Bigyanbook

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান সাজেশন ২০২৭ - Premium PDF Sample Copy

Limited
Madhyamik Life Science Suggestion 2027

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান প্রিমিয়াম সাজেশন ২০২৭

তুমি কি মাধ্যমিকে ৯০% এর বেশি নম্বর নিশ্চিত করতে চাও? Bigyanbook নিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ সিলেবাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি স্পেশাল ১০টি মক টেস্ট সেটের মাস্টারপিস!

🎯 ১০০% কমন গ্যারান্টি: নতুন সিলেবাস ও প্রশ্নের ধরন অনুযায়ী তৈরি।

💡 আদর্শ উত্তরমালা: পরীক্ষায় ঠিক যেভাবে লিখলে ফুল মার্কস পাওয়া যায়।

📄 ১০টি Premium PDF: প্রশ্ন ও উত্তর একসাথেই দেওয়া আছে।

👨‍🏫 বিশেষজ্ঞদের দ্বারা তৈরি: রাজ্যের সেরা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে প্রস্তুত।

₹২৯৯ ₹৯৯ 🔥 প্রথম ১০০ জন ছাত্রছাত্রীর জন্য স্পেশাল অফার! 🔥
Premium Sample Copy
মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান সাজেশন ২০২৭
Full Syllabus Mock Test - Premium Sample Set

Presented by: Bigyanbook

সময়: ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পূর্ণমান: ৯০

(প্রথম ১৫ মিনিট শুধুমাত্র প্রশ্নপত্র পড়ার জন্য)

প্রশ্নপত্র (Question Paper)

বিভাগ - ক

১। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে তার ক্রমিক সংখ্যাসহ বাক্যটি সম্পূর্ণ করে লেখো: (১x১৫=১৫)

১.১ কোনো অবলম্বনকে জড়িয়ে ধরে কুমড়ো বা লাউ গাছের আকর্ষের (Tendril) বৃদ্ধি পাওয়াকে কী চলন বলে?
(ক) ফোটোট্রপিক (খ) জিওট্রপিক (গ) থিগমোট্রপিক (ঘ) হাইড্রোট্রপিক

১.২ থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে থাইরক্সিন ক্ষরণে সাহায্যকারী TSH হরমোন কোথা থেকে ক্ষরিত হয়?
(ক) হাইপোথ্যালামাস (খ) পিটুইটারি গ্রন্থি (গ) অগ্ন্যাশয় (ঘ) অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি

১.৩ নিউরোনের অ্যাক্সনে উপস্থিত মায়োলিন শিথ (Myelin sheath)-এর প্রধান কাজ কী?
(ক) কোশ বিভাজনে সাহায্য করা (খ) স্নায়ুস্পন্দন পরিবহনে অন্তরক (Insulator) হিসেবে কাজ করা (গ) পেশি সংকোচন করা (ঘ) হরমোন ক্ষরণ করা

১.৪ অ্যামিবা (Amoeba) নামক এককোশী প্রাণীটি কোন ধরনের কোশ বিভাজন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে?
(ক) মাইটোসিস (খ) মায়োসিস (গ) অ্যামাইটোসিস (ঘ) সাইটোকাইনেসিস

১.৫ উদ্ভিদের জোড়কলম বা গ্রাফটিং (Grafting) পদ্ধতিতে যে ডালটির ওপর অন্য ডাল জোড়া লাগানো হয় (যা মাটির সাথে যুক্ত থাকে), তাকে কী বলে?
(ক) সায়ন (Scion) (খ) স্টক (Stock) (গ) মুকুল (ঘ) বুলবিল

১.৬ পতঙ্গ দ্বারা সংঘটিত পরাগযোগ বা এন্টোমোফিলি (Entomophily) দেখা যায় কোন ফুলে?
(ক) ধান (খ) আম (গ) পাতাঝাঁজি (ঘ) শিমুল

১.৭ মেন্ডেলের একসংকর জননের টেস্ট ক্রসের (Test cross) ফিনোটাইপিক অনুপাত কত হয়?
(ক) ৩:১ (খ) ১:১ (গ) ৯:৩:৩:১ (ঘ) ১:২:১

১.৮ একজন স্বাভাবিক পুরুষ এবং একজন হিমোফিলিয়ার বাহক মহিলার বিবাহ হলে, তাদের পুত্রসন্তানদের হিমোফিলিয়ার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কত শতাংশ?
(ক) ০% (খ) ২৫% (গ) ৫০% (ঘ) ১০০%

১.৯ মানবদেহে লোহার (Iron) অস্বাভাবিক সঞ্চয়ের ফলে যকৃৎ ও প্লীহা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিচের কোন রোগের প্রধান উপসর্গ?
(ক) থ্যালাসেমিয়া (খ) বর্ণান্ধতা (গ) হিমোফিলিয়া (ঘ) ম্যালেরিয়া

১.১০ "অরিজিন অব স্পিসিস বাই মিনস অব ন্যাচারাল সিলেকশন" (Origin of Species) নামক বিখ্যাত গ্রন্থের রচয়িতা কে?
(ক) জঁ ব্যাপটিস্ট ল্যামার্ক (খ) চার্লস ডারউইন (গ) হিউগো দ্য ভ্রিস (ঘ) স্ট্যানলে মিলার

১.১১ আর্কিওপটেরিক্স (Archaeopteryx) নামক জীবাশ্মটি বিবর্তনের কোন ধারণাকে প্রমাণ করে?
(ক) মিসিং লিংক বা হারানো সূত্র (খ) জীবন্ত জীবাশ্ম (গ) সমবৃত্তীয় অঙ্গ (ঘ) নিষ্ক্রিয় অঙ্গ

১.১২ সুন্দরবনের সুন্দরী গাছের পাতায় অবস্থিত লবণ গ্রন্থির (Salt gland) প্রধান কাজ কী?
(ক) সালোকসংশ্লেষ বৃদ্ধি করা (খ) বাষ্পমোচন রোধ করা (গ) অতিরিক্ত লবণ দেহ থেকে নির্গত করা (ঘ) শোষণে সাহায্য করা

১.১৩ মৃত জীবদেহ বিশ্লিষ্ট হয়ে অ্যামোনিয়া উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে (Ammonification) সাহায্যকারী একটি ব্যাকটেরিয়া হলো—
(ক) নাইট্রোসোমোনাস (খ) সিউডোমোনাস (গ) রাইজোবিয়াম (ঘ) ব্যাসিলাস মাইকয়ডিস

১.১৪ প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস কার্বন ডাইঅক্সাইডের (CO2) পর বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী দ্বিতীয় প্রধান গ্যাসটি হলো—
(ক) মিথেন (CH4) (খ) নাইট্রোজেন (N2) (গ) অক্সিজেন (O2) (ঘ) সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2)

১.১৫ ভারতের প্রথম জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট (JFM) কোথায় শুরু হয়েছিল?
(ক) নীলগিরি (খ) আরাবাড়ি অরণ্য (পশ্চিম মেদিনীপুর) (গ) সাইলেন্ট ভ্যালি (ঘ) সুন্দরবন


বিভাগ - খ

২। নিচের ২৬টি প্রশ্ন থেকে নির্দেশ অনুসারে ২১টি প্রশ্নের উত্তর লেখো: (১x২১=২১)

নিচের বাক্যগুলির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও (যে কোনো পাঁচটি): (১x৫=৫)

২.১ নিউরোনের কোশদেহে অবস্থিত এবং RNA যুক্ত দানাদার অংশকে _________ দানা বলে।
২.২ উদ্ভিদ কোশের সাইটোকাইনেসিস সম্পন্ন হয় _________ গঠনের মাধ্যমে।
২.৩ সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট বিন্দু বা লোকাসে অবস্থিত একই জিনের বিকল্প রূপগুলিকে _________ বলে।
২.৪ আদি পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তির আগে সৃষ্ট দ্বিস্তরীয় প্রোটিন কণা হলো _________।
২.৫ বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত ক্ষতিকারক অতিবেগুনি (UV) রশ্মিকে শোষণ করে নেয় পৃথিবীর _________ স্তর।
২.৬ এক্স-সিটু সংরক্ষণের একটি আধুনিক পদ্ধতি হলো _________ সংরক্ষণ (Cryopreservation)।

নিচের বাক্যগুলি সত্য অথবা মিথ্যা নিরূপণ করো (যে কোনো পাঁচটি): (১x৫=৫)

২.৭ ইনসুলিন হরমোন রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
২.৮ মায়োসিস কোশ বিভাজনকে হ্রাস বিভাজন (Reduction division) বলা হয়।
২.৯ মেন্ডেলের একসংকর জননের পরীক্ষায় F2 জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত হলো 3:1।
২.১০ ঘোড়ার বিবর্তনে আদিমতম পূর্বপুরুষ হলো ইওহিপ্পাস (Eohippus)।
২.১১ কারখানার ধোঁয়ায় থাকা SO2 এবং NO2 গ্যাস অম্লবৃষ্টি বা অ্যাসিড বৃষ্টি ঘটায়।
২.১২ কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান মূলত রেড পান্ডা সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত।

A-স্তম্ভের সঙ্গে B-স্তম্ভের সম্পর্ক স্থাপন করে লেখো (যে কোনো পাঁচটি): (১x৫=৫)

A - স্তম্ভ B - স্তম্ভ
২.১৩ সাইটোকাইনিন (ক) পরাগরেণু, শুক্রাণু সংরক্ষণ
২.১৪ S দশা (খ) অসম্পূর্ণ প্রকটতা
২.১৫ সন্ধ্যামালতী ফুল (গ) পত্রমোচন বিলম্বিত করে
২.১৬ সমসংস্থ অঙ্গ (ঘ) DNA-এর প্রতিলিপিকরণ
২.১৭ ব্রঙ্কাইটিস (ঙ) ফুসফুসের রোগ (বায়ুদূষণ)
২.১৮ ক্রায়োসংরক্ষণ (চ) অপসারী বিবর্তন

একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাও (যে কোনো ছটি): (১x৬=৬)

২.১৯ বিসদৃশ শব্দটি বেছে লেখো: গুরুমস্তিষ্ক, হাইপোথ্যালামাস, থ্যালামাস, সুষুম্নাশীর্ষক।
২.২০ মানুষের চোখে লেন্সের প্রধান কাজ কী?
২.২১ সম্পর্ক বুঝে শূন্যস্থান পূরণ করো: মাইটোসিস : দেহ মাতৃকোশ :: মায়োসিস : _________।
২.২২ বিশুদ্ধ লম্বা মটর গাছের (Pure tall pea plant) জিনোটাইপ কী হবে?
২.২৩ মানুষের পৌষ্টিকতন্ত্রে অবস্থিত একটি নিষ্ক্রিয় বা ভেস্টিজিয়াল অঙ্গের নাম লেখো।
২.২৪ নাইট্রোজেন চক্রের কোন ধাপে সিউডোমোনাস (Pseudomonas) ব্যাকটেরিয়া অংশগ্রহণ করে?
২.২৫ নিচের চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটি একটি বিষয়ের অন্তর্গত, সেটি খুঁজে বার করো: বিশ্ব উষ্ণায়ন, গ্রিনহাউস প্রভাব, CO2, CH4
২.২৬ শব্দদূষণ পরিমাপের এককটির নাম কী?


বিভাগ - গ

৩। নিচের ১৭টি প্রশ্ন থেকে যে কোনো ১২টি প্রশ্নের উত্তর ২-৩টি বাক্যে লেখো: (২x১২=২৪)

৩.১ ট্রপিক চলন এবং ন্যাস্টিক চলনের মধ্যে দুটি মূল পার্থক্য লেখো。
৩.২ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি (Endocrine) এবং বহিঃক্ষরা গ্রন্থির (Exocrine) মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো。
৩.৩ উপযোজন (Accommodation) কাকে বলে?
৩.৪ DNA এবং RNA-এর মধ্যে দুটি গঠনগত পার্থক্য লেখো。
৩.৫ মাইক্রোপ্রোপাগেশন (Micropropagation) বা অণুবিস্তারণ বলতে কী বোঝো?
৩.৬ অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোমের প্রধান কাজগুলি উল্লেখ করো。
৩.৭ টেস্ট ক্রস (Test cross) কাকে বলে? এর গুরুত্ব কী?
৩.৮ থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) রোগের দুটি প্রধান লক্ষণ বা উপসর্গ লেখো。
৩.৯ ল্যামার্কের 'অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র'টি সংক্ষেপে লেখো。
৩.১০ সমবৃত্তীয় অঙ্গ (Analogous organ) কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও。
৩.১১ মরুভূমির শুষ্ক পরিবেশে জলের অপচয় রোধ করার জন্য উটের দেহে কী কী অভিযোজন দেখা যায়? (দুটি পয়েন্ট)।
৩.১২ নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ (Nitrogen fixation) কাকে বলে? একটি মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়ার নাম লেখো。
৩.১৩ ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) বলতে কী বোঝো?
৩.১৪ অম্লবৃষ্টি বা অ্যাসিড বৃষ্টির দুটি ক্ষতিকারক প্রভাব উল্লেখ করো。
৩.১৫ কোনো একটি অঞ্চলকে জীববৈচিত্র্য হটস্পট (Biodiversity Hotspot) হিসেবে ঘোষণা করার দুটি প্রধান শর্ত কী কী?
৩.১৬ ইন-সিটু (In-situ) এবং এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
৩.১৭ জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট বা JFM-এর প্রধান দুটি উদ্দেশ্য লেখো。


বিভাগ - ঘ

৪। নিচের ৬টি প্রশ্ন বা তার বিকল্প প্রশ্নের উত্তর লেখো: (৫x৬=৩০)

৪.১ একটি সরল প্রতিবর্ত চাপের (Reflex arc) পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো: (ক) গ্রাহক বা রিসেপ্টর (খ) সংজ্ঞাবহ স্নায়ু (গ) স্নায়ুকেন্দ্র (ঘ) চেষ্টীয় স্নায়ু বা মোটর স্নায়ু। (৩+২=৫)
অথবা,
একটি আদর্শ নিউরোনের (Neuron) পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো: (ক) ডেনড্রন (খ) অ্যাক্সন (গ) মায়োলিন শিথ (ঘ) সোয়ান কোশ। (৩+২=৫)

৪.২ কোশচক্র (Cell cycle) কাকে বলে? একটি আদর্শ কোশচক্রের দশাগুলি (G1, S, G2 এবং M দশা) সংক্ষেপে বর্ণনা করো। (১+৪=৫)
অথবা,
সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন বা দ্বিনিষেক (Double fertilization) পদ্ধতিটি পর্যায়ক্রমে সংক্ষেপে আলোচনা করো। পরাগযোগের একটি সুবিধা লেখো। (৪+১=৫)

৪.৩ মটর গাছের ক্ষেত্রে একটি দ্বিসংকর জনন পরীক্ষা (হলুদ-গোল এবং সবুজ-কুঞ্চিত বীজযুক্ত) চেকার বোর্ডের সাহায্যে F2 জনু পর্যন্ত দেখাও এবং ফিনোটাইপ অনুপাতটি লেখো। (৪+১=৫)
অথবা,
বর্ণান্ধতা (Color blindness) রোগের কারণ কী? একজন স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন কিন্তু বর্ণান্ধতার বাহক মহিলার (Carrier) সাথে একজন স্বাভাবিক পুরুষের বিবাহ হলে, তাদের সন্তানদের বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কতটা তা একটি ক্রসের সাহায্যে বিশ্লেষণ করো। (২+৩=৫)

৪.৪ ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়গুলি (অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি, অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম, প্রকরণ এবং যোগ্যতমের উদ্বর্তন) বিস্তারিত আলোচনা করো। (৫)
অথবা,
লবণাক্ত মাটিতে শ্বাসকার্যের জন্য সুন্দরী গাছের মূলের কী কী অভিযোজন দেখা যায়? ক্যাকটাসের পাতা কীভাবে কাঁটায় রূপান্তরিত হয়েছে এবং এর কারণ কী? (৩+২=৫)

৪.৫ পরিবেশে নাইট্রোজেন চক্রের (Nitrogen cycle) প্রধান পর্যায়গুলি (নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ, অ্যামিনিফিকেশন, নাইট্রিফিকেশন ও ডিনাইট্রিফিকেশন) জীবাণুর ভূমিকাসহ সংক্ষেপে বর্ণনা করো। (৫)
অথবা,
বায়ুদূষণের (Air pollution) প্রধান তিনটি কারণ আলোচনা করো। মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের ক্ষতিকারক প্রভাবগুলি (যেমন- ফুসফুসের রোগ) বর্ণনা করো। (৩+২=৫)

৪.৬ জীববৈচিত্র্য হ্রাসের বা অবলুপ্তির প্রধান তিনটি কারণ উপযুক্ত উদাহরণসহ আলোচনা করো। (৫)
অথবা,
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণের ভূমিকা বিস্তারিত আলোচনা করো (চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং ক্রায়োসংরক্ষণ-এর উদাহরণসহ)। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে PBR-এর গুরুত্ব কী? (৩+২=৫)

পূর্ণাঙ্গ উত্তরমালা (Answer Key)

(মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতকৃত আদর্শ উত্তর)

বিভাগ - ক

১.১ (খ) কেমোট্যাকটিক
১.২ (ক) জিব্বেরেলিন
১.৩ (গ) কর্পাস ক্যালোসাম
১.৪ (খ) সাইন্যাপসিস
১.৫ (গ) রসালো মূল
১.৬ (খ) ম্যালাকোফিলি
১.৭ (গ) ৩:১
১.৮ (খ) ডিউটেরানোপিয়া
১.৯ (খ) Y ক্রোমোজোম
১.১০ (ঘ) সরীসৃপ ও পক্ষী
১.১১ (গ) পাতায়
১.১২ (ক) অ্যাসপিলিয়া (Aspilia)
১.১৩ (খ) ক্লস্ট্রিডিয়াম
১.১৪ (গ) মিথেন (CH4)
১.১৫ (খ) রেড পান্ডা

বিভাগ - খ

শূন্যস্থান পূরণ:
২.১ নিসল (Nissl) দানা।
২.২ কোশপাত বা সেল প্লেট।
২.৩ অ্যালিল (Allele)।
২.৪ কোয়াসারভেট (Coacervate)।
২.৫ ওজোন (O3)।
২.৬ ক্রায়োসংরক্ষণ (Cryopreservation)।

সত্য/মিথ্যা:
২.৭ মিথ্যা (ইনসুলিন রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়)।
২.৮ সত্য।
২.৯ সত্য।
২.১০ সত্য।
২.১১ সত্য।
২.১২ মিথ্যা (এটি গন্ডার সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত)।

A ও B স্তম্ভ মেলানো:
২.১৩ সাইটোকাইনিন — (গ) পত্রমোচন বিলম্বিত করে
২.১৪ S দশা — (ঘ) DNA-এর প্রতিলিপিকরণ
২.১৫ সন্ধ্যামালতী ফুল — (খ) অসম্পূর্ণ প্রকটতা
২.১৬ সমসংস্থ অঙ্গ — (চ) অপসারী বিবর্তন
২.১৭ ব্রঙ্কাইটিস — (ঙ) ফুসফুসের রোগ (বায়ুদূষণ)
২.১৮ ক্রায়োসংরক্ষণ — (ক) পরাগরেণু, শুক্রাণু সংরক্ষণ

একটি শব্দে/বাক্যে উত্তর:
২.১৯ সুষুম্নাশীর্ষক (এটি পশ্চাৎ মস্তিষ্কের অংশ, বাকিগুলি অগ্রমস্তিষ্কের অংশ)।
২.২০ আলোর প্রতিসরণ ঘটিয়ে রেটিনায় বস্তুর সঠিক প্রতিবিম্ব গঠনে সাহায্য করা (উপযোজন)।
২.২১ জনন মাতৃকোশ (বা রেণু মাতৃকোশ)।
২.২২ TT।
২.২৩ অ্যাপেনডিক্স (Appendix)।
২.২৪ ডিনাইট্রিফিকেশন (মাটির নাইট্রেটকে গ্যাসীয় নাইট্রোজেনে পরিণত করে)।
২.২৫ গ্রিনহাউস প্রভাব (বাকি তিনটি গ্রিনহাউস প্রভাবের কারণ বা গ্যাস)।
২.২৬ ডেসিবল (dB)।

বিভাগ - গ (প্রতিটি প্রশ্নের মান - ২)

৩.১ ট্রপিক ও ন্যাস্টিক চলনের পার্থক্য:
১. ট্রপিক চলন উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, কিন্তু ন্যাস্টিক চলন উদ্দীপকের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
২. ট্রপিক চলন হরমোন (অক্সিন) দ্বারা প্রভাবিত হয়, কিন্তু ন্যাস্টিক চলন হরমোন দ্বারা প্রভাবিত হয় না।

৩.২ অন্তঃক্ষরা ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থির পার্থক্য:
১. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কোনো নালী থাকে না (অনাল গ্রন্থি) এবং এর ক্ষরণ সরাসরি রক্তে মেশে। বহিঃক্ষরা গ্রন্থির নালী থাকে (সোনাল গ্রন্থি) এবং এর ক্ষরণ নালীর মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছায়।
২. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে হরমোন ক্ষরিত হয়, অন্যদিকে বহিঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে ঘাম, লালা, পরিপাক উৎসেচক ইত্যাদি ক্ষরিত হয়।

৩.৩ উপযোজন (Accommodation):
স্থান পরিবর্তন না করে চোখের সিলিয়ারি পেশি এবং সাসপেন্সরি লিগামেন্টের সাহায্যে চোখের লেন্সের বক্রতা বা ফোকাস দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন ঘটিয়ে দূর বা নিকটের বস্তুকে রেটিনায় স্পষ্টভাবে দেখার ক্ষমতাকে উপযোজন বলে।

৩.৪ DNA ও RNA-এর গঠনগত পার্থক্য:
১. DNA-তে ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা থাকে এবং এটি সাধারণত দ্বিতন্ত্রী। RNA-তে রাইবোজ শর্করা থাকে এবং এটি সাধারণত একতন্ত্রী।
২. DNA-তে নাইট্রোজেন বেস হিসেবে থাইমিন (T) থাকে, কিন্তু RNA-তে থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল (U) থাকে।

৩.৫ মাইক্রোপ্রোপাগেশন:
যে কৃত্রিম অঙ্গজ জনন পদ্ধতিতে উদ্ভিদের কোনো সজীব কোশ, কলা বা মুকুলকে (এক্সপ্লান্ট) ল্যাবরেটরিতে উপযুক্ত পুষ্টিমাধ্যমে কালচার করে খুব অল্প সময়ে অসংখ্য রোগমুক্ত ছোট চারাগাছ (প্লান্টলেট) তৈরি করা হয়, তাকে মাইক্রোপ্রোপাগেশন বা অণুবিস্তারণ বলে।

৩.৬ অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোমের কাজ:
অটোজোমের কাজ: জীবের সাধারণ দৈহিক বৈশিষ্ট্য (যেমন- চোখের রং, উচ্চতা) নির্ধারণ করা।
সেক্স ক্রোমোজোমের কাজ: জীবের লিঙ্গ (স্ত্রী বা পুরুষ) নির্ধারণ করা।

৩.৭ টেস্ট ক্রস ও এর গুরুত্ব:
F1 জনুতে উৎপন্ন সংকর জীবের জিনোটাইপ জানার জন্য তার সাথে প্রচ্ছন্ন হোমোজাইগাস জনিতৃর যে সংকরায়ণ ঘটানো হয়, তাকে টেস্ট ক্রস বলে।
গুরুত্ব: এর মাধ্যমে কোনো ফিনোটাইপিক ভাবে প্রকট জীবটি বিশুদ্ধ (হোমোজাইগাস) নাকি সংকর (হেটারোজাইগাস) তা সহজেই নির্ণয় করা যায়।

৩.৮ থ্যালাসেমিয়ার দুটি লক্ষণ:
১. লোহিত রক্তকণিকা দ্রুত ভেঙে যাওয়ার ফলে দেহে তীব্র রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয়।
২. বারবার রক্ত নেওয়ার ফলে দেহে অতিরিক্ত লোহা (Iron) সঞ্চিত হয়ে যকৃৎ, প্লীহা ও হৃৎপিণ্ডের মারাত্মক ক্ষতি করে।

৩.৯ ল্যামার্কের 'ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র':
পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য জীবদেহের যে অঙ্গগুলি প্রতিনিয়ত বেশি ব্যবহৃত হয়, সেগুলি ক্রমশ সুগঠিত ও শক্তিশালী হয়। অন্যদিকে, যে অঙ্গগুলি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয় না, সেগুলি ক্রমশ দুর্বল ও নিষ্ক্রিয় অঙ্গে পরিণত হয় এবং একসময় অবলুপ্ত হয়ে যায়। (যেমন- জিরাফের লম্বা গলা হলো ব্যবহারের ফল)।

৩.১০ সমবৃত্তীয় অঙ্গ (Analogous organs):
যে সব অঙ্গের উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন (অস্থিবিন্যাস) সম্পূর্ণ আলাদা, কিন্তু একই পরিবেশে অভিযোজিত হওয়ার কারণে তাদের বাহ্যিক গঠন ও কাজ একই রকম হয়, তাদের সমবৃত্তীয় অঙ্গ বলে। উদাহরণ: পাখির ডানা এবং পতঙ্গের ডানা (উভয়ের কাজ ওড়া)।

৩.১১ উটের দেহে জলের অভাব সহনশীল অভিযোজন:
১. উটের লোহিত রক্তকণিকা (RBC) ডিম্বাকার হওয়ায় মাত্রাতিরিক্ত জল বেরিয়ে গিয়ে রক্ত ঘন হয়ে গেলেও এটি সহজে রক্তনালীর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে পারে।
২. উট ঘর্মগ্রন্থিবিহীন হওয়ায় এবং নিশ্বাসের সাথে জলীয় বাষ্প বের হতে না দেওয়ায় দেহের জল অপচয় রোধ হয়। এরা অর্ধকঠিন মূত্র ত্যাগ করে।

৩.১২ নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ:
যে প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলের মুক্ত নাইট্রোজেন গ্যাস প্রাকৃতিক বা জীবজ উপায়ে মাটিতে নাইট্রোজেনঘটিত যৌগের (যেমন- নাইট্রেট লবণ) রূপে আবদ্ধ হয়, তাকে নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ বা ফিক্সেশন বলে।
মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া: রাইজোবিয়াম (Rhizobium)।

৩.১৩ ইউট্রোফিকেশন:
জলাশয়ে কৃষিজমির ফসফেট বা নাইট্রেট যুক্ত সার এবং ডিটারজেন্ট মিশলে জলের পুষ্টিমাত্রা অত্যাধিক বৃদ্ধি পায়। এর ফলে জলাশয়ে শৈবালের ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটে (অ্যালগাল ব্লুম) এবং জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের (BOD) ঘাটতি দেখা যায়, যার ফলে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যায়। এই ঘটনাকে ইউট্রোফিকেশন বলে।

৩.১৪ অম্লবৃষ্টির ক্ষতিকারক প্রভাব:
১. মাটির ক্ষতি: অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পায় এবং উর্বরতা নষ্ট হয়। উপকারী অণুজীব মারা যায়।
২. স্থাপত্যের ক্ষতি: এটি মার্বেল পাথর (CaCO3) দিয়ে তৈরি ভাস্কর্য ও স্মৃতিসৌধের (যেমন- তাজমহল) সাথে বিক্রিয়া করে পাথরের উজ্জ্বলতা নষ্ট করে ও ক্ষয় ঘটায়, যাকে স্টোন ক্যানসার বলে।

৩.১৫ হটস্পট নির্ধারণের শর্ত:
১. ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে এন্ডেমিক (Endemic) বা স্থানীয় প্রজাতির উপস্থিতি থাকতে হবে, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।
২. মানুষের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের কারণে ওই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য চরম বিপন্ন অবস্থায় থাকতে হবে (নিজস্ব বাসস্থানের অন্তত ৭০% নষ্ট হতে হবে)।

৩.১৬ ইন-সিটু ও এক্স-সিটু সংরক্ষণের পার্থক্য:
ইন-সিটু সংরক্ষণ হলো কোনো বিপন্ন প্রজাতিকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানের বা জঙ্গলের মধ্যেই সুরক্ষা প্রদান করে সংরক্ষণ করা (যেমন- জাতীয় উদ্যান)। এক্স-সিটু সংরক্ষণ হলো প্রজাতিটিকে তার প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে সরিয়ে কৃত্রিম ও সুরক্ষিত পরিবেশে সংরক্ষণ করা (যেমন- চিড়িয়াখানা, সিড ব্যাংক)।

৩.১৭ JFM-এর উদ্দেশ্য:
১. বনদপ্তর এবং স্থানীয় মানুষের যৌথ উদ্যোগে অবক্ষয়িত বনভূমিকে রক্ষা করা এবং চোরাই কাঠ কাটা বা চোরাশিকার বন্ধ করা।
২. বনের গৌণ সম্পদ (যেমন- মধু, মোম, ভেষজ উদ্ভিদ) স্থানীয়দের ব্যবহারের অধিকার দিয়ে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করা।

বিভাগ - ঘ (রচনাধর্মী উত্তর)

৪.১ চিত্রাঙ্কন:
(ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্যপুস্তক থেকে সরল প্রতিবর্ত চাপের অথবা একটি আদর্শ নিউরোনের পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করতে হবে। প্রশ্নে উল্লিখিত ৪টি অংশকে ডানদিকে তীরচিহ্ন দিয়ে সুন্দরভাবে চিহ্নিত করতে হবে। সঠিক চিত্রের জন্য ৩ নম্বর এবং সঠিক চিহ্নিতকরণের জন্য ২ নম্বর বরাদ্দ থাকে।)

৪.২ কোশচক্র ও তার দশাগুলি:
কোশচক্র: কোশ বিভাজনের প্রস্তুতি পর্ব (ইন্টারফেজ) এবং প্রকৃত কোশ বিভাজন দশার (এম ফেজ) পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে একত্রে কোশচক্র বলে।
কোশচক্রের দশাগুলি:
১. G1 দশা: এই দশায় কোশের আকার বৃদ্ধি পায় এবং DNA সংশ্লেষের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও উৎসেচক সংশ্লেষিত হয়।
২. S দশা: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দশা, যেখানে DNA-এর প্রতিলিপিকরণ ঘটে এবং ক্রোমোজোমের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়।
৩. G2 দশা: এই দশায় কোশ বিভাজনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলে এবং বেমতন্তু গঠনের জন্য প্রোটিন তৈরি হয়।
৪. M দশা (Mitotic Phase): এটি প্রকৃত বিভাজন দশা, যা ক্যারিওকাইনেসিস এবং সাইটোকাইনেসিস নিয়ে গঠিত।

অথবা, সপুষ্পক উদ্ভিদের দ্বিনিষেক:
পরাগযোগের পর পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডের ওপর পড়ে অঙ্কুরিত হয় এবং পরাগনালী গঠন করে। পরাগনালীর ভেতরে দুটি পুংগ্যামেট তৈরি হয়। নালীটি ডিম্বকের ভ্রূণস্থলীতে প্রবেশ করে। ভ্রূণস্থলীতে একটি ডিম্বাণু (n) এবং কেন্দ্রে একটি নির্ণীত নিউক্লিয়াস (2n) থাকে।
দ্বিনিষেক: একটি পুংগ্যামেট (n) ডিম্বাণুর (n) সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট (2n) গঠন করে, যা পরে ভ্রূণে পরিণত হয়। অপর পুংগ্যামেটটি (n) নির্ণীত নিউক্লিয়াসের (2n) সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড শস্য নিউক্লিয়াস (3n) গঠন করে। যেহেতু ভ্রূণস্থলীতে দুবার নিষেক সম্পন্ন হয়, তাই একে দ্বিনিষেক বলে।
পরাগযোগের সুবিধা: পরাগযোগের ফলে নিষেকের মাধ্যমে নতুন জিনগত বৈশিষ্ট্যযুক্ত বীজের সৃষ্টি হয়, যা বিবর্তনে সাহায্য করে।

৪.৩ মটর গাছের দ্বিসংকর জনন (চেকার বোর্ড):
বিশুদ্ধ হলুদ-গোল বীজযুক্ত মটর গাছ (YYRR) এবং বিশুদ্ধ সবুজ-কুঞ্চিত বীজযুক্ত মটর গাছের (yyrr) মধ্যে সংকরায়ণ করানো হলো।
F1 জনু: গ্যামেট YR এবং yr এর মিলনে উৎপন্ন সকল গাছ সংকর হলুদ-গোল (YyRr) হবে।
F2 জনু: F1 জনুর দুটি (YyRr) গাছের মধ্যে স্বপরাগযোগ ঘটালে ৪ প্রকার গ্যামেট তৈরি হয়— YR, Yr, yR, yr।
(এই ৪ প্রকার পুং ও স্ত্রী গ্যামেট দিয়ে ১৬ ঘরের চেকার বোর্ডটি আঁকতে হবে)
ফিনোটাইপ অনুপাত: হলুদ-গোল (৯টি) : হলুদ-কুঞ্চিত (৩টি) : সবুজ-গোল (৩টি) : সবুজ-কুঞ্চিত (১টি) = ৯ : ৩ : ৩ : ১।

অথবা, বর্ণান্ধতার কারণ ও ক্রস:
কারণ: বর্ণান্ধতা হলো X ক্রোমোজোমে অবস্থিত একটি প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত ত্রুটি। এর ফলে চোখের রেটিনায় কোন কোশগুলি ঠিকমতো গঠিত হয় না এবং মানুষ লাল ও সবুজ রঙের পার্থক্য বুঝতে পারে না।
ক্রস:
পিতা স্বাভাবিক = X+ Y
মাতা বাহক = X+ Xc
ক্রস: (X+ Y) × (X+ Xc)
সন্তানদের জিনোটাইপ ও ফিনোটাইপ:
১. X+ X+ (স্বাভাবিক কন্যা)
২. X+ Xc (বাহক কন্যা)
৩. X+ Y (স্বাভাবিক পুত্র)
৪. Xc Y (বর্ণান্ধ পুত্র)
সম্ভাবনা: সুতরাং, এদের মোট সন্তানদের মধ্যে ২৫% সন্তান বর্ণান্ধ হবে। যদি শুধু পুত্রসন্তানদের ধরা হয়, তবে তাদের মধ্যে ৫০% এর বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কন্যারা কেউই বর্ণান্ধ হবে না, তবে ২৫% বাহক হবে।

৪.৪ ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব:
১. অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি: ডারউইনের মতে প্রতিটি জীবের জ্যামিতিক হারে বংশবৃদ্ধি করার স্বাভাবিক প্রবণতা রয়েছে।
২. অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম: অত্যধিক বংশবৃদ্ধির ফলে পৃথিবীতে সীমিত খাদ্য ও বাসস্থানের জন্য জীবদের নিজেদের মধ্যে (অন্তঃপ্রজাতি) এবং অন্যান্য প্রজাতির সাথে (আন্তঃপ্রজাতি) তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হয়। একে অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম বলে।
৩. প্রকরণ বা ভেদ: ডারউইনের মতে, কোনো দুটি জীব অবিকল একরকম হয় না। তাদের মধ্যে কিছু পার্থক্য বা প্রকরণ দেখা যায়। অনুকূল প্রকরণগুলি জীবকে জীবনসংগ্রামে জয়ী হতে সাহায্য করে।
৪. যোগ্যতমের উদ্বর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন: জীবন সংগ্রামে যে সমস্ত জীবের দেহে অনুকূল প্রকরণ থাকে, তারা পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিয়ে টিকে থাকে এবং যারা মানিয়ে নিতে পারে না তারা বিলুপ্ত হয়ে যায়। প্রকৃতি এভাবেই যোগ্যতম জীবকে নির্বাচন করে, একেই প্রাকৃতিক নির্বাচন বলে।

অথবা, সুন্দরী গাছ ও ক্যাকটাসের অভিযোজন:
সুন্দরী গাছের মূল: সুন্দরবনের লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকায় সুন্দরী গাছের কিছু মূল অভিকর্ষের বিপরীতে মাটির ওপর খাড়াভাবে উঠে আসে। এদের শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর বলে। এই মূলের গায়ে অসংখ্য শ্বাসরন্ধ্র থাকে, যার সাহায্যে গাছ বাতাস থেকে সরাসরি O2 গ্রহণ করে।
ক্যাকটাসের পাতা: মরুভূমির চরম শুষ্ক পরিবেশে অতিরিক্ত বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য এবং জলের অপচয় কমানোর জন্য ক্যাকটাসের পাতা কাঁটায় (Spine) রূপান্তরিত হয়েছে। কাঁটাগুলি আত্মরক্ষার কাজও করে। কচি কাণ্ডের ওপর পুরু মোমের প্রলেপ বা কিউটিকেল থাকে, যা জল বাষ্পীভবনে বাধা দেয়।

৪.৫ নাইট্রোজেন চক্রের পর্যায়:
১. নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ: বায়ুমণ্ডলের মুক্ত N2 গ্যাসকে রাইজোবিয়াম, অ্যাজোটোব্যাক্টর প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া এবং নীলাভ-সবুজ শৈবাল সরাসরি শোষণ করে মাটিতে নাইট্রোজেনঘটিত যৌগ হিসেবে আবদ্ধ করে। এছাড়া বজ্রপাতের ফলেও N2 মাটিতে মেশে।
২. অ্যামিনিফিকেশন: মাটির ব্যাকটেরিয়া ব্যাসিলাস মাইকয়ডিস (Bacillus mycoides) মৃত জীবদেহ ও প্রাণীর নাইট্রোজেনযুক্ত রেচন পদার্থকে বিশ্লিষ্ট করে অ্যামোনিয়া (NH3) উৎপন্ন করে।
৩. নাইট্রিফিকেশন: উৎপন্ন অ্যামোনিয়াকে প্রথমে নাইট্রোসোমোনাস ব্যাকটেরিয়া জারিত করে নাইট্রাইটে (NO2-) পরিণত করে। এরপর নাইট্রোব্যাক্টর সেই নাইট্রাইটকে আরও জারিত করে নাইট্রেটে (NO3-) পরিণত করে।
৪. ডিনাইট্রিফিকেশন: মাটির নাইট্রেট লবণকে সিউডোমোনাস (Pseudomonas) ব্যাকটেরিয়া ভেঙে পুনরায় গ্যাসীয় নাইট্রোজেনে (N2) পরিণত করে এবং বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে দেয়।

অথবা, বায়ুদূষণের কারণ ও প্রভাব:
কারণ:
১. কলকারখানার ধোঁয়া: শিল্পক্ষেত্র থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস (SO2, NO2, CO) সরাসরি বাতাসে মেশে।
২. যানবাহনের ধোঁয়া: পেট্রোল ও ডিজেল চালিত যানবাহনের দহনের ফলে কার্বন মনোক্সাইড, হাইড্রোকার্বন এবং ভাসমান কণা (SPM) বাতাসে মেশে।
৩. অরণ্যচ্ছেদন ও কৃষিকাজ: গাছ কাটার ফলে বাতাসে CO2-এর মাত্রা বাড়ছে এবং কৃষিকাজে রাসায়নিক সারের ব্যবহার থেকে মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড উৎপন্ন হচ্ছে।
মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব:
১. শ্বাসযন্ত্রের রোগ: বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা বা SPM ফুসফুসে প্রবেশ করে হাঁপানি (Asthma), ব্রঙ্কাইটিস এবং এমফাইসেমা সৃষ্টি করে।
২. ক্যানসার: কারখানার ধোঁয়ায় থাকা বিষাক্ত রাসায়নিক এবং অ্যাসবেস্টস ধূলিকণার প্রভাবে ফুসফুসের ক্যানসার বা লাং ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

৪.৬ জীববৈচিত্র্য হ্রাসের কারণ:
১. বাসস্থান ধ্বংস ও খণ্ডীভবন: মানুষের বসতি স্থাপন, কৃষিকাজ এবং রাস্তাঘাট তৈরি করার জন্য বনজঙ্গল নির্বিচারে কাটা হচ্ছে। এর ফলে বন্যপ্রাণীদের প্রাকৃতিক বাসস্থান নষ্ট হচ্ছে এবং খাদ্যের অভাবে প্রজাতিগুলি অবলুপ্ত হচ্ছে। উদাহরণ: জঙ্গল কাটার ফলে হাতি ও বাঘের বাসস্থানের অভাব।
২. চোরাশিকার (Poaching): আন্তর্জাতিক বাজারে দামি চামড়া, শিং, দাঁত বা পশমের লোভে অসাধু মানুষেরা বন্যপ্রাণীদের অবাধে হত্যা করছে। উদাহরণ: শিঙের জন্য গন্ডার এবং দাঁতের জন্য হাতির নির্মম শিকার।
৩. দূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়ন: পরিবেশে রাসায়নিক দূষণ জল ও মাটিকে বিষাক্ত করছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংবেদনশীল প্রজাতিগুলি বিপন্ন হচ্ছে। উদাহরণ: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মেরুভল্লুক ও প্রবাল প্রাচীর বিপন্ন।

অথবা, এক্স-সিটু সংরক্ষণ ও PBR:
এক্স-সিটু সংরক্ষণের ভূমিকা:
১. চিড়িয়াখানা: বিপন্ন প্রাণীদের (যেমন- বাঘ, সিংহ) জঙ্গল থেকে এনে সুরক্ষিত পরিবেশে চিকিৎসকের নজরদারিতে কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা হয়।
২. বোটানিক্যাল গার্ডেন: দুর্লভ উদ্ভিদ প্রজাতিগুলিকে সংরক্ষণ করে তাদের ওপর বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালানো হয়।
৩. ক্রায়োসংরক্ষণ: তরল নাইট্রোজেনে (-১৯৬°C) বিপন্ন উদ্ভিদের বীজ, পরাগরেণু বা প্রাণীর শুক্রাণু-ডিম্বাণু দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে তাদের প্রজননের কাজে ব্যবহার করা যায়।
PBR-এর গুরুত্ব:
PBR (People's Biodiversity Register) হলো একটি সরকারি নথি, যেখানে স্থানীয় স্তরের সমস্ত উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের প্রজাতি, তাদের ব্যবহার এবং সংরক্ষণের বিষয়ে স্থানীয় মানুষের জ্ঞান লিপিবদ্ধ থাকে। এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করতে এবং বিদেশি কোম্পানিগুলি যাতে বিনা অনুমতিতে দেশীয় সম্পদ চুরি (বায়োপাইরেসি) করতে না পারে, তা আটকাতে সাহায্য করে।

Post a Comment (0)
⚠️
AdBlocker Detected
We noticed that you are using an AdBlocker.

Our website is free to use, but we need ads to cover our server costs. Please disable your AdBlocker and reload the page to continue reading.

My Favorites

Post Saved to Favorite list!