Quick Knowledge Finder
Bigyanbook Logo
Bigyanbook

অনাক্রম্যতা

Bigyanbook Peer-Reviewed May 05, 2021 4 min read
অনাক্রম্যতা

অনাক্রম্যতা কাকে বলে ?

রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু, ভাইরাস ইত্যাদি ক্ষতিকারক বিজাতীয় পদার্থের বিরুদ্ধে দেহে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে তাকে অনাক্রম্যতা বলে।


অনাক্রম্যতার প্রকারভেদ

দেহের অনাক্রম্যতাকে দুভাগে ভাগ করা হয়। ১) সহজাত অনাক্রম্যতা এবং ২) অর্জিত অনাক্রম্যতা।


১) সহজাত অনাক্রম্যতা

সহজাত অনাক্রম্যতা কাকে বলে ?

বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত, জন্মের সময় থেকে গঠিত যে অনাক্রম্যতা দেহের সাধারণ ও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম তাকে সহজাত অনাক্রম্যতা বলে।


সহজাত অনাক্রম্যতার উদাহরণ

দেহত্বক, দেহরসের pH, ম্যাক্রোফাজ, নিউট্রোফিল, বেসোফিল কোশ ইত্যাদি সহজাত অনাক্রম্যতায় অংশ নেয়।


সহজাত অনাক্রম্যতা সৃষ্টির পদ্ধতি

সহজাত অনাক্রম্যতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে কোশগুলি দু-ভাবে কাজ করে - a) বাহ্যিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং b) অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা।


a) বাহ্যিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা

এই ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভিন্ন ভাবে দেহে রোগজীবাণুর প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা দেয়। যেমন —

ভৌত প্রতিবন্ধক : এই ধরনের বাহ্যিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিভিন্ন ভাবে দেহে রোগজীবাণুর বা প্যাথোজেনের প্রবেশে বাধা দেয়। দেহত্বক, নাসাবিবরস্থ রোম, মিউকাস পর্দা প্রভৃতির মাধ্যমে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেহে রোগজীবাণুর প্রবেশে বাধা দেয়।

শারীরবৃত্তীয় প্রতিবন্ধক : এই ধরনের বাহ্যিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিভিন্ন ভাবে দেহে রোগজীবাণুর বা প্যাথোজেনের প্রবেশে বাধা দেয়। যেমন — দেহে প্যাথোজেন সংক্রামিত হলে দেহের তাপমাত্রা বেড়ে প্যাথোজেনের মৃত্যু ঘটায় ; N K Cell বা Natural Killer Cell এক বিশেষ ধরনের লিম্ফোসাইট কোশ যা টিউমার কোশ এবং এই ধরনের ক্ষতিকারক বিজাতীয় কোশ ধ্বংস করে ; পাকস্থলীর রসে অবস্থিত HCL অ্যাসিড খাদ্যনালীর মধ্যে থাকা প্যাথোজেন ধ্বংস করে ; এছাড়াও রয়েছে ঘাম ও সিবাম, লাইসোজাইম, পিত্ত, সেরুমেন প্রভৃতি যেগুলি শারীরবৃত্তীয় প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে।


b) অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা

এই ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিভিন্ন সিস্টেম কাজ করে, যেমন — শ্বেত রক্তকণিকা, ম্যাক্রোফাজ, প্রদাহজনিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইন্টারফেরন (Interferon), কমপ্লিমেন্ট সিস্টেম।


বস্তু নিরপেক্ষ অনাক্রম্যতা কাকে বলে ?

সহজাত অনাক্রম্যতা দেহে অনুপ্রবিষ্টকারী যে কোনো প্রকারের রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে সাড়ার প্রয়োজন নেই, তাই সহজাত অনাক্রম্যতাকে বস্তু নিরপেক্ষ অনাক্রম্যতা বলে।



২) অর্জিত অনাক্রম্যতা

অর্জিত অনাক্রম্যতা কাকে বলে ?

যে অনাক্রম্যতা সহজাত প্রকৃতির নয়, জন্মের পর দেহে রোগজীবাণুর প্রবেশের ফলে সৃষ্টি হয় তাকে অর্জিত অনাক্রম্যতা বলে।


অর্জিত অনাক্রম্যতার প্রকারভেদ

কাজ অনুসারে অর্জিত অনাক্রম্যতা দু-প্রকারের হয় — a) কোশভিত্তিক অনাক্রম্যতা এবং b) রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা।


a) কোশভিত্তিক অনাক্রম্যতা কাকে বলে ?

T-লিম্ফোসাইট বা T-কোশ এর দ্বারা দেহে যে অনাক্রম্যতা ঘটে তাকে কোশভিত্তিক অনাক্রম্যতা বলে।


b) রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা কাকে বলে ?

B-লিম্ফোসাইট বা B-কোশ এর দ্বারা দেহে যে অনাক্রম্যতা ঘটে তাকে রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা বলে।


সহজাত অনাক্রম্যতা ও অর্জিত অনাক্রম্যতার পার্থক্য

সহজাত অনাক্রম্যতা অর্জিত অনাক্রম্যতা
১) জন্ম থেকেই এই অনাক্রম্যতা কাজ করে। ২) জন্মের পর দেহে রোগজীবাণুর প্রবেশের ফলে সৃষ্টি হয়।
২) এটি বংশগত অনাক্রম্যতা। ২) এটি বংশগত অনাক্রম্যতা নয়।
৩) এই অনাক্রম্যতা অ্যান্টিজেনের উপস্থিতিতে বা রোগজীবাণুর আক্রমণের ফলে সৃষ্টি হয় না। জন্মসূত্রে প্রাপ্ত অঙ্গসংস্থান ও শারীরস্থানগত বস্তুর ক্রিয়ায় ঘটে। ৩) এই অনাক্রম্যতা অ্যান্টিজেনের উপস্থিতিতে বা রোগজীবাণুর আক্রমণের ফলে সৃষ্টি হয়।
৪) এটি রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে দেহের সাধারণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। এই অনাক্রম্যতা নির্দিষ্ট কোনো রোগ সৃষ্টিকারী বস্তুর বিরুদ্ধে কাজ করে না। ৪) এটি নির্দিষ্ট রোগ জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। যেমন, পোলিও, গুটি বসন্ত ইত্যাদি।

ইন্টারফেরন অনাক্রম্যতা কাকে বলে ?

যে অনাক্রম্যতায় ভাইরাস আক্রান্ত কোষ থেকে ইন্টারফেরন নিঃসৃত হয়ে ভাইরাসের বংশবিস্তার রোধ করে তাকে ইন্টারফেরন অনাক্রম্যতা বলে।

ইন্টারফেরন এর উৎস হলো T-লিম্ফোসাইট, শ্বেত রক্তকণিকা এবং ফাইব্রোব্লাস্ট কোশ।

Share this study note with classmates: