16:9 thumbnail তৈরি করো। ক্লাস 9 জীবন বিজ্ঞান: রেচন notes

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ - নবম শ্রেণি - জীবনবিজ্ঞান: রেচন (Excretion) সম্পূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, Bigyanbook-এ তোমাদের স্বাগত। আজকের এই পোস্টে আমরা পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) নবম শ্রেণির জীবনবিজ্ঞান সিলেবাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় 'রেচন (Excretion)' থেকে সমস্ত ধরণের প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রিমিয়াম নোটসটি তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এখানে ১ নম্বর, ২ নম্বর এবং দীর্ঘ প্রশ্নগুলির উত্তর এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে তোমরা পরীক্ষায় পুরো নম্বর পেতে পারো।


বিভাগ ক: অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান - ১)

১. রেচন কাকে বলে?
উত্তর: যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহে উৎপন্ন ক্ষতিকারক নাইট্রোজেন যুক্ত বা নাইট্রোজেন বিহীন বিপাকীয় দূষিত পদার্থগুলি জীবদেহ থেকে নির্গত হয় এবং জীবদেহ সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকে, তাকে রেচন বা Excretion বলে।

২. মানুষের প্রধান রেচন অঙ্গের নাম কী?
উত্তর: মানুষের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো বৃক্ক বা কিডনি (Kidney)।

৩. উদ্ভিদের একটি নাইট্রোজেন যুক্ত ও একটি নাইট্রোজেন বিহীন রেচন পদার্থের নাম লেখো।
উত্তর: উদ্ভিদের একটি নাইট্রোজেন যুক্ত রেচন পদার্থ হলো কুইনাইন এবং একটি নাইট্রোজেন বিহীন রেচন পদার্থ হলো রজন (Resin)।

৪. নেফ্রিডিয়া (Nephridia) কোন প্রাণীর রেচন অঙ্গ?
উত্তর: নেফ্রিডিয়া হলো কেঁচো ও জোঁক-এর রেচন অঙ্গ।

৫. ম্যালপিজিয়ান নালিকা কাদের রেচন অঙ্গ?
উত্তর: আরশোলা, ফড়িং ইত্যাদি পতঙ্গ শ্রেণীর প্রাণীদের রেচন অঙ্গ হলো ম্যালপিজিয়ান নালিকা।

৬. অ্যামিবা ও স্পঞ্জ এর রেচন অঙ্গের নাম কী?
উত্তর: অ্যামিবার রেচন অঙ্গ হলো সংকোচনশীল গহ্বর বা কন্ট্রাকটাইল ভ্যাকিউল এবং স্পঞ্জের রেচন অঙ্গ হলো দেহতল।

৭. মানুষের মূত্রের রং হালকা হলুদ হয় কেন?
উত্তর: মানুষের মূত্রে ইউরোক্রোম (Urochrome) নামক রঞ্জক পদার্থ থাকায় মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়।

৮. ফ্লেম কোষ বা শিখা কোষ কোন প্রাণীর রেচন অঙ্গ?
উত্তর: ফিতাকৃমি এবং প্ল্যানেরিয়া-এর রেচন অঙ্গ হলো ফ্লেম কোষ।

৯. একটি প্রাণীর নাম লেখো যার রেচন অঙ্গ সবুজ গ্রন্থি (Green Gland)?
উত্তর: চিংড়ির রেচন অঙ্গ হলো সবুজ গ্রন্থি বা শুঙ্গ গ্রন্থি।

১০. বৃক্কের গঠনগত ও কার্যগত এককের নাম কী?
উত্তর: বৃক্কের গঠনগত ও কার্যগত একক হলো নেফ্রন (Nephron)।


বিভাগ খ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান - ২)

১. রেচন ও ক্ষরণের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর:

  • রেচন: রেচনের ফলে উৎপন্ন পদার্থগুলি জীবদেহের পক্ষে ক্ষতিকারক, তাই এরা দেহ থেকে নির্গত হয়ে যায়। যেমন- মূত্র, ঘাম।
  • ক্ষরণ: ক্ষরণের ফলে উৎপন্ন পদার্থগুলি জীবদেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে অংশগ্রহণ করে। যেমন- হরমোন, উৎসেচক।

২. উপক্ষার বা অ্যালকালয়েড (Alkaloid) কী? এর দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: উদ্ভিদের প্রোটিন বিপাকের ফলে উৎপন্ন, নাইট্রোজেন যুক্ত, জলে অদ্রবণীয় কিন্তু অ্যালকোহলে দ্রবণীয়, তিক্ত স্বাদযুক্ত কঠিন রেচন পদার্থকে উপক্ষার বলে।
উদাহরণ: সিঙ্কোনা গাছের বাকল থেকে প্রাপ্ত 'কুইনাইন' এবং কফি গাছের বীজ থেকে প্রাপ্ত 'ক্যাফিন'।

৩. গাম বা গঁদ কী? এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: গঁদ হলো উদ্ভিদের একপ্রকার নাইট্রোজেন বিহীন রেচন পদার্থ যা সেলুলোজ নির্মিত কোষপ্রাচীর বিনষ্ট হওয়ার ফলে সৃষ্টি হয়। এটি জলে দ্রবণীয়।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: গঁদ আঠা হিসেবে, বই বাঁধাইয়ের কাজে এবং বিভিন্ন শিল্পে (যেমন- ছাপার কালি তৈরিতে) ব্যবহৃত হয়।

৪. মানুষের আনুষঙ্গিক রেচন অঙ্গগুলির নাম লেখো।
উত্তর: মানুষের প্রধান রেচন অঙ্গ বৃক্ক ছাড়াও অন্যান্য আনুষঙ্গিক রেচন অঙ্গগুলি হলো— যকৃৎ (Liver), ফুসফুস (Lungs) এবং চর্ম বা ত্বক (Skin)।

৫. তরুক্ষীর বা ল্যাটেক্স (Latex) কী?
উত্তর: উদ্ভিদদেহের তরুক্ষীর কোষে বা তরুক্ষীর নালিতে সঞ্চিত সাদা দুধের মতো বা জলীয়, নাইট্রোজেন যুক্ত বা বিহীন জটিল রেচন পদার্থকে তরুক্ষীর বলে। যেমন- রবার, পেঁপে, বট ইত্যাদি গাছের সাদা রস।

৬. সিউবাম (Sebum) কী?
উত্তর: মানুষের ত্বকে অবস্থিত সিবেসিয়াস গ্রন্থি (Sebaceous gland) থেকে নিঃসৃত একপ্রকার তৈলাক্ত ক্ষরণ পদার্থকে সিউবাম বলে। এর সাথে সামান্য পরিমাণ কোলেস্টেরল, ফ্যাটি অ্যাসিড ইত্যাদি রেচন পদার্থ হিসেবে দেহ থেকে নির্গত হয়।


বিভাগ গ: রচনাধর্মী / দীর্ঘ প্রশ্ন ও উত্তর (মান - ৩ / ৫)

১. উদ্ভিদের রেচন ত্যাগের বিভিন্ন পদ্ধতিগুলো আলোচনা করো।
উত্তর: প্রাণীদের মতো উদ্ভিদের কোনো নির্দিষ্ট রেচন অঙ্গ বা তন্ত্র থাকে না। উদ্ভিদেরা সাধারণত নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলির মাধ্যমে তাদের রেচন পদার্থ ত্যাগ করে:

  1. পত্রমোচন (Leaf fall): বেশিরভাগ উদ্ভিদ তাদের রেচন পদার্থ পাতায় সঞ্চয় করে রাখে। বছরের একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে পাতা ঝরিয়ে (যেমন- শিমুল, শিরীষ, আমড়া) অথবা সারাবছর ধরে অল্প অল্প পাতা ঝরিয়ে (যেমন- আম, জাম, কাঁঠাল) তারা রেচন পদার্থ ত্যাগ করে।
  2. বাকল মোচন (Bark fall): কিছু উদ্ভিদ তাদের কাণ্ডের ছাল বা বাকলে রেচন পদার্থ সঞ্চয় করে রাখে। পরে ছাল মোচনের মাধ্যমে সেই রেচন পদার্থ ত্যাগ করে। উদাহরণ: পেয়ারা, অর্জুন, ইউক্যালিপটাস গাছ।
  3. ফল মোচন (Fruit fall): অনেক উদ্ভিদ তাদের ফলের ত্বকে বা শাঁসে রেচন পদার্থ সঞ্চয় করে রাখে। ফল পেকে ঝরে পড়ার মাধ্যমে উদ্ভিদ রেচন পদার্থ ত্যাগ করে। উদাহরণ: লেবুর ফলের ত্বকে সাইট্রিক অ্যাসিড, তেঁতুলে টারটারিক অ্যাসিড, আপেলে ম্যালিক অ্যাসিড সঞ্চিত থাকে।

২. মানুষের রেচনতন্ত্রের প্রধান অংশগুলির নাম লেখো এবং বৃক্কের কাজ উল্লেখ করো।
উত্তর:
মানুষের রেচনতন্ত্রের প্রধান অংশগুলি হলো:

  • একজোড়া বৃক্ক (Kidney)
  • একজোড়া গোবিনী বা মূত্রনালি (Ureter)
  • একটি মূত্রাশয় (Urinary bladder)
  • একটি মূত্রনালি (Urethra)
বৃক্কের কাজ:
  • মূত্র উৎপাদন: বৃক্ক রক্তকে পরিশ্রুত করে দেহ থেকে নাইট্রোজেন ঘটিত দূষিত পদার্থ (ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড) মূত্ররূপে বের করে দেয়।
  • জলের ভারসাম্য রক্ষা: দেহে জলের পরিমাণ ঠিক রাখতে বৃক্ক সাহায্য করে।
  • অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য: রক্তে pH এর মাত্রা বা অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য বজায় রাখে।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: বৃক্ক থেকে নিঃসৃত রেনিন (Renin) নামক হরমোন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৩. নেফ্রনের গঠন সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: বৃক্কের গঠনগত ও কার্যগত একক নেফ্রনের প্রধান দুটি অংশ হলো— ম্যালপিজিয়ান করপাসল এবং বৃক্কীয় নালিকা

  1. ম্যালপিজিয়ান করপাসল: এটি নেফ্রনের অগ্রভাগে অবস্থিত। এর দুটি অংশ:
    • বাওম্যান্স ক্যাপসুল: এটি দ্বি-স্তরীয়, পেয়ালার মতো আকৃতি বিশিষ্ট একটি অংশ।
    • গ্লোমেরুলাস: বাওম্যান্স ক্যাপসুলের গহ্বরে অবস্থিত রক্তজালকের একটি গুচ্ছকে গ্লোমেরুলাস বলে। এটি পরিশ্রাবক রূপে কাজ করে।
  2. বৃক্কীয় নালিকা: বাওম্যান্স ক্যাপসুলের পর থেকে সংগ্রাহী নালিকা পর্যন্ত বিস্তৃত নলাকার অংশটি হলো বৃক্কীয় নালিকা। এর তিনটি অংশ:
    • নিকটবর্তী সংবর্ত নালিকা (PCT): বাওম্যান্স ক্যাপসুল সংলগ্ন প্যাঁচানো নালিকা।
    • হেনলির লুপ: এটি U-আকৃতির একটি নালিকা।
    • দূরবর্তী সংবর্ত নালিকা (DCT): হেনলির লুপের পরবর্তী প্যাঁচানো নালিকা যা সংগ্রাহী নালিকায় যুক্ত হয়।

৪. মূত্র উৎপাদনে নেফ্রনের ভূমিকা বা মূত্র উৎপাদনের পদ্ধতিটি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: বিজ্ঞানী কুশনির মতে মূত্র উৎপাদনের পদ্ধতিটি প্রধানত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়:

  1. গ্লোমেরুলাসে পরিশ্রাবণ (Ultrafiltration): রক্ত অন্তর্মুখী ধমনীকা দিয়ে গ্লোমেরুলাসে প্রবেশ করে। সেখানে উচ্চচাপের সৃষ্টি হওয়ায় রক্ত পরিশ্রুত হয়ে বাওম্যান্স ক্যাপসুলে প্রবেশ করে। এই পরিশ্রুত তরলে জল, গ্লুকোজ, ইউরিয়া, অ্যামাইনো অ্যাসিড ইত্যাদি থাকে। একে গ্লোমেরুলার ফিলট্রেট বলে।
  2. বৃক্কীয় নালিকায় পুনঃশোষণ (Reabsorption): পরিশ্রুত তরলটি বৃক্কীয় নালিকার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় দেহের প্রয়োজনীয় পদার্থগুলি (যেমন- গ্লুকোজ, প্রয়োজনীয় জল, খনিজ লবণ) নালিকার গাত্র দ্বারা পুনরায় শোষিত হয়ে রক্তে ফিরে যায়।
  3. নালিকার ক্ষরণ (Tubular Secretion): পুনঃশোষণের পাশাপাশি বৃক্কীয় নালিকার কোষগুলি থেকে ক্রিয়েটিনিন, হিপিউরিক অ্যাসিড ইত্যাদি রেচন পদার্থ ক্ষরিত হয়ে নালিকার গহ্বরে প্রবেশ করে। এরপর এই তরল সংগ্রাহী নালিকায় পৌঁছায় যা সম্পূর্ণভাবে মূত্র বা Urine-এ পরিণত হয়।

৫. রেচনে যকৃৎ, ফুসফুস এবং চর্মের (ত্বকের) ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর:

  • যকৃৎ (Liver) এর ভূমিকা: যকৃৎ অরনিথিন চক্রের মাধ্যমে অ্যামোনিয়াকে ইউরিয়ায় পরিণত করে। এছাড়া যকৃৎ বিলিরুবিন, বিলিভার্ডিন নামক পিত্তরঞ্জক সৃষ্টি করে যা মলের মাধ্যমে দেহ থেকে নির্গত হয়।
  • ফুসফুস (Lungs) এর ভূমিকা: কোষীয় শ্বসনের ফলে উৎপন্ন ক্ষতিকারক কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং জলীয় বাষ্প প্রশ্বাসের বিপরীত প্রক্রিয়ায় অর্থাৎ নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুস দেহ থেকে বের করে দেয়।
  • ত্বক বা চর্ম (Skin) এর ভূমিকা: ত্বকে অবস্থিত ঘর্মগ্রন্থি (Sweat gland) থেকে ঘাম নিঃসৃত হয়। ঘামের মাধ্যমে জল, খনিজ লবণ (NaCl), সামান্য ইউরিয়া ও ল্যাকটিক অ্যাসিড রেচন পদার্থ হিসেবে দেহ থেকে নির্গত হয় এবং দেহের তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রিত হয়।


আশা করি Bigyanbook-এর এই প্রিমিয়াম নোটসটি তোমাদের নবম শ্রেণির জীবনবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রস্তুতিতে দারুণভাবে সাহায্য করবে। উত্তরগুলো খাতায় লিখে মুখস্থ করে নিলে পরীক্ষায় নিশ্চিন্তে ভালো রেজাল্ট করতে পারবে। পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবে না। কোনো প্রশ্ন থাকলে বা অন্য কোনো অধ্যায়ের নোটস লাগলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারো।