আমাদের সমস্ত সাজেশন, নোটস দেখুন
প্রকাশিত Premium সাজেশন, নোটস
HomeInformation

রেলের CBT পরীক্ষায় ঝড়ের গতিতে প্রশ্ন সমাধানের সেরা ৫টি কৌশল | Railway Exam Time Management Tips - Bigyanbook

রেলের CBT পরীক্ষায় ঝড়ের গতিতে প্রশ্ন সমাধানের সেরা ৫টি কৌশল | Railway Exam Time Management Tips - Bigyanbook

নমস্কার বন্ধুরা! আপনাদের প্রিয় শিক্ষামূলক পোর্টাল Bigyanbook-এ আপনাদের আবারও স্বাগত। আপনি যদি ভারতীয় রেলওয়েতে চাকরি করার স্বপ্ন দেখে থাকেন, তবে আজকের এই লেখাটি আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আজ আমরা এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব, যা পড়ার টেবিলে বা কোচিং সেন্টারে সচরাচর শেখানো হয় না। বিষয়টি হলো—পরীক্ষার হলে বসে কম্পিউটারের সামনে মাউস হাতে নিয়ে কিভাবে আপনি অন্যদের থেকে ১০ গুণ বেশি গতিতে প্রশ্ন সমাধান করবেন?

রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড (RRB) আয়োজিত NTPC, Group D (RRC Level 1), ALP (Assistant Loco Pilot), Technician, Junior Engineer (JE) এবং Ministerial & Isolated Categories-এর মতো পরীক্ষাগুলোতে লক্ষ লক্ষ, এমনকি কোটি কোটি পরীক্ষার্থী আবেদন করেন। কিন্তু সিট সংখ্যা সীমিত। এই বিশাল প্রতিযোগিতায় যারা টিকে থাকেন, তাদের জ্ঞান অন্যদের চেয়ে খুব বেশি থাকে তা কিন্তু নয়; তাদের আসল শক্তি হলো—স্পিড (Speed) এবং অ্যাকিউরেসি (Accuracy)। ৯০ মিনিটে ১০০টি প্রশ্ন বা ১২০টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া কোনো ছেলেখেলা নয়। এর জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কৌশল, মানসিক প্রস্তুতি এবং স্মার্ট ওয়ার্ক।

আজ Bigyanbook আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে রেলের CBT (Computer Based Test) ক্র্যাক করার এক মহাকাব্যিক গাইডলাইন। চলুন, ধাপে ধাপে জেনে নিই জাদুর মন্ত্রগুলো।


পর্ব ১: প্রতিপক্ষকে চিনুন (CBT ইন্টারফেস ও সফটওয়্যার বোঝা)

যেকোনো যুদ্ধে জেতার প্রথম শর্ত হলো শত্রুকে চেনা। এখানে আপনার শত্রু বা প্রতিপক্ষ হলো কম্পিউটার স্ক্রিন এবং পরীক্ষার টাইমার। রেলের পরীক্ষার সফটওয়্যারটি TCS (Tata Consultancy Services) বা অন্য যে ভেন্ডরই তৈরি করুক, তার ইন্টারফেসটি বোঝা খুব জরুরি।

প্রশ্ন প্যালেট (Question Palette) এর রঙের খেলা

স্ক্রিনের ডানদিকে প্রশ্নের নম্বরগুলো বিভিন্ন রঙে দেখা যায়। এই রঙের অর্থ না বুঝলে আপনি বিপদে পড়তে পারেন:

  • সবুজ (Green): আপনি উত্তর দিয়েছেন এবং সেভ করেছেন। এটিই কেবল নম্বরের জন্য গণ্য হবে।
  • লাল (Red): আপনি প্রশ্নটি দেখেছেন কিন্তু উত্তর দেননি।
  • সাদা (Grey): আপনি প্রশ্নটি এখনো দেখেননি।
  • বেগুনি (Violet/Mark for Review): আপনি উত্তর দেননি কিন্তু পরে দেখার জন্য মার্ক করে রেখেছেন।
  • বেগুনি সঙ্গে সবুজ ফুটকি (Answered & Marked for Review): আপনি উত্তর দিয়েছেন কিন্তু রিভিউর জন্য রেখেছেন। মনে রাখবেন, রেলের নতুন নিয়মে অনেক সময় এই প্রশ্নগুলো মূল্যায়নের জন্য গ্রাহ্য হয়, আবার অনেক সময় হয় না। তাই রিস্ক না নিয়ে ফাইনালে এটিকে 'সবুজ' বা কনফার্ম করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Bigyanbook টিপস: পরীক্ষার হলে মাউস দিয়ে বারবার প্যালেটে ক্লিক করে প্রশ্ন পরিবর্তন করবেন না। এতে প্রতিবার ২-৩ সেকেন্ড সময় নষ্ট হয়। 'Save & Next' বাটনটি ব্যবহার করে দ্রুত এগিয়ে যান।


পর্ব ২: গোল্ডেন রুল - 'থ্রি রাউন্ড মেথড' (The 3-Round Strategy)

টপাররা কখনোই ১ নম্বর প্রশ্ন থেকে শুরু করে ১০০ নম্বর পর্যন্ত একনাগাড়ে সমাধান করেন না। তারা পুরো সময়টাকে তিনটি ভাগে ভাগ করেন। একে আমরা বলি 'থ্রি রাউন্ড মেথড'

রাউন্ড ১: সুপারসনিক স্পিড (Super-sonic Speed) - সময়: ৪০ মিনিট

পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর আপনার লক্ষ্য হবে ১ থেকে ১০০ নম্বর প্রশ্ন পর্যন্ত একবার চোখের দেখা দেখে ফেলা। এই রাউন্ডে আপনি:

  • GK, Current Affairs, Science এবং Computer-এর প্রশ্নগুলো উত্তর দেবেন। কারণ এগুলো পড়তে ৫ সেকেন্ড এবং উত্তর দিতে ২ সেকেন্ড লাগে।
  • খুব সহজ Math এবং Reasoning (যা মুখে মুখে করা যায়) সমাধান করবেন।
  • যে প্রশ্নে খাতা-কলম ছোঁয়ানোর দরকার হবে বা একটু ভাবতে হবে, সেটি দেখামাত্রই SKIP বা Mark for Review করে এগিয়ে যাবেন।

লাভ: এর ফলে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন যে, পরীক্ষার শেষে লুকিয়ে থাকা সহজ প্রশ্নগুলো আপনার মিস হয়নি। অনেক ছাত্র ৯০টি প্রশ্ন দেখে সময় শেষ করে ফেলে, অথচ ৯১-১০০ নম্বরের প্রশ্নগুলো হয়তো জলের মতো সহজ ছিল।

রাউন্ড ২: ক্যালকুলেশন জোন (Calculation Zone) - সময়: ৩৫ মিনিট

এবার আপনি আবার প্রথম থেকে শুরু করুন এবং সেই প্রশ্নগুলো দেখুন যেগুলো আপনি 'Mark for Review' বা লাল রঙে রেখে এসেছিলেন। এই রাউন্ডে মূলত মডারেট লেভেলের অঙ্ক এবং রিজনিং সমাধান করবেন। এখন একটু সময় নিয়ে অঙ্ক কষুন।

রাউন্ড ৩: রিস্ক জোন (Risk Zone) - সময়: ১৫ মিনিট

হাতে যদি সময় বাঁচে, তবেই খুব কঠিন বা বড় পাজল (Puzzle) নিয়ে বসুন। যদি দেখেন উত্তর মিলছে না, তবে 'টুক্কা' মারবেন না। রেলের পরীক্ষায় ১/৩ নেগেটিভ মার্কিং থাকে, যা আপনার র‍্যাঙ্ক ধ্বংস করে দিতে পারে।


পর্ব ৩: বিষয়ভিত্তিক স্পিড হ্যাকস (Subject-wise Speed Hacks)

প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা কৌশল অবলম্বন করতে হবে। Bigyanbook প্রতিটি বিষয়ের জন্য গভীর বিশ্লেষণ দিচ্ছে:

১. গণিত (Mathematics): ভয়ের কারণ নাকি শক্তির উৎস?

রেলের পরীক্ষায় অঙ্কই হলো আসল গেম চেঞ্জার। এখানে সময় বাঁচাতে হলে আপনাকে 'শর্টকাট' এবং 'কন্সেপ্ট'-এর মিশ্রণ ঘটাতে হবে।

ক) অপশন এলিমিনেশন (Option Elimination):

অঙ্ক কষে উত্তর বের করার চেয়ে, অপশন দেখে ভুল উত্তর বাদ দেওয়া অনেক দ্রুত হয়।

  • ইউনিট ডিজিট (Unit Digit): ধরুন গুণ করতে হবে $456 \times 89$। পুরো গুণ না করে শুধু $6 \times 9 = 54$ দেখুন। অর্থাৎ উত্তরের শেষে ৪ থাকবে। অপশনে যদি একটাই সংখ্যার শেষে ৪ থাকে, তবে সেটিই উত্তর।
  • ডিজিটাল সাম (Digital Sum): যোগ বা গুণের ক্ষেত্রে অঙ্কের সব ডিজিট যোগ করে ৯ দিয়ে ভাগ করার পদ্ধতিটি শিখলে ক্যালকুলেটরের চেয়ে দ্রুত উত্তর বের করা সম্ভব।

খ) মুখস্থ করার শক্তি:

পরীক্ষার হলে বসে $২৫ \times ২৫$ গুণ করলে আপনার চাকরি হবে না। আপনাকে মুখস্থ রাখতে হবে:

  • ১ থেকে ৩০ পর্যন্ত নামতা (Tables)।
  • ১ থেকে ৫০ পর্যন্ত সংখ্যার বর্গ (Squares)।
  • ১ থেকে ২০ পর্যন্ত সংখ্যার ঘন (Cubes)।
  • মৌলিক সংখ্যা (Prime Numbers) ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত।
  • শতাংশ থেকে ভগ্নাংশ রূপান্তর (যেমন $১৬.৬৬\% = ১/৬$, $১২.৫\% = ১/৮$ ইত্যাদি)।

গ) অ্যালজেবরা ও ত্রিকোণমিতি হ্যাকস:

বীজগণিত বা ত্রিকোণমিতির অনেক প্রশ্নে $\theta$ বা $x$-এর মান ০, ১ বা ৯০ ডিগ্রি ধরে নিলে ৫ সেকেন্ডে উত্তর চলে আসে। বড় সূত্র ফেলার দরকার হয় না।

২. রিজনিং (General Intelligence & Reasoning): মস্তিষ্কের ব্যায়াম

রিজনিং সহজ মনে হলেও এটিই সবচেয়ে বেশি সময় খায়।

  • কোডিং-ডিকোডিং: A=1, B=2... Z=26 এবং উল্টো দিক থেকে Z=1, A=26—এই মানগুলো ঠোঁটের আগায় রাখুন। "EJOTY" বা "CFILORUX" সূত্র ব্যবহার করুন।
  • সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট ও পাজল: যদি দেখেন প্রশ্নে ৮ জন ব্যক্তি, উত্তর দিকে মুখ করে, ৩টি আলাদা শর্তে বসে আছে—তবে শুরুতে এই প্রশ্ন ধরবেন না। এটি পরীক্ষার শেষের জন্য রাখুন। এগুলো হলো 'টাইম ট্র্যাপ'।
  • সিলোলিজম (Syllogism): ভেন ডায়াগ্রাম (Venn Diagram) আঁকতে সময় লাগে। এর বদলে '100-50 method' শিখুন। এতে খাতা-কলম ছাড়াই সিলোলিজম সমাধান করা যায়।
  • মিরর ও ওয়াটার ইমেজ: রাফ শিটে শব্দটি লিখে উল্টে আলোতে ধরলে আয়নার প্রতিবিম্ব দেখা যায়। এটি ১০০% নির্ভুল পদ্ধতি।

৩. জেনারেল সায়েন্স ও জেনারেল অ্যাওয়ারনেস (GS & GA)

এখানে কৌশল হলো—"পড়ো এবং টিক দাও"।

  • এখানে ভাবার কিছু নেই। আপনি হয়তো জানেন, নয়তো জানেন না।
  • গড়পড়তা একটি জিকে প্রশ্নের জন্য ৭ সেকেন্ডের বেশি সময় দেবেন না।
  • বিশাল বড় স্টেটমেন্ট দেওয়া প্রশ্নগুলো (Statement based questions) শেষের জন্য রাখুন, কারণ এগুলো পড়তে সময় লাগে।
  • কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স-এর ক্ষেত্রে বিগত ১ বছরের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ, পুরস্কার, খেলাধুলা এবং যোজনাগুলো দেখে যান।

পর্ব ৪: 'স্কিপ' করার মানসিকতা (The Art of Skipping)

Bigyanbook-এর মতে, একজন সফল পরীক্ষার্থী তিনি নন যিনি সব প্রশ্নের উত্তর জানেন, বরং তিনি, যিনি জানেন কোন প্রশ্নটি ছাড়তে হবে।

রেলের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে কিছু 'স্পিড ব্রেকার' (Speed Breaker) থাকে। যেমন—অদ্ভুত ডেটা দেওয়া কোনো সিম্প্লিফিকেশন বা জটিল ভাষার ব্লাড রিলেশন। এই প্রশ্নগুলো আপনাকে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করবে। আপনি ভাববেন, "আমি এত অঙ্ক প্র্যাকটিস করলাম আর এটা পারব না?" এই জেদ আপনাকে ডোবাবে।

মনে রাখবেন: কঠিনতম পাজলটি সমাধান করলেও আপনি ১ নম্বর পাবেন, আর ভারতের রাজধানীর নাম লিখলেও ১ নম্বর পাবেন। তাই সহজ ১ নম্বরগুলো আগে পকেটে পুরুন।


পর্ব ৫: রাফ শিট ম্যানেজমেন্ট (Rough Sheet Strategy)

অনেকে ভাবেন রাফ শিট তো ফালতু কাগজ, যা খুশি তাই লেখা যায়। কিন্তু দ্রুত সমাধানের জন্য রাফ শিট ম্যানেজমেন্ট খুব জরুরি।

  • ভাঁজ করুন: রাফ শিট পাওয়ার পর সেটিকে মাঝখান থেকে ভাঁজ করে বা দাগ দিয়ে ভাগ করে নিন।
  • সিরিয়াল নম্বর: অঙ্ক করার সময় রাফ শিটে প্রশ্নের নম্বরটি ছোট করে লিখে রাখুন। কারণ, যদি কোনো অঙ্ক মাঝপথে ছেড়ে দেন এবং পরে আবার করতে আসেন, তবে আগের ক্যালকুলেশনটি খুঁজে পেলে আপনার সময় বাঁচবে।
  • পরিচ্ছন্নতা: খুব ছোট বা খুব বড় করে লিখবেন না। অপরিচ্ছন্ন ক্যালকুলেশনের কারণে নিজের লেখা নিজেই বুঝতে না পেরে অনেকে আবার প্রথম থেকে অঙ্ক কষেন, যা সময়ের অপচয়।

পর্ব ৬: মক টেস্ট এবং অ্যানালিসিস (The Real Game Changer)

দ্রুত প্রশ্ন সমাধানের ক্ষমতা একদিনে তৈরি হয় না। এর জন্য চাই কঠোর অনুশীলন।

কিভাবে মক টেস্ট দেবেন?

  1. টাইম প্রেসার তৈরি করুন: বাড়িতে যখন মক টেস্ট দেবেন, তখন ৯০ মিনিটের টাইমার সেট করবেন না। সেট করুন ৮০ বা ৭৫ মিনিট। আপনার মস্তিষ্ককে কম সময়ে কাজ করতে বাধ্য করুন। পরীক্ষার হলে এই অভ্যাস আপনাকে বাড়তি সুবিধা দেবে।
  2. ডিস্টার্বেন্স মেনে নিন: পরীক্ষার হলে মাউসের খটখট শব্দ, ইনভিজিলেটরের হাঁটাচলা, ফ্যানের আওয়াজ থাকবে। তাই বাড়িতে পিনপতন নীরবতায় পরীক্ষা না দিয়ে মাঝে মাঝে একটু আওয়াজের মধ্যে পরীক্ষা দেওয়ার অভ্যাস করুন।

মক টেস্ট অ্যানালিসিস (Analysis)

পরীক্ষা দেওয়ার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো অ্যানালিসিস করা। পরীক্ষার পর দেখুন:

  • সিলি মিস্টেক (Silly Mistake): জানা প্রশ্ন কয়টা ভুল করলেন? কেন করলেন? তাড়াহুড়ো নাকি প্রশ্ন না পড়ে?
  • সময় খেকো প্রশ্ন: কোন প্রশ্নটিতে ৩ মিনিটের বেশি সময় লেগেছে? পরের বার এমন প্রশ্ন দেখলে কি করবেন?
  • না পারা প্রশ্ন: যে টপিকগুলো পারলেন না, সেগুলো বই খুলে আবার পড়ুন।

পর্ব ৭: শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি

কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ৯০ মিনিট পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখা চোখের এবং মস্তিষ্কের জন্য ক্লান্তিকর।

  • চোখের যত্ন: পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় '20-20-20' রুল মেনে চলুন। প্রতি ২০ মিনিট পড়ার পর ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখের ফোকাস বাড়ে।
  • ঘুম: পরীক্ষার আগের রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান। ক্লান্ত মস্তিষ্ক কখনোই দ্রুত অঙ্ক করতে পারে না।
  • হাইড্রেটেড থাকুন: ডিহাইড্রেশন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

পর্ব ৮: পরীক্ষার দিনের কিছু স্পেশাল হ্যাকস

১. প্রশ্ন ভালো করে পড়ুন: অনেক সময় প্রশ্নে লেখা থাকে "নিচের কোনটি মৌলিক সংখ্যা নয়?" আমরা তাড়াহুড়োতে 'নয়' শব্দটি দেখি না এবং ভুল উত্তর দিয়ে আসি। 'Not', 'Incorrect', 'False' শব্দগুলো সতর্ক হয়ে দেখুন।

২. ভাষা পরিবর্তন: CBT পরীক্ষায় আপনি যেকোনো সময় প্রশ্নের ভাষা পরিবর্তন করতে পারেন। ধরুন কোনো ইংরেজি শব্দ বুঝতে পারছেন না, এক ক্লিকে সেটি বাংলায় বা হিন্দিতে দেখে নিন। অনেক সময় বিজ্ঞানের জটিল টার্ম ইংরেজিতে সহজ মনে হয়।

৩. মাউসের ব্যবহার কমান: এক হাত মাউসে এবং অন্য হাত কিবোর্ডে রাখার দরকার নেই (সাধারণত কিবোর্ড লক থাকে)। এক হাত মাউসে রাখুন এবং অন্য হাতে কলম প্রস্তুত রাখুন। চোখ স্ক্রিনে আর হাত রাফ শিটে—এই কো-অর্ডিনেশন প্র্যাকটিস করুন।


পর্ব ৯: নরম্যালাইজেশন (Normalization) ও অ্যাকিউরেসি

রেলের পরীক্ষায় একাধিক শিফটে পরীক্ষা হয়, তাই Normalization একটি বড় ফ্যাক্টর। অনেকে মনে করেন বেশি প্রশ্ন অ্যাটেন্ড করলেই বেশি নম্বর পাওয়া যাবে। এটি ভুল ধারণা।

যদি আপনি ১০০টির মধ্যে ৯০টি উত্তর দেন এবং ৩০টি ভুল করেন, তবে নেগেটিভ মার্কিংয়ের পর আপনার নম্বর অনেক কমে যাবে। তার ওপর, অ্যাকিউরেসি খারাপ হলে নরম্যালাইজেশনে নম্বর বাড়ার সম্ভাবনা কমে যায় (যদিও রেলওয়ে অফিসিয়ালি অ্যাকিউরেসির কথা বলে না, কিন্তু অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে কম ভুল করা ছাত্ররা লাভবান হয়)। তাই আন্দাজে ঢিল মারা বন্ধ করুন।


উপসংহার

বন্ধুরা, রেলের চাকরি শুধু একটি সরকারি চাকরি নয়, এটি একটি সম্মান এবং সুরক্ষার প্রতীক। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে আপনাকে আজ থেকেই নিজেকে বদলাতে হবে। শুধু বই পড়লে হবে না, স্মার্ট হতে হবে।

Bigyanbook-এর এই আর্টিকেলে বলা প্রতিটি পয়েন্ট যদি আপনি নোট করে নেন এবং আপনার দৈনন্দিন মক টেস্টে প্রয়োগ করেন, তবে কথা দিচ্ছি—পরীক্ষার হলে কোনো প্রশ্নই আপনাকে আটকাতে পারবে না। আপনার স্পিড হবে ঝড়ের মতো, আর লক্ষ্য হবে অর্জুনের মতো স্থির।

মনে রাখবেন, "The difference between ordinary and extraordinary is that little extra." আজ থেকেই সেই 'Extra' প্রচেষ্টা শুরু করুন।

রেলের পরীক্ষার লেটেস্ট আপডেট, স্টাডি মেটেরিয়াল এবং আরও টিপস পেতে আমাদের ওয়েবসাইট Bigyanbook ভিজিট করতে ভুলবেন না। আপনার সাফল্যের যাত্রায় আমরা সবসময় আপনার পাশে আছি।

শুভকামনা রইল! জয় হিন্দ!

- টিম Bigyanbook

Post a Comment (0)
বিজ্ঞানবুকের থেকে তুমি কী চাইছো? Join us on WhatsApp
⚠️
AdBlocker Detected
We noticed that you are using an AdBlocker.

Our website is free to use, but we need ads to cover our server costs. Please disable your AdBlocker and reload the page to continue reading.

My Favorites

See your favorite posts by clicking the love icon at the top