উচ্চমাধ্যমিক জীববিদ্যা: জীব ও পপুলেশন ১০০ টি vvi প্রশ্ন উত্তর

উচ্চমাধ্যমিক জীববিদ্যাঃ Organisms and Populations (জীব এবং পপুলেশন)

পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের (WBCHSE) সিলেবাস ও প্রশ্নের ধরণ অনুযায়ী ১০০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ১ ও ২ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো।


১. ইকোলজি (Ecology) বা বাস্তুবিদ্যা কাকে বলে?
উত্তর: জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীব ও তার পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং জীবের ওপর পরিবেশের প্রভাব ও পরিবেশের ওপর জীবের ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা করা হয়, তাকে ইকোলজি বা বাস্তুবিদ্যা বলে।

২. অটোইকোলজি (Autoecology) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির জীব (Species) এবং তার পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়, তখন তাকে অটোইকোলজি বা প্রজাতি বাস্তুবিদ্যা বলে।

৩. সিনইকোলজি (Synecology) বা সম্প্রদায় বাস্তুবিদ্যা কী?
উত্তর: যখন কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রজাতির জীবগোষ্ঠী (Community) এবং তাদের পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়, তখন তাকে সিনইকোলজি বলে।

৪. হ্যাবিটাট (Habitat) বা বসতি কাকে বলে?
উত্তর: পরিবেশের যে নির্দিষ্ট ভৌত স্থানে কোনো জীব বসবাস করে, জনন কার্য সম্পন্ন করে এবং যেখান থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে, সেই স্থানটিকে ওই জীবের হ্যাবিটাট বা বসতি বলে।

৫. ইকোলজিক্যাল নিচ (Ecological Niche) কাকে বলে?
উত্তর: বাস্তুতন্ত্রে কোনো জীবের অবস্থান এবং ওই বাস্তুতন্ত্রে জীবটির কার্যগত ভূমিকা (যেমন- খাদ্য সংগ্রহ, প্রজনন ও অন্যান্য জৈবিক ক্রিয়া)-কে একত্রে ইকোলজিক্যাল নিচ বলে।

৬. হ্যাবিটাট ও নিচ-এর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো। (২ নম্বর)
উত্তর: ১) হ্যাবিটাট হলো জীবের ঠিকানা বা বাসস্থান, কিন্তু নিচ হলো সেই বাসস্থানে জীবের পেশা বা কার্যগত ভূমিকা।
২) একাধিক প্রজাতি একই হ্যাবিটাটে থাকতে পারে, কিন্তু দুটি ভিন্ন প্রজাতি একই নিচ-এ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।

৭. পপুলেশন (Population) বা জনসংখ্যা কাকে বলে?
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট সময়ে, একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে বসবাসকারী একই প্রজাতিভুক্ত জীবগোষ্ঠীকে, যারা নিজেদের মধ্যে প্রজননে সক্ষম, তাদের পপুলেশন বা জনসংখ্যা বলে।

৮. পপুলেশন ঘনত্ব (Population Density) বলতে কী বোঝো? এর সূত্রটি লেখো। (২ নম্বর)
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট সময়ে এবং নির্দিষ্ট বাসস্থানের প্রতি একক ক্ষেত্রফল বা আয়তনে বসবাসকারী মোট জীবের সংখ্যাকে পপুলেশন ঘনত্ব বলে।
সূত্র: D = N/S (যেখানে D = ঘনত্ব, N = মোট সংখ্যা, S = স্থানের আয়তন/ক্ষেত্রফল)।

৯. ন্যাটালিটি (Natality) বা জন্মহার কাকে বলে?
উত্তর: একক সময়ে পপুলেশনে জনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে (ডিম পাড়া, সন্তান প্রসব বা অঙ্কুরোদগম) যে সংখ্যায় নতুন সদস্য যুক্ত হয়, তার হারকে ন্যাটালিটি বা জন্মহার বলে।

১০. মর্টালিটি (Mortality) বা মৃত্যুহার কাকে বলে?
উত্তর: একক সময়ে কোনো পপুলেশন থেকে যে সংখ্যায় সদস্যের মৃত্যু ঘটে বা অপসারিত হয়, তার হারকে মর্টালিটি বা মৃত্যুহার বলে।

১১. জন্মহার ও মৃত্যুহারের সূত্র দুটি লেখো। (২ নম্বর)
উত্তর: ১) জন্মহার = নির্দিষ্ট সময়ে জন্ম নেওয়া সদস্য সংখ্যা / মোট সদস্য সংখ্যা।
২) মৃত্যুহার = নির্দিষ্ট সময়ে মৃত সদস্য সংখ্যা / মোট সদস্য সংখ্যা।

১২. চরম বা তাত্ত্বিক ন্যাটালিটি (Absolute/Potential Natality) কী?
উত্তর: সম্পূর্ণ আদর্শ ও অনুকূল পরিবেশে কোনো প্রজাতির জীবের সর্বাধিক সন্তান উৎপাদন করার ক্ষমতাকে চরম ন্যাটালিটি বলে।

১৩. ইকোলজিক্যাল বা রিয়েলাইজড ন্যাটালিটি কী?
উত্তর: বাস্তবিক পরিবেশে বিভিন্ন পরিবেশগত বাধার (খাদ্যাভাব, স্থান সংকট) উপস্থিতিতে যে হারে পপুলেশনে নতুন জীব যুক্ত হয়, তাকে ইকোলজিক্যাল ন্যাটালিটি বলে।

১৪. ভাইটাল ইনডেক্স (Vital Index) কী?
উত্তর: কোনো পপুলেশনের জন্মহার ও মৃত্যুহারের অনুপাতকে শতকরায় প্রকাশ করলে তাকে ভাইটাল ইনডেক্স বলে।
সূত্র: VI = (জন্মহার / মৃত্যুহার) × ১০০।

১৫. অভিবাসন বা ইমিগ্রেশন (Immigration) কী?
উত্তর: পপুলেশনের বাইরে থেকে একই প্রজাতির জীবের আগমন ঘটে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলে তাকে ইমিগ্রেশন বলে। এর ফলে পপুলেশন ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।

১৬. প্রবাসন বা এমিগ্রেশন (Emigration) কী?
উত্তর: পপুলেশন থেকে কিছু সংখ্যক সদস্যের অন্য স্থানে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়াকে এমিগ্রেশন বলে। এর ফলে পপুলেশন ঘনত্ব হ্রাস পায়।

১৭. পপুলেশন বৃদ্ধির সমীকরণটি লেখো এবং ব্যাখ্যা করো। (২ নম্বর)
উত্তর: সমীকরণ: Nt+1 = Nt + [(B + I) – (D + E)]
যেখানে, Nt = t সময়ে পপুলেশন ঘনত্ব, B = জন্মসংখ্যা, I = অভিবাসন, D = মৃত্যুসংখ্যা, E = প্রবাসন।

১৮. বহন ক্ষমতা বা ক্যারিং ক্যাপাসিটি (Carrying Capacity) কাকে বলে?
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট বাসস্থানে উপলব্ধ সম্পদ দ্বারা সর্বাধিক যত সংখ্যক জীব সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে, সেই সর্বোচ্চ সংখ্যাকে ওই পরিবেশের বহন ক্ষমতা বা ক্যারিং ক্যাপাসিটি (K) বলে।

১৯. পরিবেশগত বাধা (Environmental Resistance) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: পপুলেশনের অসীম বৃদ্ধিতে বাধা দানকারী পরিবেশের বিভিন্ন জৈব ও অজৈব কারণগুলিকে (যেমন- খাদ্য ও বাসস্থানের অভাব, রোগ, শিকারি প্রাণী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ) পরিবেশগত বাধা বলে।

🚀 উচ্চমাধ্যমিক জীববিদ্যা Premium Notes 🚀

"Organisms and Populations" অধ্যায়ের আরো ১০০টি এক্সক্লুসিভ প্রশ্ন ও উত্তর (Part-2) এখন তৈরি!

✅ পরীক্ষায় কমন আসার মতো বাছাই করা প্রশ্ন।

✅ সহজ ভাষায় পয়েন্ট ভিত্তিক উন্নত মানের নোটস।

⚡ অফার প্রাইস: মাত্র ১৯ টাকা (₹19)

🔥 এই প্রিমিয়াম নোটসটি সংগ্রহ করতে এখনই হোয়াটসঅ্যাপ করুন:

💬 WhatsApp: 7439455393

(লিঙ্কে ক্লিক করলেই সরাসরি মেসেজ টাইপ হয়ে যাবে)

২০. বায়োটিক পটেনশিয়াল (Biotic Potential) কী?
উত্তর: কোনো পরিবেশগত বাধা না থাকলে, সর্বাধিক অনুকূল পরিবেশে কোনো জীবের সর্বোচ্চ প্রজনন বা বংশবৃদ্ধি করার ক্ষমতাকে বায়োটিক পটেনশিয়াল বলে।

২১. ‘J’ আকৃতির বা এক্সপোনেনশিয়াল বৃদ্ধি লেখচিত্র কী?
উত্তর: পরিবেশে যখন সম্পদ (খাদ্য ও বাসস্থান) অঢেল থাকে, তখন পপুলেশন জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়। এই বৃদ্ধির লেখচিত্রটি ইংরেজি অক্ষর ‘J’-এর মতো হয়।

২২. ‘S’ আকৃতির বা লজিস্টিক বৃদ্ধি লেখচিত্র (Sigmoid Curve) কী?
উত্তর: প্রাকৃতিক পরিবেশে সীমিত সম্পদের কারণে পপুলেশন বৃদ্ধি প্রথমে ধীর, পরে দ্রুত এবং শেষে স্থির হয়ে যায়। এই ধরণের বৃদ্ধির লেখচিত্রটি ‘S’ আকৃতির হয়, একে সিগময়েড কার্ভ বলে।

২৩. লজিস্টিক গ্রোথ বা ভেরহুলস্ট-পার্ল লজিস্টিক বৃদ্ধির সমীকরণটি লেখো।
উত্তর: dN/dt = rN [(K-N)/K]
এখানে, r = স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার, N = পপুলেশন ঘনত্ব, K = বহন ক্ষমতা।

২৪. পপুলেশন বয়স পিরামিড (Age Pyramid) কী?
উত্তর: কোনো পপুলেশনের বিভিন্ন বয়সের জীবগোষ্ঠীকে (প্রাক-প্রজননশীল, প্রজননশীল, প্রজনন-উত্তর) যখন চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় এবং তা পিরামিড আকৃতি ধারণ করে, তখন তাকে বয়স পিরামিড বলে।

২৫. বর্ধিষ্ণু পপুলেশনের বয়স পিরামিডের আকৃতি কেমন এবং কেন? (২ নম্বর)
উত্তর: আকৃতি ত্রিভুজাকার হয়। কারণ, এখানে প্রজননশীল ও প্রাক-প্রজননশীল সদস্যের সংখ্যা বয়স্ক সদস্যদের তুলনায় অনেক বেশি থাকে, ফলে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

২৬. স্থিতিশীল পপুলেশনের বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: স্থিতিশীল পপুলেশনে জন্মহার ও মৃত্যুহার প্রায় সমান থাকে এবং বয়স পিরামিডটি ঘণ্টাকৃতি (Bell shaped) হয়।

২৭. ক্রমহ্রাসমান বা ক্ষয়িষ্ণু পপুলেশনের পিরামিড কেমন হয়?
উত্তর: এর আকৃতি কলসাকৃতি (Urn shaped) হয়। কারণ, এখানে কম বয়সী সদস্যের সংখ্যা প্রজননশীল বা বয়স্কদের তুলনায় কম থাকে।

২৮. সেক্স রেশিও বা লিঙ্গ অনুপাত কী?
উত্তর: কোনো পপুলেশনে প্রতি ১০০০ জন পুরুষ সদস্য পিছু কতজন স্ত্রী সদস্য বর্তমান, সেই অনুপাতকে লিঙ্গ অনুপাত বা সেক্স রেশিও বলে।

২৯. পপুলেশন ইন্টারঅ্যাকশন বা আন্তঃক্রিয়া কাকে বলে?
উত্তর: বাস্তুতন্ত্রে বসবাসকারী দুটি ভিন্ন বা একই প্রজাতির জীবের মধ্যে খাদ্য, বাসস্থান বা আত্মরক্ষার জন্য যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা ক্রিয়া-বিক্রিয়া গড়ে ওঠে, তাকে পপুলেশন ইন্টারঅ্যাকশন বলে।

৩০. মিউচুয়ালিজম (Mutualism) বা মিথোজীবিতা কাকে বলে?
উত্তর: যে প্রকার আন্তঃসম্পর্কে দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব একে অপরের সান্নিধ্যে থেকে উভয়ই উপকৃত হয় এবং কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, তাকে মিউচুয়ালিজম বলে। (+,+ সম্পর্ক)।

৩১. লাইকেন (Lichen) কীসের উদাহরণ? ব্যাখ্যা করো। (২ নম্বর)
উত্তর: লাইকেন হলো মিউচুয়ালিজমের উদাহরণ। এখানে শৈবাল ও ছত্রাক একত্রে বসবাস করে। শৈবাল সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে ছত্রাককে দেয় এবং ছত্রাক জল ও খনিজ লবণ শোষণ করে শৈবালকে দেয় এবং আশ্রয় প্রদান করে।

৩২. মাইকোরাইজা (Mycorrhiza) কী? এর গুরুত্ব লেখো। (২ নম্বর)
উত্তর: উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের মূল এবং ছত্রাকের মধ্যে গড়ে ওঠা মিথোজীবী সহাবস্থানকে মাইকোরাইজা বলে।
গুরুত্ব: ছত্রাক মাটি থেকে ফসফরাস ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শোষণ করে উদ্ভিদকে দেয় এবং বিনিময়ে উদ্ভিদ থেকে শর্করা জাতীয় খাদ্য পায়।

৩৩. অবলিগেটরি বা বাধ্যতামূলক মিউচুয়ালিজম কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যখন দুটি জীব একে অপরের ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে একজন ছাড়া অন্যজন বাঁচতে পারে না। উদাহরণ: উইপোকা ও তার অন্ত্রে বসবাসকারী ট্রাইকোনিম্ফা (প্রোটোজোয়া)।

৩৪. প্রোটোকোঅপারেশন (Protocooperation) কী? উদাহরণ দাও। (২ নম্বর)
উত্তর: এটি এমন এক প্রকার মিথোজীবিতা যেখানে দুটি জীব একে অপরের দ্বারা উপকৃত হয়, কিন্তু এই সম্পর্কটি তাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য নয়।
উদাহরণ: সাগরকুসুম ও সন্ন্যাসী কাঁকড়ার সম্পর্ক।

৩৫. কমেনসালিজম (Commensalism) কাকে বলে?
উত্তর: যে আন্তঃপ্রজাতি সম্পর্কে একটি জীব উপকৃত হয় এবং অন্য জীবটি উপকৃত বা ক্ষতিগ্রস্ত কোনোটিই হয় না, তাকে কমেনসালিজম বলে। (+,০ সম্পর্ক)।

৩৬. কমেনসালিজমের দুটি উদাহরণ দাও। (২ নম্বর)
উত্তর: ১) আমগাছের ডালে জন্মানো অর্কিড (এপিফাইট)। অর্কিড আশ্রয় পায় কিন্তু আমগাছের ক্ষতি করে না।
২) হাঙ্গরের দেহের নিচে লেগে থাকা চোষক মাছ (Sucker fish)। এরা হাঙ্গরের উচ্ছিষ্ট খাবার খায় ও পরিবহন সুবিধা পায়।

৩৭. প্রতিযোগিতা বা কম্পিটিশন (Competition) কাকে বলে?
উত্তর: সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ (খাদ্য, বাসস্থান, আলো) ব্যবহারের জন্য যখন দুই বা ততোধিক জীবের মধ্যে সংগ্রাম বা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়, তাকে প্রতিযোগিতা বলে।

৩৮. অন্তঃপ্রজাতি (Intraspecific) প্রতিযোগিতা কী?
উত্তর: যখন একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে খাদ্য, সঙ্গী বা বাসস্থানের জন্য প্রতিযোগিতা হয়, তখন তাকে অন্তঃপ্রজাতি প্রতিযোগিতা বলে। এটি অত্যন্ত তীব্র হয়।

৩৯. আন্তঃপ্রজাতি (Interspecific) প্রতিযোগিতা কী?
উত্তর: যখন দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে একই সম্পদের জন্য প্রতিযোগিতা হয়, তখন তাকে আন্তঃপ্রজাতি প্রতিযোগিতা বলে।

৪০. গসের স্পর্ধা বর্জন নীতি (Gause's Competitive Exclusion Principle) কী? (২ নম্বর)
উত্তর: একই ইকোলজিক্যাল নিচ বা বাসস্থানে বসবাসকারী এবং একই সম্পদের জন্য প্রতিযোগী দুটি প্রজাতি দীর্ঘকাল একত্রে সহাবস্থান করতে পারে না। শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী প্রজাতিটি টিকে থাকবে এবং দুর্বল প্রজাতিটি বিলুপ্ত হবে।

৪১. রিসোর্স পার্টিশনিং (Resource Partitioning) বা সম্পদের বিভাজন কী?
উত্তর: প্রতিযোগিতার হাত থেকে বাঁচার জন্য একই স্থানে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রজাতি যখন তাদের খাদ্যাভ্যাস বা খাদ্য গ্রহণের সময় বা চারণক্ষেত্র ভাগ করে নেয়, তাকে রিসোর্স পার্টিশনিং বলে।

৪২. প্রিডেশন বা শিকারজীবিতা কাকে বলে?
উত্তর: যে আন্তঃপ্রজাতি সম্পর্কে একটি শক্তিশালী প্রাণী (শিকারি) অন্য একটি দুর্বল প্রাণীকে (শিকার) হত্যা করে ভক্ষণ করে, তাকে প্রিডেশন বলে। (+,- সম্পর্ক)।

৪৩. শিকারি (Predator) ও শিকার (Prey)-এর সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: যে জীবটি অন্য জীবকে হত্যা করে খায়, সে হলো শিকারি বা প্রিডেটর (যেমন- বাঘ)। আর যে জীবটি ভক্ষিত হয়, সে হলো শিকার বা প্রে (যেমন- হরিণ)।

৪৪. বাস্তুতন্ত্রে শিকারির দুটি ভূমিকা লেখো। (২ নম্বর)
উত্তর: ১) শিকার বা প্রে পপুলেশনের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় থাকে।
২) প্রজাতির বৈচিত্র্য রক্ষা করা এবং দুর্বল জীবদের অপসারণ করে পপুলেশনকে সুস্থ রাখা।

৪৫. উদ্ভিদের আত্মরক্ষার জন্য দুটি মর্ফোলজিক্যাল অভিযোজন উল্লেখ করো। (২ নম্বর)
উত্তর: ১) কাঁটা বা কণ্টক সৃষ্টি (যেমন- ক্যাকটাস, বেল, গোলাপ) যা তৃণভোজী প্রাণীদের থেকে রক্ষা করে।
২) পাতার কিনারায় কাঁটা বা রোমশ আবরণে বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি (যেমন- আলকুশি)।

৪৬. উদ্ভিদের আত্মরক্ষার রাসায়নিক অভিযোজন কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: অনেক উদ্ভিদ আত্মরক্ষার জন্য দেহে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে। যেমন- ক্যালোট্রপিস (আকন্দ) গাছ কার্ডিয়াক গ্লাইকোসাইড তৈরি করে যা গবাদি পশুর জন্য ক্ষতিকর।

৪৭. মিমিক্রি (Mimicry) বা অনুকরণ কী?
উত্তর: আত্মরক্ষা বা শিকার ধরার উদ্দেশ্যে কোনো জীবের অন্য কোনো জীব বা পরিবেশের বর্ণ ও আকৃতির সদৃশ রূপ ধারণ করার ক্ষমতাকে মিমিক্রি বলে। (যেমন- পাতা পোকা)।

৪৮. ক্যামোফ্লেজ (Camouflage) বা ছদ্মাবরণ কী?
উত্তর: শিকারির হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রাণীর গায়ের রং বা ধরণ এমনভাবে পরিবর্তিত হয় যাতে সে পরিবেশের সাথে মিশে যায়, একে ক্যামোফ্লেজ বলে।

৪৯. প্যারাসাইটিজম বা পরজীবিতা কাকে বলে?
উত্তর: যে আন্তঃসম্পর্কে একটি জীব (পরজীবী) অন্য জীবের (পোষক) দেহ থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে উপকৃত হয় এবং পোষক জীবটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাকে পরজীবিতা বলে। (+,- সম্পর্ক)।

৫০. এক্টোপ্যারাসাইট ও এন্ডোপ্যারাসাইটের পার্থক্য কী? (২ নম্বর)
উত্তর: ১) এক্টোপ্যারাসাইট বা বহিঃপরজীবী পোষক দেহের বাইরে অবস্থান করে (যেমন- উঁকুন, এঁটুলি)।
২) এন্ডোপ্যারাসাইট বা অন্তঃপরজীবী পোষক দেহের অভ্যন্তরে (কোষে বা অঙ্গে) বসবাস করে (যেমন- ফিতাকৃমি, প্লাজমোডিয়াম)।

৫১. হলোপ্যারাসাইট বা পূর্ণ পরজীবী উদ্ভিদ কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে উদ্ভিদ পুষ্টির জন্য সম্পূর্ণরূপে পোষক উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল এবং নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। উদাহরণ: স্বর্ণলতা (Cuscuta)।

৫২. হেমিপ্যারাসাইট বা আংশিক পরজীবী উদ্ভিদ কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষ করতে পারে কিন্তু জল ও খনিজ লবণের জন্য পোষকের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণ: চন্দন গাছ (Santalum), লরেন্থাস।

৫৩. ব্রুড প্যারাসাইটিজম (Brood Parasitism) বা বাসা পরজীবিতা কী? (২ নম্বর)
উত্তর: এটি পাখিদের মধ্যে দেখা যায় এমন এক ধরণের পরজীবিতা, যেখানে পরজীবী পাখি (যেমন- কোকিল) নিজের বাসা তৈরি না করে অন্য পাখির (যেমন- কাক) বাসায় ডিম পাড়ে এবং সেই পাখিটি ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়।

৫৪. হাইপারপ্যারাসাইটিজম (Hyperparasitism) কী?
উত্তর: যখন একটি পরজীবীর ওপর অন্য একটি পরজীবী বসবাস করে এবং পুষ্টি গ্রহণ করে, তখন তাকে হাইপারপ্যারাসাইটিজম বলে। যেমন- ব্যাকটেরিয়ার ওপর ব্যাকটেরিওফাজ ভাইরাস।

৫৫. অ্যামেনসালিজম (Amensalism) কাকে বলে? উদাহরণ দাও। (২ নম্বর)
উত্তর: যে আন্তঃপ্রজাতি সম্পর্কে একটি প্রজাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিন্তু অন্য প্রজাতিটি প্রভাবিত (উপকৃত বা অপকৃত) হয় না, তাকে অ্যামেনসালিজম বলে।
উদাহরণ: পেনিসিলিয়াম ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন নিঃসৃত হয় যা ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে, কিন্তু এতে ছত্রাকের কোনো লাভ বা ক্ষতি হয় না।

৫৬. সহ-বিবর্তন বা কো-ইভোলিউশন (Co-evolution) কী?
উত্তর: যখন দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে সমান্তরালভাবে বিবর্তিত হয়, তাকে সহ-বিবর্তন বলে। যেমন- ফুল এবং তার পরাগবহনকারী পতঙ্গ একে অপরের গঠন অনুযায়ী অভিযোজিত হয়।

৫৭. যৌন প্রবঞ্চনা (Sexual Deceit) কী?
উত্তর: ভূমধ্যসাগরীয় অর্কিড (Ophrys)-এর ফুলের পাপড়ি স্ত্রী মৌমাছির মতো দেখতে হয়। পুরুষ মৌমাছি একে স্ত্রী মৌমাছি ভেবে মিলনের চেষ্টা করে (Pseudocopulation) এবং পরাগযোগ ঘটায়। একে যৌন প্রবঞ্চনা বলে।

৫৮. সিমবায়োসিস (Symbiosis) কী?
উত্তর: দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীবের দীর্ঘস্থায়ী সহাবস্থানকে সিমবায়োসিস বলে। এটি মিউচুয়ালিজম, কমেনসালিজম বা প্যারাসাইটিজম হতে পারে।

৫৯. অ্যালিলোপ্যাথি (Allelopathy) কী?
উত্তর: কোনো উদ্ভিদ বা জীব থেকে নিঃসৃত বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ যখন অন্য কোনো জীবের বৃদ্ধি, অঙ্কুরোদগম বা জননে বাধা দেয়, তখন তাকে অ্যালিলোপ্যাথি বলে।

৬০. বায়োলজিক্যাল কন্ট্রোল বা জৈব নিয়ন্ত্রণে শিকারির ভূমিকা কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: ক্ষতিকারক পেস্ট বা আগাছা দমনে শিকারি প্রাণী ব্যবহার করা হয়। যেমন- অস্ট্রেলিয়ায় প্রিকলি পিয়ার ক্যাকটাস (আগাছা) দমনে ক্যাকটোব্লাস্টিস (Cactoblastis) মথ ব্যবহার করা হয়েছিল।

🚀 উচ্চমাধ্যমিক জীববিদ্যা Premium Notes 🚀

"Organisms and Populations" অধ্যায়ের আরো ১০০টি এক্সক্লুসিভ প্রশ্ন ও উত্তর (Part-2) এখন তৈরি!

✅ পরীক্ষায় কমন আসার মতো বাছাই করা প্রশ্ন।

✅ সহজ ভাষায় পয়েন্ট ভিত্তিক উন্নত মানের নোটস।

⚡ অফার প্রাইস: মাত্র ১৯ টাকা (₹19)

🔥 এই প্রিমিয়াম নোটসটি সংগ্রহ করতে এখনই হোয়াটসঅ্যাপ করুন:

💬 WhatsApp: 7439455393

(লিঙ্কে ক্লিক করলেই সরাসরি মেসেজ টাইপ হয়ে যাবে)

৬১. পপুলেশন ডিসপারশন বা বিস্তারণ কত প্রকার?
উত্তর: প্রধানত তিন প্রকার: ১) সুষম (Uniform), ২) গুচ্ছিত (Clumped), এবং ৩) এলোমেলো (Random)।

৬২. ডেমোগ্রাফি (Demography) কী?
উত্তর: জীববিজ্ঞানের যে শাখায় মানব পপুলেশনের আকার, গঠন, বন্টন এবং পরিবর্তন নিয়ে পরিসংখ্যানগত ও বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা করা হয়, তাকে ডেমোগ্রাফি বলে।

৬৩. সেনসাস (Census) বা আদমশুমারি কী?
উত্তর: একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর (ভারতে ১০ বছর) কোনো দেশের বা অঞ্চলের মোট জনসংখ্যা, লিঙ্গ, বয়স, শিক্ষা ইত্যাদি তথ্য সরকারিভাবে গণনা ও নথিভুক্ত করার পদ্ধতিকে সেনসাস বলে।

৬৪. জিরো পপুলেশন গ্রোথ (Zero Population Growth) কখন দেখা যায়?
উত্তর: যখন কোনো পপুলেশনে জন্মহার ও মৃত্যুহার সমান হয়, তখন জনসংখ্যার কোনো বৃদ্ধি ঘটে না। একে জিরো পপুলেশন গ্রোথ বলে।

৬৫. r-সিলেকটেড প্রজাতি (r-selected species) কাদের বলা হয়?
উত্তর: যে সব প্রজাতি পরিবর্তনশীল ও অনিশ্চিত পরিবেশে বাস করে, আকারে ছোট হয়, আয়ু কম এবং দ্রুত হারে প্রচুর সন্তান উৎপাদন করে। যেমন- ব্যাকটেরিয়া, পোকামাকড়।

৬৬. K-সিলেকটেড প্রজাতি (K-selected species) কাদের বলা হয়?
উত্তর: যে সব প্রজাতি স্থিতিশীল পরিবেশে বাস করে, আকারে বড়, আয়ু বেশি এবং কম সংখ্যক কিন্তু উন্নত মানের সন্তান উৎপাদন করে। যেমন- মানুষ, হাতি।

৬৭. সারভাইভারশিপ কার্ভ (Survivorship Curve) বা বেঁচে থাকার লেখচিত্র কী?
উত্তর: পপুলেশনের বিভিন্ন বয়সের জীবদের বেঁচে থাকার হারকে ছকের মাধ্যমে প্রকাশ করলে যে লেখচিত্র পাওয়া যায়, তাকে সারভাইভারশিপ কার্ভ বলে। (যেমন- উত্তল, অবতল ও সরলরেখা)।

৬৮. ইউরিথার্মাল (Eurythermal) প্রাণী কাদের বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে সব প্রাণী পরিবেশের তাপমাত্রার ব্যাপক পরিবর্তন সহ্য করতে পারে, তাদের ইউরিথার্মাল প্রাণী বলে। উদাহরণ: মানুষ, বাঘ, কুকুর।

৬৯. স্টেনোথার্মাল (Stenothermal) প্রাণী কাদের বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে সব প্রাণী তাপমাত্রার সামান্য পরিবর্তন সহ্য করতে পারে না বা একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পরিসরেই বাঁচতে পারে। উদাহরণ: পেঙ্গুইন, কোরাল।

৭০. ইউরিহ্যালিন (Euryhaline) ও স্টেনোহ্যালিন (Stenohaline) জীবের পার্থক্য কী? (২ নম্বর)
উত্তর: ১) ইউরিহ্যালিন জীব লবণের ঘনত্বের ব্যাপক পরিবর্তন সহ্য করতে পারে (যেমন- ইলিশ মাছ)।
২) স্টেনোহ্যালিন জীব লবণের ঘনত্বের সামান্য পরিবর্তন সহ্য করতে পারে না (যেমন- গোল্ডফিশ)।

৭১. হাইড্রোফাইট (Hydrophyte) বা জলজ উদ্ভিদ কাদের বলে?
উত্তর: যে সব উদ্ভিদ জলে বা অতিরিক্ত আর্দ্র পরিবেশে জন্মায়। এদের মূলতন্ত্র সুগঠিত নয় এবং বায়ুথলি থাকে। যেমন- পদ্ম, কচুরিপানা।

৭২. জেরোফাইট (Xerophyte) বা জাঙ্গল উদ্ভিদ কাদের বলে?
উত্তর: যে সব উদ্ভিদ শুষ্ক পরিবেশে বা মরুভূমিতে জন্মায় এবং জল সংরক্ষণের জন্য বিশেষ অভিযোজন দেখায়। যেমন- ফণীমনসা, বাবলা।

৭৩. হ্যালোফাইট (Halophyte) বা লবণের উদ্ভিদ কাদের বলে?
উত্তর: যে সব উদ্ভিদ সমুদ্র উপকূলবর্তী লবণাক্ত মাটিতে জন্মায়। যেমন- সুন্দরী, গরান (ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ)।

৭৪. পর্ণকাণ্ড (Phylloclade) কী? এর কাজ কী? (২ নম্বর)
উত্তর: ক্যাকটাস জাতীয় জেরোফাইট উদ্ভিদের কাণ্ডটি যখন চ্যাপ্টা, রসালো ও সবুজ পাতার মতো রূপ ধারণ করে, তাকে পর্ণকাণ্ড বলে।
কাজ: এটি জল সঞ্চয় করে এবং সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে।

৭৫. পর্ণবৃন্ত (Phyllode) কী?
উত্তর: আকাশমণি (Acacia) গাছের পাতার বৃন্তটি যখন চ্যাপ্টা ও প্রসারিত হয়ে পাতার মতো কাজ করে, তাকে পর্ণবৃন্ত বলে।

৭৬. নিউম্যাটোফোর (Pneumatophore) বা শ্বাসমূল কী? এর কাজ লেখো।
উত্তর: লবণাক্ত মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকায় ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের কিছু মূল মাটির ওপরে উঠে আসে, এদের শ্বাসমূল বলে।
কাজ: বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শ্বসন কার্যে সাহায্য করা।

৭৭. জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম (Viviparous Germination) কী?
উত্তর: ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের ফল গাছে থাকা অবস্থায় ফলের মধ্যেই বীজের অঙ্কুরোদগম ঘটে, একে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে। এটি লবণাক্ত মাটিতে বীজ নষ্ট হওয়া রোধ করে।

৭৮. ভেলমেন (Velamen) কী?
উত্তর: অর্কিড জাতীয় পরাশ্রয়ী উদ্ভিদের বায়বীয় মূলে অবস্থিত এক প্রকার স্পঞ্জি মৃত কলা, যা বাতাস থেকে জলীয় বাষ্প শোষণ করতে সাহায্য করে।

৭৯. হাইবারনেশন (Hibernation) বা শীতঘুম কী?
উত্তর: শীতকালে চরম ঠান্ডা থেকে বাঁচতে এবং শক্তি সঞ্চয় করতে কিছু প্রাণী (যেমন- ব্যাঙ, ভালুক) দীর্ঘসময় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় কাটায়, একে শীতঘুম বলে।

৮০. এস্টিভেশন (Aestivation) বা গ্রীষ্মঘুম কী?
উত্তর: গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরম ও জলশূন্যতা এড়াতে কিছু প্রাণী (যেমন- মাছ, শামুক) নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বা সুপ্তাবস্থায় থাকে, একে গ্রীষ্মঘুম বলে।

৮১. ডায়াপজ (Diapause) কী?
উত্তর: প্রতিকূল পরিবেশগত অবস্থায় অনেক জুপ্লাঙ্কটন এবং পতঙ্গ তাদের বৃদ্ধি ও বিকাশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে। এই অবস্থাকে ডায়াপজ বলে।

৮২. বার্গম্যানের সূত্র (Bergmann's Rule) কী? (২ নম্বর)
উত্তর: শীতপ্রধান অঞ্চলের উষ্ণরক্তী প্রাণীদের দেহের আকার বা আয়তন উষ্ণ অঞ্চলের প্রাণীদের তুলনায় বড় হয়। কারণ বড় আয়তন দেহ থেকে তাপ বর্জন কমাতে সাহায্য করে।

৮৩. অ্যালেনের সূত্র (Allen's Rule) কী? (২ নম্বর)
উত্তর: শীতল জলবায়ুর স্তন্যপায়ী প্রাণীদের প্রান্তীয় অঙ্গগুলি (যেমন- কান, লেজ, পা) উষ্ণ অঞ্চলের প্রাণীদের তুলনায় ছোট হয়। এটি দেহ থেকে তাপের অপচয় রোধ করতে সাহায্য করে।

৮৪. লবণাম্বু উদ্ভিদের (ম্যানগ্রোভ) দুটি অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য লেখো। (২ নম্বর)
উত্তর: ১) শ্বাসকার্য চালানোর জন্য শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর থাকে।
২) বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম দেখা যায়।

৮৫. জলজ উদ্ভিদের (হাইড্রোফাইট) দুটি অভিযোজন লেখো।
উত্তর: ১) এদের দেহকলায় বায়ুকুঠুরি বা অ্যারেনকাইমা থাকে যা ভাসতে সাহায্য করে।
২) এদের মূলে মূলত্র থাকে না (কচুরিপানা বাদে) এবং কিউটিকল প্রায় থাকে না।

৮৬. মরুজ উদ্ভিদের (জেরোফাইট) দুটি অভিযোজন লেখো। (২ নম্বর)
উত্তর: ১) বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয় অথবা পাতা খুব ছোট হয়।
২) ত্বকে পুরু কিউটিকল ও মোমের আস্তরণ থাকে এবং পত্ররন্ধ্র নিমজ্জিত (Sunken Stomata) প্রকৃতির হয়।

৮৭. সানকেন স্টোম্যাটা (Sunken Stomata) বা নিমজ্জিত পত্ররন্ধ্র কী? এর কাজ কী?
উত্তর: মরুজ উদ্ভিদের পাতার পত্ররন্ধ্রগুলি যখন ত্বকের গভীরে গর্তের মধ্যে অবস্থিত থাকে, তাকে সানকেন স্টোম্যাটা বলে।
কাজ: এটি বাতাসের প্রত্যক্ষ প্রবাহ থেকে দূরে থেকে বাষ্পমোচনের হার কমায়।

৮৮. উটের মরু অভিযোজনের জন্য দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। (২ নম্বর)
উত্তর: ১) উটের কুঁজে সঞ্চিত ফ্যাট বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় জারিত হয়ে জল (বিপাকীয় জল) উৎপন্ন করে।
২) উট খুব ঘন মূত্র ও শুষ্ক মল ত্যাগ করে দেহের জল সংরক্ষণ করে।

৮৯. মাছের পটকার অভিযোজনগত গুরুত্ব কী?
উত্তর: মাছের পটকা একটি উদস্থৈতিক (Hydrostatic) অঙ্গ। এটি মাছকে জলে ভাসতে, ডুবতে বা জলের যেকোনো তলে স্থির থাকতে সাহায্য করে।

৯০. পায়রার বায়ুথলির (Air sacs) সংখ্যা ও কাজ লেখো।
উত্তর: পায়রার দেহে ৯টি বায়ুথলি থাকে। এগুলি ওড়ার সময় দেহকে হালকা রাখে এবং অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে (দ্বি-শ্বসন)।

৯১. সুন্দরীর মূলে কী ধরণের চলন দেখা যায়?
উত্তর: প্রতিকূল অভিকর্ষবর্তী (Negative Geotropic) চলন দেখা যায় (শ্বাসমূল মাটির উপরে উঠে আসে)।

৯২. স্বাধীনজীবী ও মিথোজীবী নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়ার নাম লেখো।
উত্তর: স্বাধীনজীবী: অ্যাজোটোব্যাক্টর (Azotobacter)।
মিথোজীবী: রাইজোবিয়াম (Rhizobium)।

৯৩. ভি.এ.এম (VAM) কী?
উত্তর: VAM বা ভেসিকুলার আরবাসকুলার মাইকোরাইজা হলো এক ধরণের এন্ডোমাইকোরাইজা। এটি উদ্ভিদের মূলের কর্টেক্স কোষে প্রবেশ করে ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে।

৯৪. স্ক্যাভেঞ্জার (Scavenger) কাদের বলে?
উত্তর: যে সব প্রাণী মৃত প্রাণীর দেহাবশেষ খেয়ে পরিবেশ পরিষ্কার রাখে, তাদের স্ক্যাভেঞ্জার বা ধাঙ্গড় বলে। যেমন- শকুন, হায়না।

৯৫. ফাইটোপ্লাঙ্কটন ও জুপ্লাঙ্কটনের পার্থক্য কী?
উত্তর: ফাইটোপ্লাঙ্কটন হলো জলের আণুবীক্ষণিক উদ্ভিদ (যেমন- ভলভক্স), আর জুপ্লাঙ্কটন হলো জলের আণুবীক্ষণিক প্রাণী (যেমন- সাইক্লপস)।

৯৬. নেকটন ও বেন্থস বলতে কী বোঝো?
উত্তর: নেকটন: যারা জলে স্বাধীনভাবে সাঁতার কাটতে পারে (যেমন- মাছ)।
বেন্থস: যারা জলাশয়ের তলদেশে কাদার মধ্যে বসবাস করে (যেমন- শামুক, ঝিনুক)।

৯৭. একটি পূর্ণ পরজীবী প্রাণীর উদাহরণ দাও।
উত্তর: কৃমি (যেমন- অ্যাসকারিস বা গোলকৃমি)।

৯৮. পরজীবীর পোষক নির্দিষ্টতা (Host Specificity) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: অধিকাংশ পরজীবী শুধুমাত্র নির্দিষ্ট এক বা একাধিক প্রজাতির পোষক দেহেই বাঁচতে পারে এবং বংশবিস্তার করতে পারে। অন্য পোষক দেহে তারা বাঁচতে পারে না। একে পোষক নির্দিষ্টতা বলে।

৯৯. জনসংখ্যা বিস্ফোরণ (Population Explosion) কী?
উত্তর: স্বল্প সময়ের মধ্যে মৃত্যুহার হ্রাস এবং জন্মহার বৃদ্ধির ফলে কোনো অঞ্চলের জনসংখ্যা যখন অত্যধিক দ্রুত হারে বৃদ্ধি পায়, তখন তাকে জনসংখ্যা বিস্ফোরণ বলে।

১০০. বিশ্ব পরিবেশ দিবস কবে পালিত হয়?
উত্তর: ৫ই জুন।


🚀 উচ্চমাধ্যমিক জীববিদ্যা Premium Notes 🚀

"Organisms and Populations" অধ্যায়ের আরো ১০০টি এক্সক্লুসিভ প্রশ্ন ও উত্তর (Part-2) এখন তৈরি!

✅ পরীক্ষায় কমন আসার মতো বাছাই করা প্রশ্ন।

✅ সহজ ভাষায় পয়েন্ট ভিত্তিক উন্নত মানের নোটস।

⚡ অফার প্রাইস: মাত্র ১৯ টাকা (₹19)

🔥 এই প্রিমিয়াম নোটসটি সংগ্রহ করতে এখনই হোয়াটসঅ্যাপ করুন:

💬 WhatsApp: 7439455393

(লিঙ্কে ক্লিক করলেই সরাসরি মেসেজ টাইপ হয়ে যাবে)

আপনার মতামত কমেন্ট করে জানাবেন।