সবাই আপনাকে শেখায় কীভাবে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে হয়, কীভাবে টপার হতে হয়, আর কীভাবে মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করতে হয়। কিন্তু সত্যি বলুন তো, সবাই কি আর পাস করতে চায়? কেউ কেউ তো নিশ্চয়ই আছেন যারা ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে চান—কিন্তু একটু অন্যভাবে।
স্বাগতম Bigyanbook-এ! আজ আমরা এক যুগান্তকারী বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। বিষয়বস্তু হলো—"পরীক্ষায় কীভাবে নিশ্চিতভাবে খারাপ রেজাল্ট বা ডাব্বা মারা যায়।"
হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। ভালো রেজাল্ট করার জন্য যেমন প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়, বিশ্বাস করুন, খারাপ রেজাল্ট করাটাও কিন্তু কম আর্টের বিষয় নয়। এর জন্যও চাই কঠোর সাধনা, ডেডিকেশন এবং সঠিক স্ট্র্যাটেজি। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সেই অমোঘ মন্ত্রগুলো।
১. সিলেবাসকে শত্রু মনে করা
খারাপ রেজাল্ট করার প্রথম ধাপ হলো সিলেবাসের দিকে ফিরেও না তাকানো। সিলেবাস হলো মরীচিকা। ওটা দেখলেই আপনার মনে হবে, "এত পড়া! ধুর, কিছুই হবে না।" তাই সিলেবাস বইয়ের পাতার ভাঁজেই রেখে দিন। পরীক্ষার আগের রাতে হঠাৎ বই খুলে যদি দেখেন অচেনা সব অধ্যায়, তখন যে প্যানিক অ্যাটাকটা আসবে, সেটাই আপনার ফেইল করার জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে।
টিপস: বছরের শুরুতে সিলেবাস ছিঁড়ে ফেলে দিন, যাতে ভুল করেও চোখ না পড়ে।
২. স্মার্টফোন: আপনার পরম বন্ধু
পড়ার টেবিলে বইয়ের চেয়ে ফোনকে বেশি গুরুত্ব দিন। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় যদি আপনি ইনস্টাগ্রামের রিলস বা টিকটক ভিডিও না দেখেন, তাহলে কি আর জীবন চলে? প্রতি ৫ মিনিট পড়ার পর ২ ঘণ্টা ব্রেক নিন এবং সেই ব্রেকে ইউটিউবে "কিভাবে না পড়ে পরীক্ষায় পাস করা যায়"—এই ভিডিওগুলো দেখুন।
- নোটিফিকেশন সাউন্ড সবসময় অন রাখুন। টুং করে শব্দ হলেই পড়ার বারোটা বাজিয়ে ফোন হাতে নিন।
- বন্ধুদের সাথে চ্যাটিং করুন যে আপনি কতটা পড়েননি। এতে আত্মবিশ্বাস (পড়াশোনা না করার) বাড়বে।
- PUBG বা Free Fire খেলার জন্য রাতের ঘুম বিসর্জন দিন।
৩. আলস্য ও প্রোকাস্টিনেশন (কালকে পড়ব থিওরি)
খারাপ রেজাল্ট করার মূলমন্ত্র হলো—"আজ থাক, কাল পড়ব"। এই 'কাল' নামক দিনটি ক্যালেন্ডারে থাকলেও বাস্তবে কখনো আসে না। যখনই মনে হবে পড়তে বসা উচিত, তখনই নিজেকে সান্ত্বনা দিন, "এখন তো মাত্র সন্ধ্যা ৭টা, রাত ১০টায় বসব।" ১০টা বাজলে ভাববেন, "খাওয়ার পর বসব।" আর খাওয়ার পর তো ঘুমানোই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
৪. মুখস্থ বিদ্যার ওপর অটুট বিশ্বাস
বুঝে পড়ার ভুল কাজটি কক্ষনো করবেন না। বিজ্ঞান হোক বা অংক, সব কিছুই তোতাপাখির মতো মুখস্থ করুন। পরীক্ষার হলে প্রশ্ন যদি একটু ঘুরিয়ে দেয়, আপনি যাতে আকাশ থেকে পড়েন—সেটা নিশ্চিত করতেই এই পদ্ধতি। বুঝে পড়লে তো ব্রেনে গেঁথে যাবে, আর ব্রেনে গেঁথে গেলে তো আপনি পাস করে ফেলবেন! সেটা কি আমরা চাই? একদম না।
৫. হাতের লেখা: ডাক্তারদের লজ্জা দিন
পরীক্ষার খাতায় এমনভাবে লিখুন যেন একমাত্র আপনি এবং ঈশ্বর ছাড়া সেই লেখা আর কেউ উদ্ধার করতে না পারে। অক্ষরগুলো যেন একে অপরের সাথে কুস্তি লড়ছে। পরীক্ষক যখন আপনার খাতা দেখবেন, তিনি যেন বিরক্ত হয়ে গড়পড়তা নম্বর বা বিশাল একটা গোল্লা বসিয়ে দেন। সুন্দর হাতের লেখা মানেই পরীক্ষকের মন জয় করা, আর আমাদের লক্ষ্য হলো পরীক্ষকের মেজাজ খারাপ করা।
৬. পরীক্ষার আগের রাতে 'নাইট মোড'
সারা বছর না পড়ে, পরীক্ষার আগের রাতে পুরো বই শেষ করার চেষ্টা করুন। একে বলে "লাস্ট নাইট ফাইট"। কফি খেয়ে সারারাত জাগুন। এতে লাভ হবে দুটো—
- পরদিন পরীক্ষার হলে আপনার মাথা ঝিমঝিম করবে।
- জানা প্রশ্নের উত্তরও আপনি ভুলে যাবেন।
- চোখ খুলে রাখতেই কষ্ট হবে, লেখা তো দূরের কথা।
৭. পরীক্ষার হলে প্যানিক করা
প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর প্রথমেই বড় বড় কঠিন প্রশ্নগুলো দেখুন। সহজ প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যান। কঠিন প্রশ্ন দেখে ঘাবড়ে যান, হাত পা কাঁপাতে শুরু করুন। পাশের বন্ধু কী লিখছে তা দেখার চেষ্টা করুন এবং ভাবুন "সবাই সব পারে, শুধু আমিই গাধা।" এই নেতিবাচক চিন্তাই আপনাকে খারাপ রেজাল্ট এনে দেবে।
৮. খাতা জমার আগে রিভিশন? নৈব নৈব চ!
লেখা শেষ (বা না হলেও), সময় শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগেই খাতা জমা দিয়ে দিন। রিভিশন দেওয়া মানে হলো নিজের ভুল খুঁজে বের করা। আর ভুল শুধরে নিলে তো নম্বর বেড়ে যাবে! তাই কনফিডেন্সের সাথে ভুল উত্তর লিখে খাতা জমা দিয়ে বীরদর্পে হল থেকে বেরিয়ে আসুন।
৯. ক্যালিগ্রাফি ও ডেকোরেশন (লেখার চেয়ে সাজসজ্জা বড়)
উত্তরের চেয়ে খাতা সাজানোকে বেশি গুরুত্ব দিন। লাল, নীল, সবুজ, বেগুনি—কমপক্ষে ৪-৫ রঙের কলম নিয়ে যান। পরীক্ষার ৩ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম ১ ঘণ্টা ব্যয় করুন শুধু মার্জিন টানতে আর খাতার চারপাশে ফুল-লতাপাতা আঁকতে।
মনে রাখবেন, আপনার খাতাটি যেন কোনো পরীক্ষার খাতা না হয়ে 'বিয়ের কার্ড' মনে হয়। এত সুন্দর সাজসজ্জা দেখে পরীক্ষক মুগ্ধ হয়ে হয়তো নম্বর দেবেন না, কিন্তু আপনার শৈল্পিক গুণের প্রশংসা মনে মনে ঠিকই করবেন। আর এদিকে সময় শেষ হয়ে গেলে সাদা খাতা জমা দেওয়ার আনন্দই আলাদা!
১০. পরীক্ষার আগে পেটপুজো (বিরিয়ানি এফেক্ট)
খালি পেটে কি আর যুদ্ধ জয় করা যায়? তাই পরীক্ষার ঠিক আগে পেট ভরে রিচ ফুড, যেমন—কাচ্চি বিরিয়ানি বা তেহারি খেয়ে যান। খাওয়ার পর এক গ্লাস বোরহানি বা লস্যি মাস্ট।
এর বৈজ্ঞানিক সুফল হলো, পরীক্ষার হলে ঢোকার ১৫ মিনিটের মধ্যেই আপনার চোখ ঘুমে ঢুলুঢুলু করবে। মস্তিষ্কের সব রক্ত পেটে চলে যাবে হজম করার জন্য, ফলে ব্রেন আর কাজ করবে না। প্রশ্নপত্র বালিশের মতো মনে হবে। ব্যাস! ঘুমিয়ে পড়ুন, রেজাল্ট তো এমনিতেই খারাপ হবে।
বোনাস টিপস:
পরীক্ষার খাতায় প্রশ্নের উত্তর না পারলে সিনেমার গল্প, গানের কলি বা স্যারের কাছে আবেগঘন চিঠি লিখে আসুন। যেমন— "স্যার, আমি খুব গরিব, দয়া করে পাস করিয়ে দিন।" এতে পাস না হলেও, আপনার খাতাটি টিচার্স রুমে হাসির খোরাক হবে নিশ্চিত!
প্রিয় পরীক্ষার্থী বন্ধুরা!
এতক্ষণ যা পড়লেন, তা ছিল Bigyanbook-এর পক্ষ থেকে এক প্রকার রিভার্স সাইকোলজি (Reverse Psychology)। আপনি যদি জীবনে সফল হতে চান, বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে চান এবং নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান—তবে ওপরের কাজগুলো ভুলেও করবেন না।
সঠিক রুটিন মেনে পড়ুন, ফোন থেকে দূরে থাকুন, বুঝে পড়ুন এবং পর্যাপ্ত ঘুমান। মনে রাখবেন, রেজাল্ট কেবল কাগজের টুকরো নয়, এটি আপনার পরিশ্রমের প্রতিফলন।
পরীক্ষার জন্য শুভকামনা! ভালো রেজাল্ট করুন, খারাপ নয়।
