত সঞ্চালনের ফলে দেহে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন বা লোহা জমে যকৃৎ, প্লীহা ও হৃদযন্ত্র অকেজো হয়ে পড়ে।
৩.৯ সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গের পার্থক্য:
সমসংস্থ অঙ্গের ভ্রূণীয় উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ কঙ্কাল কাঠামো এক, কিন্তু কাজ ভিন্ন (যেমন- পাখির ডানা ও মানুষের হাত — অপসারী বিবর্তন)। অন্যদিকে, সমবৃত্তীয় অঙ্গের ভ্রূণীয় উৎপত্তি ভিন্ন, কিন্তু পরিবেশের প্রয়োজনে কাজ একই (যেমন- পাখির ডানা ও প্রজাপতির ডানা — অভিসারী বিবর্তন)।
৩.১০ যোগ্যতমের উদ্বর্তন:
ডারউইনের মতে, জীবনসংগ্রামে লিপ্ত জীবদের মধ্যে যাদের দেহে অনুকূল পরিবেশোপযোগী প্রকরণ বা ভেদ থাকে, কেবল তারাই জীবনসংগ্রামে জয়ী হয়ে বেঁচে থাকার অধিকার লাভ করে এবং বংশবৃদ্ধি করে। প্রতিকূল ভেদযুক্ত জীবরা ক্রমশ অবলুপ্ত হয়। এটিই হলো যোগ্যতমের উদ্বর্তন।
৩.১১ পায়রার বায়ুথলির গুরুত্ব:
১. ওড়ার সময় ফুসফুসের সাথে অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে নিরবচ্ছিন্ন দ্বৈত শ্বাসকার্যে (Double respiration) সাহায্য করে।
২. বায়ুথলিগুলি বায়ুপূর্ণ হয়ে দেহের আপেক্ষিক গুরুত্ব কমিয়ে ওড়ার সময় শরীরকে হালকা রাখে।
৩.১২ নাইট্রিফিকেশন:
মাটিতে উপস্থিত অ্যামোনিয়া বিশ্লিষ্ট হয়ে ব্যাক্টেরিয়ার প্রভাবে প্রথমে নাইট্রাইট (NO2-) এবং পরবর্তীতে নাইট্রেটে (NO3-) রূপান্তরিত হওয়ার জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়াকে নাইট্রিফিকেশন বলে।
নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া: Nitrosomonas এবং Nitrobacter।
৩.১৩ বিশ্ব উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব:
১. মেরু অঞ্চলের বিশালাকার হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা উপকূলীয় ব-দ্বীপ অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
২. বিশ্বজুড়ে জলবায়ুর চরম পরিবর্তন ঘটছে; খরা, অতিবৃষ্টি, শক্তিশালী সাইক্লোন ইত্যাদির প্রাদুর্ভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৩.১৪ ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication):
কৃষিক্ষেত্র থেকে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার (নাইট্রেট ও ফসফেট) বৃষ্টির জলে ধুয়ে জলাশয়ে জমলে জলের পুষ্টিমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়। এর ফলে কচুরিপানা ও শৈবালের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে (অ্যালগাল ব্লুম)। পরবর্তীতে এই উদ্ভিদের মৃত্যুর পর তাদের পচনের জন্য ব্যাকটেরিয়া জলের দ্রবীভূত সমস্ত অক্সিজেন শোষণ করে নেয়, ফলে অক্সিজেনের অভাবে মাছ ও জলজ প্রাণীরা মারা যায়।
৩.১৫ PBR-এর ভূমিকা:
PBR (People's Biodiversity Register) হলো স্থানীয় স্তরের জীববৈচিত্র্য, ভেষজ উদ্ভিদ, বন্যপ্রাণী এবং তাদের সংরক্ষণে সাধারণ মানুষের প্রথাগত জ্ঞানের একটি সরকারি দলিল। এটি দেশীয় প্রজাতির ওপর স্থানীয় অধিকার বজায় রাখে এবং কোনো বহুজাতিক সংস্থাকে জৈবচুরি (Biopiracy) করতে বাধা দেয়।
৩.১৬ রেড পান্ডা সংরক্ষণ:
১. অবৈধ চোরাশিকার বন্ধে কড়া আইন প্রণয়ন এবং এদের বাসস্থান সংলগ্ন অঞ্চলে মানুষের অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ করা।
২. এদের প্রধান খাদ্য হলো বাঁশগাছের কচি পাতা; তাই পূর্ব হিমালয়ের পাহাড়ি বনাঞ্চলে বাঁশবন ধ্বংস রোধ ও নতুন বাঁশ গাছ রোপণ করা।
৩.১৭ এক্স-সিটু সংরক্ষণ:
বিপন্ন কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীকে তার প্রাকৃতিক বাসস্থানের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে সরিয়ে এনে মানুষের কৃত্রিম তদারকিতে সুরক্ষিত স্থানে বংশবৃদ্ধি ও সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে এক্স-সিটু সংরক্ষণ বলে।
উদাহরণ: আলিপুর চিড়িয়াখানা, শিবপুর আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু বোটানিক্যাল গার্ডেন।
৪.১ চিত্রাঙ্কন:
(পরীক্ষার্থীদের একটি আদর্শ নিউরোন অথবা ইউক্যারিওটিক ক্রোমোজোমের চিত্র পেন্সিলে পরিচ্ছন্নভাবে এঁকে নির্দেশিত অংশগুলি ডানদিকে চিহ্নিত করতে হবে। সঠিক চিত্রের জন্য ৩ নম্বর এবং ৪টি সঠিক চিহ্নিতকরণের জন্য ২ নম্বর দেওয়া হয়।)
৪.২ মাইটোসিস ও মায়োসিসের পার্থক্য:
১. সংঘটন স্থান: মাইটোসিস প্রধানত জীবের দেহ মাতৃকোশে ঘটে; মায়োসিস জনন মাতৃকোশ বা রেণু মাতৃকোশে ঘটে।
২. ক্রোমোজোম সংখ্যা: মাইটোসিসে অপত্য কোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোশের সমান থাকে (সমবিভাজন); মায়োসিসে অপত্য কোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোশের অর্ধেক হয়ে যায় (হ্রাস বিভাজন)।
৩. অপত্য কোশের সংখ্যা: একবার মাইটোসিস বিভাজনে ২টি ডিপ্লয়েড (2n) অপত্য কোশ গঠিত হয়; মায়োসিসে চার ধাপে ৪টি হ্যাপ্লয়েড (n) অপত্য কোশ তৈরি হয়।
ফার্নের জনুক্রম (রেখাচিত্র):
রেণুধর উদ্ভিদ (2n) → রেণু মাতৃকোশ (2n) → (মায়োসিস বিভাজন) → রেণু (n) → লিঙ্গধর উদ্ভিদ/প্রোথ্যালাস (n) → পুংধানী ও স্ত্রীধানী → শুক্রাণু (n) ও ডিম্বাণু (n) → (নিষেক) → জাইগোট (2n) → ভ্রূণ → পুনরায় নতুন রেণুধর উদ্ভিদ (2n)।
অথবা, সপুষ্পক উদ্ভিদের দ্বিনিষেক ও ইতর-পরাগযোগের সুবিধা:
দ্বিনিষেক: পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পড়ে অঙ্কুরিত হয়ে পরাগনালী গঠন করে। পরাগনালী দিয়ে দুটি পুংগ্যামেট (n) ডিম্বকের ভ্রূণস্থলীতে প্রবেশ করে। একটি পুংগ্যামেট (n) ডিম্বাণুকে (n) নিষিক্ত করে ডিপ্লয়েড জাইগোট (2n) তৈরি করে যা পরে ভ্রূণে পরিণত হয়। অপর পুংগ্যামেটটি (n) কেন্দ্রে থাকা ডিপ্লয়েড নির্ণীত নিউক্লিয়াসের (2n) সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড শস্য নিউক্লিয়াস (3n) তৈরি করে। এই যুগপৎ নিষেককে দ্বিনিষেক বলে।
ইতর-পরাগযোগের দুটি সুবিধা:
১. নতুন বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণ ঘটে, ফলে অপত্য উদ্ভিদে প্রকরণ সৃষ্টি হয় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
২. উৎপন্ন বীজগুলি উন্নত মানের, অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন ও অঙ্কুরোদ্গম হার বেশি হয়।
৪.৩ গিনিপিগের দ্বিসংকর জনন (চেকার বোর্ড):
বিশুদ্ধ কালো কর্কশ লোমযুক্ত গিনিপিগ (BBRR) এবং বিশুদ্ধ সাদা মসৃণ লোমযুক্ত গিনিপিগের (bbrr) মিলন ঘটানো হলো।
F1 জনু: উৎপন্ন সমস্ত গিনিপিগ সংকর কালো কর্কশ লোমযুক্ত (BbRr) হবে।
F2 জনু: F1 জনুর গিনিপিগ থেকে ৪ প্রকার গ্যামেট তৈরি হয়— BR, Br, bR, br। চেকার বোর্ডের সাহায্যে F2-তে ১৬টি অপত্যের অনুপাত পাওয়া যায়:
ফিনোটাইপ অনুপাত: কালো কর্কশ (৯) : কালো মসৃণ (৩) : সাদা কর্কশ (৩) : সাদা মসৃণ (১) = ৯:৩:৩:১।
অথবা, বর্ণান্ধতার কারণ ও ক্রসের বিশ্লেষণ:
কারণ: এটি মানুষের X-ক্রোমোজোমে অবস্থিত প্রচ্ছন্ন জিনের মিউটেশনের ফলে ঘটে। এর ফলে চোখের কোন কোশের আয়োডপসিন নামক রঞ্জক প্রোটিন ঠিকমতো সংশ্লেষিত হয় না।
ক্রস: বাহক মহিলা (X+Xc) × বর্ণান্ধ পুরুষ (XcY)।
সন্তানদের জিনোটাইপ ও ফিনোটাইপ:
১. X+Xc — বাহক কন্যা (২৫%)
২. XcXc — বর্ণান্ধ কন্যা (২৫%)
৩. X+Y — স্বাভাবিক পুত্র (২৫%)
৪. XcY — বর্ণান্ধ পুত্র (২৫%)
সম্ভাবনা: সুতরাং, এদের মোট সন্তানদের মধ্যে ৫০% সন্তান (১ জন কন্যা ও ১ জন পুত্র) বর্ণান্ধ হবে।
৪.৪ ল্যামার্কের বিবর্তন তত্ত্বের মূল প্রতিপাদ্য:
১. পরিবেশের প্রভাব: পরিবেশ পরিবর্তিত হলে জীবের প্রয়োজন ও স্বভাবের পরিবর্তন ঘটে, যা নতুন অঙ্গের সৃষ্টির প্রেরণা যোগায়।
২. অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র: যে অঙ্গের ব্যবহার বেশি হয় তা সুগঠিত হয় (যেমন- জিরাফের গলা), আর যে অঙ্গের ব্যবহার কমে যায় তা নিষ্ক্রিয় হয়ে অবলুপ্ত হয় (যেমন- সাপের পা)।
৩. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ: জীবনকালে জীব পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য যেসব নতুন বৈশিষ্ট্য অর্জন করে, তা পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়।
৪. নতুন প্রজাতির উৎপত্তি: যুগ যুগ ধরে অর্জিত বৈশিষ্ট্যের পুঞ্জীভবনের ফলে পূর্বপুরুষ থেকে সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির উৎপত্তি ঘটে।
অথবা, ক্যাকটাস ও রুই মাছের অভিযোজন:
ক্যাকটাসের পাতা: মরুভূমির শুষ্ক পরিবেশে অতিরিক্ত বাষ্পমোচন বন্ধ করার জন্য এবং প্রখর রোদে জল সংরক্ষণের তাগিদে ক্যাকটাসের পাতা কাঁটায় (Spine) রূপান্তরিত হয়েছে। এটি তৃণভোজী প্রাণীদের হাত থেকেও উদ্ভিদকে রক্ষা করে।
রুই মাছের পটকার ভূমিকা: পটকা একটি প্লবতা রক্ষাকারী অঙ্গ। পটকার অগ্র প্রকোষ্ঠে অবস্থিত রেড গ্রন্থি রক্তজালক থেকে গ্যাস শোষণ করে পটকাকে স্ফীত করে, ফলে মাছ হালকা হয়ে জলের ওপরে ভেসে ওঠে। অপরদিকে, পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে অবস্থিত রক্তজালকযুক্ত ওভাল (Ovale) গ্যাস পুনরায় রক্তে শোষণ করে নেয়; এতে পটকা সংকুচিত হয়ে মাছের আপেক্ষিক গুরুত্ব বাড়ে এবং মাছ জলে গভীরে ডুবতে পারে।
৪.৫ নাইট্রোজেন চক্রের পর্যায়সমূহ (ফ্লোচার্ট):
বায়ুমণ্ডলীয় মুক্ত N2 → (নাইট্রোজেন সংবন্ধন: তড়িৎমোচন ও ব্যাক্টেরিয়ার মাধ্যমে) → মাটিতে নাইট্রেট যৌগ (NO3-) → উদ্ভিদ দেহে প্রবেশ → প্রাণিদেহে প্রোটিন গঠন → মৃতদেহ ও রেচন পদার্থ → (অ্যামোনিফিকেশন) → অ্যামোনিয়া (NH3) → (নাইট্রিফিকেশন: নাইট্রোসোমোনাস ও নাইট্রোব্যাক্টর) → পুনরায় নাইট্রেট লবণ → (ডিনাইট্রিফিকেশন: সিউডোমোনাস) → পুনরায় গ্যাসীয় মুক্ত N2 বায়ুমণ্ডলে প্রত্যাবর্তন।
অথবা, বায়ুদূষণের কারণ ও গ্রিনহাউস গ্যাস:
কারণ:
১. কলকারখানা ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে অপরিশোধিত সালফার ডাইঅক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইড গ্যাস বাতাসে মেশা।
২. মোটরযান থেকে নির্গত ক্ষতিকারক কার্বন মনোক্সাইড, ভাসমান কণা (SPM) ও সিসা।
৩. কৃষিক্ষেত্রে আবর্জনা পোড়ানো ও জৈব বর্জ্য থেকে মিথেন নির্গমন।
দুটি গ্রিনহাউস গ্যাস: কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) এবং মিথেন (CH4)।
৪.৬ সুন্দরবনের সমস্যা ও JFM:
সুন্দরবনের সমস্যা: ১. বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বীপগুলি নিমজ্জিত হচ্ছে। ২. মিষ্টি জলের অভাব ও সমুদ্রের লবণাক্ত জলের প্রবেশের ফলে সুন্দরী গাছের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। ৩. চোরাশিকার ও জঙ্গল কাটার কারণে বাঘ ও হরিণের মতো বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক বাসস্থান নষ্ট হচ্ছে।
JFM-এর ভূমিকা: জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে জঙ্গল পাহারা দেয়, চোরাশিকার রোধ করে এবং বনের অপ্রধান সম্পদে গ্রামবাসীদের ন্যায্য অধিকার দিয়ে অরণ্য পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অথবা, সংরক্ষণ ও উদ্যান:
ইন-সিটু ও এক্স-সিটু পার্থক্য: ইন-সিটু সংরক্ষণ নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানে সম্পন্ন হয় (খরচ তুলনামূলক কম ও স্বাভাবিক অভিযোজন বজায় থাকে); এক্স-সিটু সংরক্ষণ কৃত্রিম নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সম্পন্ন হয় (খরচ বেশি ও প্রজননে মানুষের হস্তক্ষেপ থাকে)।
ভারতের একটি জাতীয় উদ্যান: করবেট জাতীয় উদ্যান (উত্তরাখণ্ড) বা কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান (অসম)।
পশ্চিমবঙ্গের একটি অভয়ারণ্য: বেথুয়াডহরী অভয়ারণ্য (নদিয়া) বা চাপড়ামারি অভয়ারণ্য (জলপাইগুড়ি)।
মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান সাজেশন ২০২৭
Full Syllabus - Sample Set-3
(প্রথম ১৫ মিনিট শুধুমাত্র প্রশ্নপত্র পড়ার জন্য)
১। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে তার ক্রমিক সংখ্যাসহ বাক্যটি সম্পূর্ণ করে লেখো: (১ × ১৫ = ১৫)
১.১ বীজ ও মুকুলের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করে অঙ্কুরোদ্গমে সাহায্য করে কোন হরমোন?
(ক) অক্সিন (খ) জিব্বেরেলিন (গ) সাইটোকাইনিন (ঘ) ইথিলিন
১.২ মানবদেহে 'আপৎকালীন হরমোন' বা 'জরুরি হরমোন' নামে পরিচিত—
(ক) থাইরক্সিন (খ) ইনসুলিন (গ) অ্যাড্রিনালিন (ঘ) টেস্টোস্টেরন
১.৩ মানব চক্ষুর যে অংশে বস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠিত হয়, তা হলো—
(ক) কর্নিয়া (খ) লেন্স (গ) রেটিনা (ঘ) আইরিস
১.৪ মায়োসিস কোশ বিভাজনের কোন দশায় ক্রসিং ওভার (Crossing over) ঘটে?
(ক) প্রোফেজ-I (খ) মেটাফেজ-I (গ) অ্যানাফেজ-I (ঘ) টেলোফেজ-I
১.৫ হাইড্রা (Hydra) বা ইস্ট কী পদ্ধতিতে অযৌন জনন সম্পন্ন করে?
(ক) খণ্ডীভবন (খ) কোরকোদ্গম বা বাডিং (গ) রেণু উৎপাদন (ঘ) পুনরুৎপাদন
১.৬ বায়ুর সাহায্যে পরাগযোগ বা অ্যানিমোফিলি (Anemophily) ঘটে যে উদ্ভিদে, তা হলো—
(ক) ধান (খ) আম (গ) পাতাঝাঁজি (ঘ) শিমুল
১.৭ মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষায় F2 জনুতে জিনোটাইপিক অনুপাত কত?
(ক) ৩:১ (খ) ১:২:১ (গ) ৯:৩:৩:১ (ঘ) ১:১
১.৮ মানুষের একটি স্বাভাবিক গ্যামেটে (শুক্রাণু বা ডিম্বাণু) অটোজোমের সংখ্যা হলো—
(ক) ২২ জোড়া (খ) ২২টি (গ) ২৩টি (ঘ) ৪৪টি
১.৯ 'রয়্যাল ডিজিজ' (Royal disease) বা ব্লিডার্স ডিজিজ বলা হয় কোন রোগকে?
(ক) থ্যালাসেমিয়া (খ) বর্ণান্ধতা (গ) হিমোফিলিয়া (ঘ) ক্যানসার
১.১০ সরীসৃপ ও পক্ষী শ্রেণীর বৈশিষ্ট্যের সংযোগরক্ষাকারী প্রাণী জীবাশ্মটি (Missing link) হলো—
(ক) পেরিপেটাস (খ) আর্কিওপটেরিক্স (গ) প্লাটিপাস (ঘ) লাং ফিস
১.১১ "অরিজিন অব স্পিসিস বাই মিনস অব ন্যাচারাল সিলেকশন" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
(ক) জঁ ব্যাপটিস্ট ল্যামার্ক (খ) চার্লস ডারউইন (গ) গ্রেগর জোহান মেন্ডেল (ঘ) জে বি এস হ্যালডেন
১.১২ লবণাক্ত মাটিতে শ্বাসকার্য চালানোর জন্য শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর দেখা যায়—
(ক) পদ্ম গাছে (খ) ক্যাকটাসে (গ) সুন্দরী গাছে (ঘ) পাইন গাছে
১.১৩ নাইট্রোজেন চক্রের কোন ধাপে নাইট্রেট লবণ থেকে পুনরায় গ্যাসীয় নাইট্রোজেন বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায়?
(ক) নাইট্রিফিকেশন (খ) অ্যামিনিফিকেশন (গ) ডিনাইট্রিফিকেশন (ঘ) নাইট্রোজেন সংবন্ধন
১.১৪ পারদ (Mercury) ঘটিত দূষণের ফলে মানবদেহে সৃষ্ট রোগটি হলো—
(ক) ব্ল্যাকফুট ডিজিজ (খ) মিনামাটা (গ) ইটাই-ইটাই (ঘ) ডিসলেক্সিয়া
১.১৫ ভারতের একটি অন্যতম প্রধান জীববৈচিত্র্য হটস্পট (Biodiversity hotspot) হলো—
(ক) থর মরুভূমি (খ) পশ্চিমঘাট পর্বতমালা (গ) গাঙ্গেয় সমভূমি (ঘ) কচ্ছের রান
২। নিচের ২৬টি প্রশ্ন থেকে নির্দেশ অনুসারে ২১টি প্রশ্নের উত্তর লেখো: (১ × ২১ = ২১)
নিচের বাক্যগুলির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও (যে কোনো পাঁচটি): (১ × ৫ = ৫)
২.২ DNA-এর গঠনগত একক হলো _________।
২.৩ কোনো জীবের জিনের কার্যকারিতার ফলে প্রকাশিত বাহ্যিক রূপকে ওই জীবের _________ বলে।
২.৪ "ব্যক্তিজনি জীবজনিকে পুনরাবৃত্তি করে" (Ontogeny recapitulates phylogeny) - এই বায়োজেনেটিক সূত্রের প্রবক্তা হলেন বিজ্ঞানী _________।
২.৫ রেফ্রিজারেটর এবং এসিতে ব্যবহৃত _________ গ্যাস স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ওজোন স্তর ধ্বংসের জন্য প্রধানত দায়ী।
২.৬ গুজরাটের গির (Gir) অরণ্য ভারতীয় _________ সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত।
নিচের বাক্যগুলি সত্য অথবা মিথ্যা নিরূপণ করো (যে কোনো পাঁচটি): (১ × ৫ = ৫)
২.৮ রেণু উৎপাদন (Spore formation) হলো ছত্রাক ও ফার্নের এক প্রকার অযৌন জনন পদ্ধতি।
২.৯ মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে মাতার কোনো সক্রিয় ভূমিকা থাকে না।
২.১০ তিমির ফ্লিপার এবং মানুষের হাত হলো সমবৃত্তীয় অঙ্গের উদাহরণ।
২.১১ অ্যাজমা বা হাঁপানি হলো বায়ুদূষণের ফলে সৃষ্ট একটি দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসজনিত রোগ।
২.১২ WWF-এর পুরো নাম হলো World Wildlife Fund।
A-স্তম্ভের সঙ্গে B-স্তম্ভের সম্পর্ক স্থাপন করে লেখো (যে কোনো পাঁচটি): (১ × ৫ = ৫)
| A - স্তম্ভ | B - স্তম্ভ |
|---|---|
| ২.১৩ সাইটোকাইনিন | (ক) ক্রোমোজোমগুলি কোশের বিষুব অঞ্চলে অবস্থান করে |
| ২.১৪ মেটাফেজ | (খ) ওপারিন |
| ২.১৫ টেস্ট ক্রস | (গ) একশৃঙ্গ গণ্ডার সংরক্ষণ |
| ২.১৬ কোয়াসারভেট | (ঘ) পত্রমোচন বিলম্বিত করে বা বার্ধক্য রোধ করে |
| ২.১৭ BOD | (ঙ) F1 জনুর জীবের সাথে প্রচ্ছন্ন জনিতৃর সংকরায়ণ |
| ২.১৮ কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান | (চ) জলদূষণের মাত্রা পরিমাপ |
একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাও (যে কোনো ছটি): (১ × ৬ = ৬)
২.২০ নিউরোনের অ্যাক্সনে উপস্থিত মায়োলিন শিথ (Myelin sheath)-এর একটি প্রধান কাজ লেখো।
২.২১ সম্পর্ক বুঝে শূন্যস্থান পূরণ করো: প্রোফেজ : নিউক্লিয় পর্দার অবলুপ্তি :: টেলোফেজ : _________।
২.২২ বিশুদ্ধ হলুদ ও গোল বীজযুক্ত মটর গাছের জিনোটাইপ YYRR হলে, সংকর হলুদ ও গোল বীজযুক্ত মটর গাছের জিনোটাইপ কী হবে?
২.২৩ বিবর্তনের যে প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ ভিন্ন উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীব একই পরিবেশে থাকার জন্য সদৃশ অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য লাভ করে, তাকে কী বিবর্তন বলে?
২.২৪ পায়রার প্রধান শ্বাস অঙ্গটির নাম কী?
২.২৫ নিচের চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটি একটি বিষয়ের অন্তর্গত, সেটি খুঁজে বার করো: ভাসমান কণা (SPM), বায়ুদূষণ, অম্লবৃষ্টি, ধোঁয়াশা।
২.২৬ IUCN-এর পুরো নাম লেখো।
৩। নিচের ১৭টি প্রশ্ন থেকে যে কোনো ১২টি প্রশ্নের উত্তর ২-৩টি বাক্যে লেখো: (২ × ১২ = ২৪)
৪। নিচের ৬টি প্রশ্ন বা তার বিকল্প প্রশ্নের উত্তর লেখো: (৫ × ৬ = ৩০)
৪.১ মানুষের অক্ষিগোলকের লম্বচ্ছেদের একটি পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো: (ক) কর্নিয়া (খ) রেটিনা (গ) লেন্স (ঘ) অপটিক স্নায়ু। (৩ + ২ = ৫)
অথবা,
একটি প্রাণী কোশের মাইটোসিস কোশ বিভাজনের মেটাফেজ দশার পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো: (ক) বেমতন্তু (খ) সেন্ট্রোমিয়ার (গ) ক্রোমাটিড (ঘ) সেন্ট্রিওল (অ্যাস্ট্রাল রশ্মি)। (৩ + ২ = ৫)
৪.২ উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও নিয়ন্ত্রণে অক্সিন, জিব্বেরেলিন এবং সাইটোকাইনিন হরমোনের একটি করে প্রধান কাজ আলোচনা করো। সাইন্যাপস (Synapse) কাকে বলে? (৩ + ২ = ৫)
অথবা,
একটি আদর্শ ইউক্যারিওটিক কোশচক্রের (Cell cycle) বিভিন্ন দশাগুলি সংক্ষেপে বর্ণনা করো। G0 দশা কী? (৩ + ২ = ৫)
৪.৩ গিনিপিগের গায়ের রঙের ওপর ভিত্তি করে একটি একসংকর জনন পরীক্ষা চেকার বোর্ডের সাহায্যে দেখাও (বিশুদ্ধ কালো ও বিশুদ্ধ সাদা)। এই পরীক্ষা থেকে মেন্ডেলের কোন্ সূত্রে উপনীত হওয়া যায়? (৩ + ২ = ৫)
অথবা,
মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতি একটি ক্রসের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো। কন্যাসন্তান বা পুত্রসন্তান জন্মানোর ক্ষেত্রে পিতার ভূমিকাই যে প্রধান, তা বুঝিয়ে লেখো। (৩ + ২ = ৫)
৪.৪ ঘোড়ার জীবাশ্মের ধারাবাহিক পরিবর্তনের ইতিহাস সংক্ষেপে বর্ণনা করো (আদিমতম পূর্বপুরুষ থেকে আধুনিক ঘোড়া পর্যন্ত)। (৫)
অথবা,
জিরাফের গলা লম্বা হওয়ার সাপেক্ষে ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বটি ব্যাখ্যা করো। সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গের দুটি পার্থক্য লেখো। (৩ + ২ = ৫)
৪.৫ জলদূষণের প্রধান তিনটি কারণ বিস্তারিত আলোচনা করো। শৈবাল ব্লুম বা অ্যালগাল ব্লুম (Algal bloom) বলতে কী বোঝো? (৩ + ২ = ৫)
অথবা,
প্রকৃতিতে নাইট্রোজেন চক্রে বিভিন্ন অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়ার পর্যায়ক্রমিক ভূমিকা আলোচনা করো। (৫)
৪.৬ জীববৈচিত্র্য হ্রাসের বা অবলুপ্তির প্রধান তিনটি কারণ উপযুক্ত উদাহরণসহ আলোচনা করো। ভারতের দুটি বিপন্ন বন্যপ্রাণীর নাম লেখো। (৩ + ২ = ৫)
অথবা,
ন্যাশনাল পার্ক (জাতীয় উদ্যান) এবং স্যাংচুয়ারি (অভয়ারণ্য)-এর মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে PBR-এর গুরুত্ব কী? (৩ + ২ = ৫)
শূন্যস্থান পূরণ:
২.১ সাইন্যাপস (Synapse) বা প্রান্তসন্নিকর্ষ।
২.২ নিউক্লিওটাইড (Nucleotide)।
২.৩ ফিনোটাইপ (Phenotype)।
২.৪ আর্নস্ট হেকেল (Ernst Haeckel)।
২.৫ ক্লোরোফ্লুরোকার্বন বা CFC।
২.৬ এশিয়াটিক সিংহ (Asiatic Lion)।
সত্য / মিথ্যা নিরূপণ:
২.৭ মিথ্যা (মায়োপিয়া সংশোধনের জন্য অবতল লেন্স যুক্ত চশমা ব্যবহার করা হয়)।
২.৮ সত্য
২.৯ সত্য (মাতা কেবল X ক্রোমোজোম ধারণ করেন; লিঙ্গ নির্ধারিত হয় পিতার X বা Y শুক্রাণুর মিলনে)।
২.১০ মিথ্যা (এগুলি সমসংস্থ অঙ্গের উদাহরণ, কারণ উৎপত্তি ও অস্থিবিন্যাস এক)।
২.১১ সত্য
২.১২ সত্য (World Wildlife Fund / World Wide Fund for Nature)।
A-স্তম্ভ ও B-স্তম্ভ সমতা বিধান:
২.১৩ সাইটোকাইনিন — (ঘ) পত্রমোচন বিলম্বিত করে বা বার্ধক্য রোধ করে
২.১৪ মেটাফেজ — (ক) ক্রোমোজোমগুলি কোশের বিষুব অঞ্চলে অবস্থান করে
২.১৫ টেস্ট ক্রস — (ঙ) F1 জনুর জীবের সাথে প্রচ্ছন্ন জনিতৃর সংকরায়ণ
২.১৬ কোয়াসারভেট — (খ) ওপারিন
২.১৭ BOD — (চ) জলদূষণের মাত্রা পরিমাপ
২.১৮ কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান — (গ) একশৃঙ্গ গণ্ডার সংরক্ষণ
একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর:
২.১৯ বিসদৃশ: টেস্টোস্টেরন (বাকি তিনটি হরমোন পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত ট্রপিক হরমোন, কিন্তু টেস্টোস্টেরন শুক্রাশয় ক্ষরিত জনন হরমোন)।
২.২০ মায়োলিন শিথের কাজ: নিউরোনের অ্যাক্সনে তড়িৎ অন্তরক (Insulator) হিসেবে কাজ করে স্নায়ুস্পন্দনের দ্রুত ও লম্ফ সঞ্চালন (Saltatory conduction) ঘটানো।
২.২১ শূন্যস্থান: নিউক্লিয় পর্দার পুনরাবির্ভাব।
২.২২ জিনোটাইপ: YyRr
২.২৩ বিবর্তনের প্রক্রিয়া: অভিসারী বিবর্তন (Convergent evolution)।
২.২৪ প্রধান শ্বাস অঙ্গ: ফুসফুস (যা ৯টি বায়ুথলির সঙ্গে যুক্ত)।
২.২৫ সাধারণ বিষয়: বায়ুদূষণ (বাকি তিনটি হলো বায়ুদূষণের বিভিন্ন উপাদান বা ফল)।
২.২৬ পুরো নাম: International Union for Conservation of Nature.
৩.১ স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোনের দুটি কার্যকরী পার্থক্য:
১. স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে উদ্দীপনা বিদ্যুৎ-রাসায়নিক তরঙ্গের মতো অত্যন্ত দ্রুত পরিবাহিত হয়; কিন্তু হরমোনের ক্রিয়া রক্তের মাধ্যমে বাহিত হওয়ায় অত্যন্ত ধীর ও মন্থর গতিতে ঘটে।
২. স্নায়ুতন্ত্রের প্রভাব তাৎক্ষণিক ও ক্ষণস্থায়ী; কিন্তু হরমোনের প্রভাব দূরবর্তী অঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী হয়।
৩.২ পিটুইটারি গ্রন্থিকে 'প্রভু গ্রন্থি' বলার কারণ:
মানবদেহে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত একাধিক ট্রপিক হরমোন (যেমন- TSH, ACTH, GTH) শরীরের অন্যান্য প্রধান অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির (যেমন- থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল কর্টেক্স, শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়) ক্ষরণ ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে 'প্রভু গ্রন্থি' বা মাস্টার গ্ল্যান্ড বলা হয়।
৩.৩ অন্ধবিন্দু (Blind Spot):
রেটিনা এবং অপটিক স্নায়ুর মিলনস্থলে কোনো আলোকসংবেদী কোশ (রড কোশ ও কোন কোশ) উপস্থিত থাকে না। ফলে চোখের এই নির্দিষ্ট বিন্দুতে বস্তুর কোনো প্রতিবিম্ব গঠিত হতে পারে না বা আলো পড়লেও দেখার অনুভূতি জাগে না। তাই একে অন্ধবিন্দু বলে।
৩.৪ কোশে DNA-এর দুটি প্রধান কাজ:
১. জীবের জিনগত তথ্য বা বংশানুক্রমিক বৈশিষ্ট্যগুলিকে এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে অবিকল বহন করে নিয়ে যাওয়া।
২. ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে RNA তৈরির নির্দেশ প্রদান করে কোশের প্রোটিন সংশ্লেষ ও যাবতীয় বিপাকীয় কার্যক্রম প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
৩.৫ মায়োসিসে ক্রসিং ওভারের গুরুত্ব:
মায়োসিস-I এর প্যাকাইটিন উপদশায় সমসংস্থ ক্রোমোজোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে দেহাংশের বিনিময়ের ফলে জিনের নতুন সমন্বয় বা রিকম্বিনেশন ঘটে। এর ফলস্বরূপ অপত্য জীবে নতুন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বা ভেদ (Variation) সৃষ্টি হয়, যা জৈব বিবর্তনের কাঁচামাল হিসেবে কাজ করে।
৩.৬ ইতর পরাগযোগের দুটি সুবিধা:
১. দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের পরাগ ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটায় অপত্য উদ্ভিদে নতুন জিনগত বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণ ঘটে এবং উন্নত প্রকরণ তৈরি হয়।
২. উৎপন্ন বীজগুলি অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে।
৩.৭ ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপের দুটি পার্থক্য:
১. কোনো জীবের বাহ্যিক পর্যবেক্ষণযোগ্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে ফিনোটাইপ বলে; অন্যদিকে জীবের সেই বৈশিষ্ট্য নির্ধারণকারী জিনগত গঠন বা বিন্যাসকে জিনোটাইপ বলে।
২. বাইরে থেকে দেখে ফিনোটাইপ সরাসরি নির্ণয় করা যায়; কিন্তু জিনোটাইপ শুধুমাত্র বাইরে থেকে দেখে জানা যায় না, বংশগতির ক্রসের সাহায্যে নির্ধারণ করতে হয়।
৩.৮ অসম্পূর্ণ প্রকটতা:
মেন্ডেলের প্রকটতা সূত্রকে অতিক্রম করে যখন কোনো বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত বিশুদ্ধ জীবে সংকরায়ণ ঘটালে F1 জনুতে কোনো অ্যালিলই সম্পূর্ণরূপে প্রকট না হয়ে একটি মিশ্র বা অন্তর্বর্তী বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায়, তাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলে।
উদাহরণ: সন্ধ্যামালতী গাছে বিশুদ্ধ লাল ফুল (RR) এবং বিশুদ্ধ সাদা ফুলের (rr) ক্রসে F1 জনুতে সংকর গোলাপি ফুল (Rr) উৎপন্ন হওয়া।
৩.৯ স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র:
দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত একই প্রজাতির জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে, গ্যামেট গঠনকালে বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী অ্যালিলগুলি কেবল পরস্পরের থেকে পৃথকই হয় না, পরন্তু সম্ভাব্য সকল প্রকার সমন্বয়ে স্বাধীনভাবে অপত্যের জননকোশে সঞ্চারিত হয়।
৩.১০ নিষ্ক্রিয় বা ভেস্টিজিয়াল অঙ্গ:
যেসব অঙ্গ পূর্বপুরুষের দেহে সক্রিয় ও সুগঠিত ছিল, কিন্তু পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে ব্যবহারের অভাবে বর্তমানে কর্মক্ষমতা হারিয়ে অবলুপ্তপ্রায় বা কার্যহীন অবস্থায় অবস্থান করছে, তাদের নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে।
উদাহরণ: মানুষের বৃহদন্ত্রের সিকামের সাথে যুক্ত ভার্মিফর্ম অ্যাপেনডিক্স (Vermiform appendix) বা চোখের নিকটিটেটিং পর্দা।
৩.১১ জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম:
ফল মাতৃউদ্ভিদে যুক্ত থাকা অবস্থাতেই ফলের অভ্যন্তরে বীজের অঙ্কুরোদ্গম ঘটে দীর্ঘ ভ্রূণমূল বের হয়ে আসাকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম বলে।
কারণ: সুন্দরবনের মতো লবণাম্বু অঞ্চলে মাটিতে অক্সিজেনের তীব্র অভাব থাকে এবং মাটির অত্যধিক লবণাক্ততার কারণে মাটিতে বীজ পড়লে তা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যেত। তাই বংশরক্ষার অভিযোজন হিসেবে সুন্দরী, গরান প্রভৃতি গাছে এটি দেখা যায়।
৩.১২ অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম:
ডারউইনের মতে, জ্যামিতিক হারে জীববৃদ্ধি পেলেও খাদ্য ও বাসস্থান সীমিত। তাই জীবনধারণ ও বংশবৃদ্ধির অধিকার অর্জনের জন্য জীবকে অনবরত তিনটি স্তরে লিপ্ত হতে হয়— (১) স্বপ্রজাতির মধ্যে অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম, (২) ভিন্ন প্রজাতির সাথে আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম, এবং (৩) বন্যা, খরা প্রভৃতি প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম। একেই অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম বলে।
৩.১৩ জৈব বিবর্ধন (Biomagnification):
পরিবেশে উপস্থিত বিভিন্ন বিষাক্ত অপাচ্য রাসায়নিক ও ভারী ধাতু (যেমন- DDT, পারদ) খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে খাদ্যস্তরের (Trophic level) বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতিটি পুষ্টিস্তরের জীবের চর্বি ও কলাতে ক্রমশ উচ্চতর ঘনত্বে পুঞ্জীভূত হওয়ার ঘটনাকে জৈব বিবর্ধন বলে।
৩.১৪ শব্দদূষণের দুটি ক্ষতিকর প্রভাব:
১. দীর্ঘ সময় ৬৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দের মধ্যে থাকলে অন্তঃকর্ণের ককলিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মানুষের স্থায়ী বধিরতা (Deafness) ঘটতে পারে।
২. অতিরিক্ত শব্দ মানসিক উত্তেজনা বাড়ায়, ফলে রক্তচাপ দ্রুত বৃদ্ধি পায়, হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয় এবং ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রা দেখা দেয়।
৩.১৫ হটস্পট ঘোষণার দুটি মূল শর্ত:
১. অঞ্চলটিতে অন্তত ১,৫০০টি সংবহনকলাযুক্ত স্থানীয় বা এন্ডেমিক উদ্ভিদ প্রজাতি থাকতে হবে, যা পৃথিবীর আর কোথাও মেলে না।
২. অঞ্চলটির আদি প্রাকৃতিক বাসস্থানের অন্তত ৭০% অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত বা চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকতে হবে।
৩.১৬ ব্যাঘ্র প্রকল্পের দুটি উদ্দেশ্য:
১. ভারতে বাঘের চোরাশিকার ও চামড়া-হাড় পাচার সম্পূর্ণ বন্ধ করে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
২. বনের বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য বজায় রেখে বাঘের স্বাভাবিক বাসস্থান ও শিকারযোগ্য তৃণভোজী প্রাণীদের সংরক্ষণ করা।
৩.১৭ কোর অঞ্চল ও বাফার অঞ্চল:
কোর অঞ্চল: বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের একেবারে কেন্দ্রস্থ আইনত সুরক্ষিত অংশ, যেখানে বনদপ্তরের বিশেষ অনুমতি ব্যতীত সাধারণ মানুষের প্রবেশ, পশুচারণ বা গাছ কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বাফার অঞ্চল: কোর অঞ্চলকে ঘিরে থাকা মধ্যবর্তী অঞ্চল, যেখানে পরিবেশের ক্ষতি না করে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশবান্ধব পর্যটন অনুমোদিত থাকে।
৪.১ চিত্রাঙ্কন:
(পরীক্ষার্থীদের মানুষের চোখের অক্ষিগোলকের লম্বচ্ছেদ অথবা প্রাণী কোশের মাইটোসিসের মেটাফেজ দশার পরিচ্ছন্ন চিত্র পেন্সিলে এঁকে ডানদিকে নির্দেশিত অংশ চারটি পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত করতে হবে। সঠিক ড্রয়িংয়ের জন্য ৩ এবং চিহ্নিতকরণের জন্য ২ নম্বর থাকে।)
৪.২ উদ্ভিদ হরমোনের কাজ ও সাইন্যাপস:
অক্সিনের কাজ: অগ্রস্থ প্রকটতা ঘটিয়ে উদ্ভিদের শীর্ষ মুকুলের বৃদ্ধি ঘটানো এবং কোশের উল্লম্ব প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করা।
জিব্বেরেলিনের কাজ: পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটিয়ে খর্ব উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটানো এবং বীজের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করে অঙ্কুরোদ্গমে সহায়তা করা।
সাইটোকাইনিনের কাজ: উদ্ভিদের কোশ বিভাজন ত্বরান্বিত করা এবং ক্লোরোফিল বিনষ্ট রোধ করে পত্রমোচন বিলম্বিত করার মাধ্যমে বার্ধক্য রোধ করা।
সাইন্যাপস (Synapse): দুটি নিউরোনের সংযোগস্থল, যেখানে প্রথম নিউরোনের অ্যাক্সনের প্রান্তবুরুশ পরের নিউরোনের ডেনড্রাইটের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করে সূক্ষ্ম ফাঁক তৈরি করে (সাইন্যাপটিক ক্লেফট) এবং নিউরোট্রান্সমিটার (অ্যাসিটাইলকোলিন)-এর সাহায্যে স্নায়ুস্পন্দন এক নিউরোন থেকে অন্য নিউরোনে একমুখীভাবে প্রবাহিত হয়, তাকে সাইন্যাপস বলে।
অথবা, কোশচক্রের দশা ও G0 দশা:
কোশচক্রের দশা: কোশচক্র প্রধানত দুটি পর্বে বিভক্ত— ইন্টারফেজ (প্রস্তুতি পর্ব) ও মাইটোটিক বা M ফেজ (বিভাজন পর্ব)।
১. G1 দশা: কোশের প্রাথমিক বৃদ্ধি, বিভিন্ন ধরনের RNA এবং প্রোটিন ও উৎসেচক সংশ্লেষিত হয়।
২. S দশা: নিউক্লিয়াসে হিস্টোন প্রোটিন গঠিত হয় এবং DNA-এর প্রতিরূপ সৃষ্টির মাধ্যমে জিনগত পদার্থ দ্বিগুণ হয়।
৩. G2 দশা: বেমতন্তু গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় টিউবিউলিন প্রোটিন এবং ATP সংশ্লেষিত হয়ে কোশ বিভাজনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।
৪. M ফেজ: প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজের মাধ্যমে ক্যারিওকাইনেসিস ও পরে সাইটোকাইনেসিস দ্বারা অপত্য কোশ তৈরি হয়।
G0 দশা: কোশচক্রের এমন একটি সুপ্ত বা বিশ্রামরত দশা, যেখানে কোশটি বিপাকীয়ভাবে সক্রিয় থাকলেও DNA সংশ্লেষ না ঘটিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কোশ বিভাজন বন্ধ রাখে। যেমন- পরিণত মানব স্নায়ুকোশ বা লোহিত রক্তকণিকা।
৪.৩ গিনিপিগের একসংকর জনন ও মেন্ডেলের সূত্র:
বিশুদ্ধ কালো লোমযুক্ত গিনিপিগ (BB) ও বিশুদ্ধ সাদা লোমযুক্ত গিনিপিগের (bb) মধ্যে সংকরায়ণ ঘটানো হলো।
F1 জনু: গ্যামেট B এবং b মিলিত হয়ে সমস্ত অপত্য সংকর কালো লোমযুক্ত (Bb) হয়।
F2 জনু: F1-এর দুটি সংকর কালোর (Bb × Bb) মিলনে চেকার বোর্ডের ফলাফল নিম্নরূপ:
- BB (বিশুদ্ধ কালো) = ১টি
- Bb (সংকর কালো) = ২টি
- bb (বিশুদ্ধ সাদা) = ১টি
অনুপাত: ফিনোটাইপ অনুপাত ৩ (কালো) : ১ (সাদা)। জিনোটাইপ অনুপাত ১ : ২ : ১।
উপনীত সূত্র: এই পরীক্ষা থেকে মেন্ডেলের প্রথম সূত্র বা 'পৃথগভবন সূত্র' (Law of Segregation)-এ উপনীত হওয়া যায়।
অথবা, মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ ও পিতার ভূমিকা:
মানবদেহে পুরুষরা হেটারোগ্যামেটিক (৪৪ অটোজোম + XY) এবং মহিলারা হোমোগ্যামেটিক (৪৪ অটোজোম + XX)।
ক্রস বিশ্লেষণ:
পিতা (৪৪A + XY) → দুই ধরনের শুক্রাণু উৎপন্ন করে: (২২A + X) এবং (২২A + Y)।
মাতা (৪৪A + XX) → এক ধরনের ডিম্বাণু উৎপন্ন করে: (২২A + X)।
সন্তানের লিঙ্গ:
১. পিতার (২২A + X) শুক্রাণু মাতার ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলে তৈরি হয় (৪৪A + XX) = কন্যাসন্তান (৫০%)।
২. পিতার (২২A + Y) শুক্রাণু মাতার ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলে তৈরি হয় (৪৪A + XY) = পুত্রসন্তান (৫০%)।
সিদ্ধান্ত: যেহেতু মাতার ডিম্বাণুতে শুধুমাত্র X ক্রোমোজোম থাকে, তাই সন্তানের লিঙ্গ পুরোপুরি নির্ভর করে পিতার কোন শুক্রাণুটি (X নাকি Y) ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করল তার ওপর। সুতরাং লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকাই প্রধান, মাতার কোনো ভূমিকা নেই।
৪.৪ ঘোড়ার জীবাশ্মের বিবর্তনীয় ইতিহাস:
১. ইওহিপ্পাস (Eohippus): প্রায় ৫ কোটি বছর আগে ইওসিন যুগে আবির্ভূত আদিমতম ঘোড়া। উচ্চতা ছিল শেয়ালের মতো প্রায় ৩০ সেমি। অগ্রপদে ৪টি ও পশ্চাৎপদে ৩টি কর্মক্ষম আঙুল ছিল।
২. মেসোহিপ্পাস (Mesohippus): অলিগোসিন যুগে সৃষ্টি, উচ্চতা প্রায় ৬০ সেমি। উভয় পদেই ৩টি করে আঙুল ছিল এবং মাঝের তৃতীয় আঙুলটি কিছুটা দীর্ঘ হয়।
৩. মেরিচিপ্পাস (Merychippus): মায়োসিন যুগের ঘোড়া, উচ্চতা প্রায় ১০০ সেমি। ৩টি আঙুলের মধ্যে মাঝের আঙুলটি শক্ত হয়ে নিচে নেমে এসে খুরের রূপ নিতে থাকে।
৪. প্লিওহিপ্পাস (Pliohippus): প্লায়োসিন যুগের ঘোড়া, উচ্চতা প্রায় ১২০ সেমি। মাঝের তৃতীয় আঙুলটি সম্পূর্ণ খুরে পরিণত হয় এবং দুই পাশের আঙুল দুটি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ক্ষুদ্র হয়।
৫. ইকুয়াস (Equus): প্লিস্টোসিন যুগে আবির্ভূত আধুনিক ঘোড়া। উচ্চতা প্রায় ১৫০ সেমি। প্রতি পদে একটিমাত্র শক্ত খুরযুক্ত তৃতীয় আঙুল থাকে যা শক্ত মাটিতে দ্রুত দৌড়াতে উপযোগী।
অথবা, জিরাফের গলা ও অঙ্গের পার্থক্য:
ডারউইনের তত্ত্ব অনুযায়ী জিরাফ: ডারউইনের মতে অতীতে জিরাফের দলে স্বাভাবিক প্রকরণ বা ভ্যারিয়েশনের ফলে ছোট গলা ও লম্বা গলা—উভয় প্রকার জিরাফই উপস্থিত ছিল। যখন ভূমিসংলগ্ন ঘাস বা গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ শেষ হয়ে গেল, তখন উঁচু গাছের পাতা খাওয়ার অস্তিত্বের সংগ্রামে লম্বা গলার জিরাফেরা বেশি সুবিধা পেল। প্রকৃতি লম্বা গলার জিরাফদের যোগ্যতম হিসেবে নির্বাচন করল (প্রাকৃতিক নির্বাচন) এবং পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে ছোট গলার জিরাফেরা ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেল।
সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গের দুটি পার্থক্য:
১. সমসংস্থ অঙ্গের ভ্রূণীয় উৎপত্তি ও অস্থিকাঠামো এক হলেও বাহ্যিক কাজ আলাদা; সমবৃত্তীয় অঙ্গের উৎপত্তি ও গঠন সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও বাহ্যিক কার্য এক।
২. সমসংস্থ অঙ্গ অপসারী বিবর্তন (Divergent evolution) নির্দেশ করে; সমবৃত্তীয় অঙ্গ অভিসারী বিবর্তন (Convergent evolution) নির্দেশ করে।
৪.৫ জলদূষণের কারণ ও অ্যালগাল ব্লুম:
জলদূষণের কারণ:
১. কৃষিজ বর্জ্য: জমিতে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক কীটনাশক (DDT) এবং ফসফেট সার বৃষ্টির জলে ধুয়ে জলাশয়ে মেশা।
২. শিল্পজাত বর্জ্য: চামড়া কারখানা, রাসায়নিক ও বস্ত্র শিল্প থেকে নির্গত শোধনহীন বিষাক্ত ভারী ধাতু (সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম) নদীতে ফেলা।
৩. গৃহস্থালি ও পৌর বর্জ্য: ডিটারজেন্ট, ক্ষতিকর জীবাণুযুক্ত পয়ঃপ্রণালীর অপরিশোধিত নোংরা জল উন্মুক্ত জলাশয়ে মিশে জলকে দূষিত করা।
অ্যালগাল ব্লুম (Algal Bloom): জলাশয়ে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস জাতীয় সারের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে ইউট্রোফিকেশন প্রক্রিয়ায় নীলাভ-সবুজ শৈবালের অস্বাভাবিক ও অতিমাত্রিক বংশবৃদ্ধি ঘটে। এর ফলে জলাশয়ের ওপর সবুজ আস্তরণ পড়ে যায় যা জলের সূর্যালোক ও বায়ুর অক্সিজেন প্রবেশে বাধা দেয়। পচনের পর ব্যাক্টেরিয়া দ্রবীভূত O2 শোষণ করায় চরম ঘাটতি (BOD বৃদ্ধি) হয়ে সমস্ত মাছ মারা যায়। একেই অ্যালগাল ব্লুম বলে।
অথবা, নাইট্রোজেন চক্রে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা:
১. সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়া: Rhizobium শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলে মিথোজীবী রূপে এবং Azotobacter মাটিতে স্বাধীনজীবী রূপে বায়ুর মুক্ত নাইট্রোজেন শোষণ করে মাটিতে যৌগ হিসেবে আবদ্ধ করে।
২. অ্যামোনিফায়িং ব্যাকটেরিয়া: Bacillus mycoides এবং Bacillus ramosus মাটিতে মৃত জীবদেহের নাইট্রোজেনযুক্ত প্রোটিনকে পচিয়ে ভেঙে অ্যামোনিয়ায় (NH3) রূপান্তরিত করে।
৩. নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া: Nitrosomonas ব্যাকটেরিয়া অ্যামোনিয়াকে জারিত করে প্রথমে বিষাক্ত নাইট্রাইটে পরিণত করে এবং পরবর্তীতে Nitrobacter সেই নাইট্রাইটকে উদ্ভিদের গ্রহণোপযোগী নাইট্রেটে (NO3-) পরিণত করে।
৪. ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া: মাটির অতিরিক্ত নাইট্রেট যৌগকে Pseudomonas ও Thiobacillus ব্যাকটেরিয়া ভেঙে ফেলে পুনরায় গ্যাসীয় নাইট্রোজেন রূপে বায়ুমণ্ডলে মুক্ত করে চক্রের সমতা বজায় রাখে।
৪.৬ জীববৈচিত্র্য হ্রাসের কারণ ও বিপন্ন প্রাণী:
১. বাসস্থান ধ্বংস: শিল্পায়ন, নগরায়ন ও কাঠ সংগ্রহের জন্য নির্বিচারে অরণ্যচ্ছেদনের ফলে বন্যজীবের স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষেত্র ও খাদ্যশৃঙ্খল বিনষ্ট হচ্ছে।
২. চোরাশিকার: আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া দামে চামড়া, খড়্গ, দাঁত ও পশম বিক্রির লালসায় অসাধু শিকারীদের হাতে বিপুল সংখ্যায় স্তন্যপায়ী প্রাণী মারা পড়ছে।
৩. পরিবেশ দূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়ন: জল ও মাটির বিষক্রিয়ায় উভচর ও পাখিরা ধ্বংস হচ্ছে এবং উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে মেরু প্রদেশের বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়ছে।
ভারতের দুটি বিপন্ন প্রাণী: রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার (বাঘ) এবং ভারতীয় একশৃঙ্গ গণ্ডার।
অথবা, ন্যাশনাল পার্ক ও স্যাংচুয়ারির পার্থক্য এবং PBR:
জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্যের পার্থক্য:
১. জাতীয় উদ্যান বা ন্যাশনাল পার্ক কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ বন্যপ্রাণী আইনের অধীনে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়; কিন্তু স্যাংচুয়ারি বা অভয়ারণ্য রাজ্য সরকারের বনদপ্তরের অধীনে থাকে।
২. জাতীয় উদ্যানে কোনো প্রকার কাঠ সংগ্রহ, চাষবাস বা ব্যক্তিগত জমি ভোগদখল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; কিন্তু অভয়ারণ্যে বনদপ্তরের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে নিয়ন্ত্রিত কাঠ সংগ্রহ ও জনসাধারণের সীমিত চলাচল অনুমোদিত থাকে।
৩. জাতীয় উদ্যানে একটি সমগ্র বনাঞ্চলের সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত হয়; অভয়ারণ্যে সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট বিশেষ সংকটাপন্ন প্রজাতির জীবকে সুরক্ষার প্রাধান্য দেওয়া হয়।
PBR (People's Biodiversity Register)-এর গুরুত্ব: এটি স্থানীয় সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতায় প্রস্তুত একটি প্রামাণ্য সরকারি তথ্যপঞ্জি। এর মাধ্যমে দেশীয় অঞ্চলের সমস্ত ভেষজ ঔষধি উদ্ভিদ, বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী এবং স্থানীয় প্রথাগত সংরক্ষণ পদ্ধতির সঠিক নথিপত্র প্রস্তুত থাকে। এটি আন্তর্জাতিক স্তরে কোনো বিদেশি সংস্থাকে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী সম্পদ বেআইনিভাবে চুরি বা পেটেন্ট (বায়োপাইরেসি) করা থেকে আটকাতে সবচেয়ে বড় আইনি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
